ইন্দিরা গান্ধী শানিত পুরুস্কার পাওয়ায়- জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছে, হল্যান্ড আওয়ামী লীগ
ভিওবিডি, হল্যান্ড থেকে হল্যান্ড আওয়ামী লীগের এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জানান যে, গত ১২ই জানুয়ারী ২০১০, ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে, ভারতের প্রধানমনত্রী ড. মনমোহন সিং সহ বিশিষ্ট অতিথিদের উপসিহতিতে এক জাঁকজকমপূর্ণ অনুষ্ঠান ও চমৎকার পরিবেশে, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল হইতে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমনত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা ইন্দিরা গান্ধী শানিত পুরসকার গ্রহন করেন। ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাষ্ট মনোনীত, মর্যাদাপুর্ণ ‘ইন্দিরা গান্ধী শানিত পুরুস্কাকা’র পাওয়ায় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে, হল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা।বিবৃতিতে- নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার মর্যাদাপূর্ণ এই ‘ইন্দিরা গান্ধী শানিত পুরসকা’র প্রমাণ করেছে যে, তিনি শুধু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যাই নন, তিনি হচ্ছেন, গণতনেত্রর প্রতীক, ন্যায়ের প্রতীক, শানিতর প্রতীক, মানবাধিকার সংরক্ষণের প্রতীক, আইনের সু-শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতীক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক, দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের প্রতীক ও সর্ব প্রকার সনত্রাস বিরোধী প্রতিবাদী এক কনঠস্বর এবং বিশ্বের শানিতকামি মানুষের অন্যতম অবিসংবাদিত নেতা। জননেত্রী শেখ হাসিনার শানিত পুরসকারে- হল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাঙ্গালীরা গভীর আনন্দিত ও উল্লসিত হয়েছে। এবং ভারতের সফল সফরের জন্যও মাননীয় প্রধানমনত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দিত, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে, নেতৃবৃন্দরা। গণতনেত্রর মানসকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ইন্দিরা গান্ধী শানিত পুরসকারে’ ভূষিত করায়- ইন্দিরা মেমোরিয়াল ট্রাষ্টকেও ধন্যবাদ জানিয়েছে নেতৃবৃন্দরা। বিবৃতিকারীরা হলেন ঃ হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, জনাব মাঈদ ফারুক, সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন, এমদাদ হোসেন, ইমরান হোসেন, সন্দীপ কুমার দাশ, জাকিরুল হক টিপু, আবরার হোসেন শামীম, নান্টু মৃধা, টুকু খান ও আরিফ রহমান, উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি, ডাঃ ইউসুফ আহমেদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জনাব মাসুদ চৌধুরী মজনু, মাহবুব রেজা ও অমিত কাজল, সাধারণ সম্পাদক- মোসতফা জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মুরাদ খান ও শ্যামল শীল, সাংগঠনিক সম্পাদক- জয়নাল আবেদীন, রশীদ রানা ও জসিম উদ্দিন, ইমিগ্রেশন সম্পাদক-দেওয়ান উজ্জল, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক-বিষ্ণু বিশ্বাস, জনসংযোগ সম্পাদক-ফজলুর রহমান, দফতর সম্পাদক-মাসুদ রহমান, উপ-দফতর সম্পাদক-আতিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক-মুহিন উদ্দিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক-ভূশন নাথ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক-রত্না রেজা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক-মঈন খান, যুব ও ক্রিড়া সম্পাদক-আনিসুজ্জামান কিরণ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক-ঈকরামুল পলাশ, শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক-মুজিব খান, সাংসকৃতিক সম্পাদক-নীপু দাশ, স্বাসহ ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক-রিপন, তথ্য ও গভেষণা সম্পাদক-খোরশেদ আলম মুন্না, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক-জসিম উদ্দিন, উপ-প্রচার সম্পাদক-নাসিম খান অভি, কোষাধ্যক্ষ লক্ষন সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা, মতিউর রহমান, আশরাফ হোসেন, কামাল হোসেন বাহার ও সম্রাট প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপিত।
Sunday, January 17, 2010
ইন্দিরা গান্ধী শানিত পুরুস্কার পাওয়ায়- জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছে, হল্যান্ড আওয়ামী লীগ
Monday, January 11, 2010
দিল্লিতে হাসিনা-মনমোহন সফল বৈঠক বাংলাদেশী পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে : বিদ্যুৎ আমদানি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সমঝোতা স্মারক
দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা-মনমোহন সফল বৈঠক বাংলাদেশী পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে : বিদ্যুৎ আমদানি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর : নদী খনন, রেল ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে ১শ’ কোটি ডলার দেয়ার অঙ্গীকার : ট্রানজিট দিতে সম্মত ভারত মাসুদ করিম, নয়াদিল্লি থেকে সন্ত্রাস দমনে ঢাকা ও দিল্লি একযোগে কাজ করবে- এই মর্মে দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ঐতিহ্যবাহী হায়দরাবাদ হাউসে বহু প্রতীক্ষিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকের পর সন্ত্রাস দমন তথা নিরাপত্তা সংক্রান্ত তিনটি চুক্তি সই হয়। এ তিনটি চুক্তি হল- ১. অপরাধ দমনে পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা চুক্তি, ২. সাজাপ্রাপ্ত আসামি হস্তান্তর চুক্তি এবং ৩. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমন ও মাদক পাচার প্রতিরোধ চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে বলেছেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ড কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং আশ্বাস দিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে অধিক সংখ্যক পণ্য ভারতে প্রবেশাধিকার দেয়া হবে। অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বলেছেন, বাংলাদেশ যত বেশি পণ্য ভারতের বাজারে পাঠাতে পারবে, তাকে অবশ্যই স্বাগত জানাব। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়াকে সন্ত্রাস ও দারিদ্র্যমুক্ত শান্তির আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে অমীমাংসিত সব ইস্যুতে আলোচনা হয়। বৈঠকে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং আবারও আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করবে না ভারত। সমুদ্রসীমা নির্ধারণের ইস্যু জাতিসংঘে নিয়ে যাওয়ায় বৈঠকে ভারত অস্বস্তি প্রকাশ করে ইস্যুটি সালিশ আদালত থেকে প্রত্যাহার করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির প্রস্তাব করে ভারতীয় পক্ষ। বাংলাদেশ এ বিষয়ে কিছুই বলেনি। শীর্ষ বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপকে সক্রিয় করা হবে। এদিকে, ভারত বাংলাদেশকে নদী খনন, রেল ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে একশ’ কোটি ডলার দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আজকের মধ্যে এ বিষয়টি চূড়ান্ত করার পর যৌথ ঘোষণা দেয়া হবে। অপরদিকে, দিল্লিতে একজন ভারতীয় কূটনীতিক বলেছেন, এ সফরের সময় যে ক’টি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল তার সবই হয়েছে। বিশেষ করে ট্রানজিট তথা কানেকটিভিটি ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়গুলোর জন্য চুক্তির প্রয়োজন হলে সেগুলোই হবে। এসব চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হবে দ্রুত। এখন যে বিলম্ব মনে হচ্ছে, সেটা প্রক্রিয়া সম্পাদন করার বিলম্ব। তবে তিনি এও বলেন যে, প্রক্রিয়াটা কিভাবে সম্পন্ন হবে তার বিস্তারিত যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হবে। এসব কারণেই যৌথ ঘোষণা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। বৈঠক সূত্র জানায়, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের আরও ৪৭টি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার করার অনুমতি দিয়েছে। বৈঠকে ভারতের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপুরার পালাতনা বিদ্যুৎ কেন্দে র জন্য ভারি সরঞ্জাম (ওভার ডাইমেনশনাল কনসাইনমেন্ট-ওডিসি) পাঠাতে আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে ভারত বলেছে, আশুগঞ্জ বন্দর কেবল ত্রিপুরায় বিদ্যুৎ কেন্দ নির্মাণ সরঞ্জাম নেয়ার কাজেই নয় বরং স্থায়ীভাবে ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হোক। এক্ষেত্রে ভারত আশুগঞ্জ বন্দরকে মডেল বন্দরে উন্নীত করতে সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে। কানেকটিভিটি ইস্যুতে সহযোগিতার বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে নেপাল ও ভুটানে সংযোগ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে মর্মে একমত হয়েছে দু’দেশ। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ও সংস্কৃতি বিনিময়েও সহযোগিতার বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। তবে এবারের বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টনে কোন চুক্তি সই হয়নি। খুব শিগগিরই ‘যৌথ নদী কমিশন’ (জেআরসি) বৈঠক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হবে। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোন কিছুই করা হবে না। জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নে যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় ভারত এসেছিলেন। ঢাকা ও দিল্লির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের কোন এক সময়ে যৌথ বিবৃতি দেয়া হবে। এদিকে, আজও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেবেন। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে হূদ্যতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। মঙ্গলবার একটি যৌথ ইশতেহার আসতে পারে। আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার দিল্লিতে নানা আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেছেন। সকালে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল ও কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একে একে সাক্ষাৎ করেন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী সুষমা স্বরাজ। এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ সেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও ড. মশিউর রহমান, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আহমেদ তারেক করিম, এম্বেসেডর এট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, ধীরেন্দ নাথ শম্ভু এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এমএ করিম, স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান শিকদার, পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজঘাটে গিয়ে ভারতের জাতির জনক মহাৱা গান্ধীর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে সংবর্ধনা : সোমবার সকালে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানোর মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং স্বাগত জানান। একটি অশ্বারোহী দল শেখ হাসিনাকে স্কট করে নিয়ে যায়। তারপর একটি সুসজ্জিত সামরিক দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার জানায়। প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বাংলাদেশের জনগণের শুভেচ্ছা নিয়ে ভারতে এসেছেন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত কেবল বাংলাদেশকে সহযোগিতাই করেনি, গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যই দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শত্রু। দারিদ্র্যমুক্ত দক্ষিণ এশিয়া চাই। রাষ্ট্রপতি ও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যান ১০, জনপথের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রণব, কৃষ্ণা, সুষমার সাক্ষাৎ : ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণা বেলা সোয়া ১১টায় হোটেল মৌর্য শেরাটনে প্রধানমন্ত্রীর স্যুটে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিকাল ৩টায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হোটেল স্যুটে সাক্ষাৎ করেন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। বেঠকের পর প্রণব মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এটা একটা ঐতিহাসিক সফর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করায় অভিনন্দন জানিয়েছি। প্রণব মুখার্জি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যত বেশি পণ্য শুল্কমুক্তভাবে আসবে তত বেশি পণ্যকেই স্বাগত জানাব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের উদ্বেগগুলো উপলব্ধি করতে পেরেছে। তারপর বিরোধীদলীয় নেত্রী সুষমা স্বরাজ হোটেলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সুষমা স্বরাজ পরে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা আলোচনা করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক খুবই ভালো বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাজঘাটে শ্রদ্ধা নিবেদন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজঘাটে গিয়ে ভারতের জাতির জনক মহাৱা গান্ধীর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। শোক বইয়ে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, মহাৱা গান্ধী এবং শান্তি ও অহিংসতার প্রতি তার যে বাণী তা বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষের জন্য চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। বিশেষ করে মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববাসী যখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সেই সময়ে আমরা মহাৱা গান্ধীর প্রচারিত মহৎ বাণীগুলোতে আশ্রয় খুঁজে পাই। মহান এ মানুষটির আৱার প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই।স্মৃতিবিজড়িত দিল্লির সেই বাড়িটি 
যুগান্তর ডেস্কআটপৌরে শাড়িপরা এক বঙ্গবধূর স্মৃতিময় নয়াদিল্লির পান্দারা পার্কের সেই বাড়িটি এখন কেবলই ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। জনশূন্য নির্জনতা এবং কার্যত নির্বাসিত জীবন থেকে অনেক দূরে সরে এসেছেন এক সময়কার ওই বাড়ির বাসিন্দা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে বর্ণময় রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বসে হয়তো তার মনে পড়েছে ওই বাড়িটির নানা স্মৃতির কথা। ১৯৭৫ সালে ধানমণ্ডিতে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের পর দিল্লির যে বাড়িতে প্রায় ৬ বছর কাটিয়েছেন, সেই সময়ের নানা স্মৃতি এখনও হয়তো তাকে তাড়া করে বেড়াবে, সেটাই স্বাভাবিক। শীতের কুয়াশায় আচ্ছন্ন এ বাড়িটি এখন কিছুটা অযত্নে দাঁড়িয়ে রয়েছে অর্জুন, পেয়ারা ও নারকেল গাছের আড়ালে।১৯৭৬-৮১ সাল পর্যন্ত দিল্লিতেই নির্বাসিত জীবনে ছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা, তার স্বামী এমএ ওয়াজেদ এবং দুই সন্তান সজীব ও সায়মা পুতুল একসময় এ শহরের লাজপাত নগরের ৫৬ রিং রোডে থাকতেন। পরে তারা ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে উঠেছিলেন পান্দারা পার্কের সি-ব্লকের এই বাড়িটিতে। পরে ৫৬ রিং রোডের এ বাড়ি নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যালয়ে পরিণত হয় এবং চানক্যপুরীর কূটনৈতিকপাড়ায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত দূতাবাসের কার্যালয় বেশ কিছুদিন এ বাড়িতেই ছিল।বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় সে সময় শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনা প্রথমে যুক্তরাজ্যে এবং পরে ভারতে আশ্রয় চান। বাংলাদেশে ফেরার আগ পর্যন্ত (১৯৮১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত) শেখ হাসিনা দিল্লির এ বাড়িতেই ছিলেন।

যুগান্তর ডেস্কআটপৌরে শাড়িপরা এক বঙ্গবধূর স্মৃতিময় নয়াদিল্লির পান্দারা পার্কের সেই বাড়িটি এখন কেবলই ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। জনশূন্য নির্জনতা এবং কার্যত নির্বাসিত জীবন থেকে অনেক দূরে সরে এসেছেন এক সময়কার ওই বাড়ির বাসিন্দা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে বর্ণময় রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বসে হয়তো তার মনে পড়েছে ওই বাড়িটির নানা স্মৃতির কথা। ১৯৭৫ সালে ধানমণ্ডিতে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের পর দিল্লির যে বাড়িতে প্রায় ৬ বছর কাটিয়েছেন, সেই সময়ের নানা স্মৃতি এখনও হয়তো তাকে তাড়া করে বেড়াবে, সেটাই স্বাভাবিক। শীতের কুয়াশায় আচ্ছন্ন এ বাড়িটি এখন কিছুটা অযত্নে দাঁড়িয়ে রয়েছে অর্জুন, পেয়ারা ও নারকেল গাছের আড়ালে।১৯৭৬-৮১ সাল পর্যন্ত দিল্লিতেই নির্বাসিত জীবনে ছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা, তার স্বামী এমএ ওয়াজেদ এবং দুই সন্তান সজীব ও সায়মা পুতুল একসময় এ শহরের লাজপাত নগরের ৫৬ রিং রোডে থাকতেন। পরে তারা ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে উঠেছিলেন পান্দারা পার্কের সি-ব্লকের এই বাড়িটিতে। পরে ৫৬ রিং রোডের এ বাড়ি নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যালয়ে পরিণত হয় এবং চানক্যপুরীর কূটনৈতিকপাড়ায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত দূতাবাসের কার্যালয় বেশ কিছুদিন এ বাড়িতেই ছিল।বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় সে সময় শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনা প্রথমে যুক্তরাজ্যে এবং পরে ভারতে আশ্রয় চান। বাংলাদেশে ফেরার আগ পর্যন্ত (১৯৮১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত) শেখ হাসিনা দিল্লির এ বাড়িতেই ছিলেন।
Sunday, January 10, 2010
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
আজ ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানী সামরিক জান্তার আক্রোশের শিকার হয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন দীর্ঘ ১০ মাস কারাবাস শেষে ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার পাকিসৱানী বাহিনী তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাঙালি নিধনের নীলনকশা বাসৱবায়নের জন্য ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরম্ন করে। ঐ রাতেই বর্বর পাকবাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়, শুরু করে গণহত্যা। খড়গ নেমে আসে বঙ্গবন্ধুর ওপর। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। তার আগেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেন। পাকিস্তানীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসা থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। পরে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তাকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার। এই সরকারের নেতৃত্বেই চলে মহান মুক্তিযুদ্ধ। দেশে যখন যুদ্ধ চলছে ঠিক তখন পাকিসৱানে বঙ্গবন্ধুর বিরম্নদ্ধে পাতানো বিচার শুরম্ন হয়। তার ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। কারাগারের যে সেলে বঙ্গবন্ধুকে রাখা হয়েছিল, সেই সেলের পাশে কবরও খোঁড়া হয়। কিন' বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠা প্রবল জনমতের চাপে পাকিসৱান সরকার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করতে সাহস পায়নি।
দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে বহু ত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতা লাভের পর নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে। আনৱর্জাতিক চাপের মুখে পাকিসৱান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১০ জানুয়ারি বিজয়ীর বেশে স্বদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু ।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পৰ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি মোঃ জিলস্নুর রহমান এক বাণীতে বলেছেন, মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী অনন্যসাধারণ নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স'পতি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান পাকিসৱানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ঐতিহাসিক ১০ই জানুয়ারি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। তাঁকে ফিরে পেয়ে বাংলাদেশের সর্বসৱরের জনগণ আনন্দ, উ"ছ্বাস ও আবেগে আপস্নুত হয়ে পড়ে। জীবনমৃত্যুর কঠিন চ্যালেঞ্জের ভয়ংকর অধ্যায় পার হয়ে সারাজীবনের স্বপ্ন, সাধনা ও নেতৃত্বের ফসল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে মহান নেতার প্রত্যাবর্তন, সকল সৱরের জনগণকেই সীমাহীন আনন্দে উদ্বেলিত করে। ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে ততকালীন রেসকোর্স ময়দানে বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতা আবেগআপস্নুত কণ্ঠে বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ মুক্ত, স্বাধীন। একজন বাঙালি বেঁচে থাকতেও এই স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেব না’।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা যতদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত থাকবো, ততদিন আমাদের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব অটুট থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দীর্ঘ সাড়ে নয় মাস পাকিসৱানের কারাগারে বন্দীজীবন শেষে এদিন জাতির জনক প্রত্যাবর্তন করেছিলেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। তাঁর নেতৃত্বে জাতি নতুন প্রত্যয় নিয়ে শুরম্ন করে যুদ্ধবিধ্বসৱ দেশ গড়ার সংগ্রাম। বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রে সপরিবারে নিহত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বন্দুকের জোরে ৰমতা দখলকারীরা হত্যা করে গণতন্ত্র, রম্নদ্ধ করে প্রগতি ও উন্নয়নের ধারা। আইন করে বন্ধ করে দেয় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ। সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে আজ আবারও শুরম্ন হয়েছে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যা"েছ দিনবদলের স্বপ্নকে সামনে নিয়ে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলৰে আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৭টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৭টায় জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন এবং বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আনৱর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনাসভা। আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংগঠনের সকল শাখাকে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনের আহবান জানিয়েছেন।
টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচি
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে থাকবেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স'ানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারম্নক খান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি প্রমুখ। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপেস্নক্সের পাবলিক পস্নাজায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনাসভায় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। বাদ জোহর সমাধিসৌধ কমপেক্স মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
যুবলীগ
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে যুবলীগ গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। এক বিবৃতিতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ ওমর ফারম্নক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম সকল নেতা-কর্মীকে গৃহীত কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহবান
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার পাকিসৱানী বাহিনী তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাঙালি নিধনের নীলনকশা বাসৱবায়নের জন্য ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরম্ন করে। ঐ রাতেই বর্বর পাকবাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়, শুরু করে গণহত্যা। খড়গ নেমে আসে বঙ্গবন্ধুর ওপর। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। তার আগেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেন। পাকিস্তানীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসা থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। পরে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তাকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার। এই সরকারের নেতৃত্বেই চলে মহান মুক্তিযুদ্ধ। দেশে যখন যুদ্ধ চলছে ঠিক তখন পাকিসৱানে বঙ্গবন্ধুর বিরম্নদ্ধে পাতানো বিচার শুরম্ন হয়। তার ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। কারাগারের যে সেলে বঙ্গবন্ধুকে রাখা হয়েছিল, সেই সেলের পাশে কবরও খোঁড়া হয়। কিন' বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠা প্রবল জনমতের চাপে পাকিসৱান সরকার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করতে সাহস পায়নি।
দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে বহু ত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতা লাভের পর নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে। আনৱর্জাতিক চাপের মুখে পাকিসৱান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১০ জানুয়ারি বিজয়ীর বেশে স্বদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু ।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পৰ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি মোঃ জিলস্নুর রহমান এক বাণীতে বলেছেন, মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী অনন্যসাধারণ নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স'পতি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান পাকিসৱানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ঐতিহাসিক ১০ই জানুয়ারি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। তাঁকে ফিরে পেয়ে বাংলাদেশের সর্বসৱরের জনগণ আনন্দ, উ"ছ্বাস ও আবেগে আপস্নুত হয়ে পড়ে। জীবনমৃত্যুর কঠিন চ্যালেঞ্জের ভয়ংকর অধ্যায় পার হয়ে সারাজীবনের স্বপ্ন, সাধনা ও নেতৃত্বের ফসল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে মহান নেতার প্রত্যাবর্তন, সকল সৱরের জনগণকেই সীমাহীন আনন্দে উদ্বেলিত করে। ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে ততকালীন রেসকোর্স ময়দানে বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতা আবেগআপস্নুত কণ্ঠে বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ মুক্ত, স্বাধীন। একজন বাঙালি বেঁচে থাকতেও এই স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেব না’।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা যতদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত থাকবো, ততদিন আমাদের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব অটুট থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দীর্ঘ সাড়ে নয় মাস পাকিসৱানের কারাগারে বন্দীজীবন শেষে এদিন জাতির জনক প্রত্যাবর্তন করেছিলেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। তাঁর নেতৃত্বে জাতি নতুন প্রত্যয় নিয়ে শুরম্ন করে যুদ্ধবিধ্বসৱ দেশ গড়ার সংগ্রাম। বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রে সপরিবারে নিহত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বন্দুকের জোরে ৰমতা দখলকারীরা হত্যা করে গণতন্ত্র, রম্নদ্ধ করে প্রগতি ও উন্নয়নের ধারা। আইন করে বন্ধ করে দেয় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ। সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে আজ আবারও শুরম্ন হয়েছে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যা"েছ দিনবদলের স্বপ্নকে সামনে নিয়ে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলৰে আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৭টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৭টায় জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন এবং বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আনৱর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনাসভা। আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংগঠনের সকল শাখাকে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনের আহবান জানিয়েছেন।
টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচি
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে থাকবেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স'ানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারম্নক খান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি প্রমুখ। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপেস্নক্সের পাবলিক পস্নাজায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনাসভায় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। বাদ জোহর সমাধিসৌধ কমপেক্স মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
যুবলীগ
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে যুবলীগ গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। এক বিবৃতিতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ ওমর ফারম্নক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম সকল নেতা-কর্মীকে গৃহীত কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহবান
Thursday, January 7, 2010
জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ
বিসমিলস্নাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় দেশবাসী,
আসসালামু ওয়া আলাইকুম -
আজকের এই দিনে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আপনাদের সেবা করার যে সুযোগ আমাকে দিয়েছিলেন তার একবছর পূর্ণ হলো আজ। এই শুভলগ্নে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি বাংলাদেশের সকল মানুষকে। কৃতজ্ঞতা এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি সকল ভোটারকে যারা আমাদের পড়্গে রায় দিয়েছিলেন। ধন্যবাদ জানাচ্ছি সেসকল সম্মানিত ভোটারকে যারা আমাদের সমর্থন দেননি কিন্তু তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তরম্নণ প্রজন্মের ভোটারদের, যাদের অনেকে প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছে। দিনবদলের পড়্গে ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পড়্গে রায় দিয়েছে। অভিনন্দন আমাদের নারীসমাজকে যারা অকুণ্ঠভাবে আমাদের সমর্থন দিয়েছেন।
আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, নিজস্ব রাষ্ট্র, নিজস্ব মানচিত্র, লালসবুজের জাতীয় পতাকা।
গভীর বেদনার সাথে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট এর সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, আমার তিনভাই ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লে: শেখ জামাল ও দশ বছরের শিশুভাই শেখ রাসেলকে।
স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, জাতির পিতার একমাত্র সহোদর শেখ নাসের, কৃষকনেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও তার পরিবার, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অনত্ম:স্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ সেই রাতের সকল শহীদদের।
স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় নিহত জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরম্নল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহম্মেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরম্নজ্জামানকে যাদের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পরিচালনায় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করেছিলাম।
শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সাবেক অর্থমন্ত্রী সংসদ সদস্য এসএএমএস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসানউলস্নাহ মাষ্টার, সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজউদ্দিনসহ বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ২১ হাজার নেতা-কর্মীকে।
স্মরণ করছি ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন শহীদকে। আলস্নাহ্র অশেষ রহমতে আমি সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম। আজো পাচঁশরও বেশী নেতা-কর্মী পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন-যাপন করছেন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেড়্গ এবং আনত্মর্জাতিকভাবে প্রশংসিত একটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ভোটারদের ম্যান্ডেট লাভ করে।
বিপুল এই বিজয় ছিলো আমাদের উপর আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। এর ফলে জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং অঙ্গীকারও বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে। গত একবছরে আমরা চেষ্টা করেছি এই আস্থার প্রতিদান দিতে, বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে।
কতোটুকু সফল হয়েছি তা বিচারের ভার আপনাদের অর্থাৎ এদেশের জনগণের। তবে আমাদের আনত্মরিকতা ও প্রচেষ্টায় যে ত্রম্নটি ছিলো না তা অবশ্যই আপনারা অনুধাবন করবেন।
আপনারা জানেন ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা শুরম্ন হয়। এর আগে দুটি বছর দেশে ছিলো অনির্বাচিত সরকার।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে আতংকের মাধ্যমে দেশকে স্থবির করে দেয়া হয়েছিলো। মুখ থুবড়ে পড়েছিলো অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়ন।
আমার জিজ্ঞাসা, দুই বছরের এই ভোগানিত্মর জন্য কারা দায়ী?
আমি জানি সচেতন নাগরিকমাত্রই বলবেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের দুঃশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও স্বজনপ্রীতির কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো।
নির্বাচনে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে বুঝতে পেরেই তারা ভোটকারচুপির মাধ্যমে যেনতেন প্রকারে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করেছিলো। এই ষড়যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছিলো তদানীনত্মন রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনকে।
জোর করে ড়্গমতা দখলের এই নীলনকশার বিরম্নদ্ধে জনগণ সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আন্দোলনকারী জনতার উপর একদিকে পুলিশ, আরেকদিকে সশস্ত্র দলীয় ক্যাডারদের লেলিয়ে দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা-নির্যাতন চালায় চারদলীয় জোট।
এরই এক পর্যায়ে দেশে জারি হয় জরম্নরি অবস্থা।
আমাকে বিদেশ থেকে ফিরতে বাধা দেয়া হয়। সরকারের রক্তচড়্গু ও বাধাকে উপেড়্গা করে আমি দেশে ফিরি। তখন আমাকে গ্রেফতার করা হয়।
মিথ্যা মামলা দিয়ে মাসের পর মাস নির্জন কারাগারে অনত্মরীণ করে রাখা হয়। সেইসঙ্গে আরো অনেক রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। রাজনৈতিক দলগুলোকে ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়।
এ প্রসঙ্গে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও প্রবাসীদের।
সেই দুঃসময়ে তারা দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছেন। তাদের সাহসী ভূমিকার কারণেই জাতি আজ গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে।
পাশাপাশি, আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে। দিনরাত পরিশ্রম করে তারা ১ কোটি ২৩ লড়্গ ভুয়া ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জাতিকে একটি নির্ভুল ভোটারতালিকা উপহার দিয়েছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি শানিত্মপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন যেখানে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
আমরা চাই, ভবিষ্যতে প্রতিটি নির্বাচনে মানুষ যেনো স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে।
কোন অপশক্তি যাতে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসের মাথায় ২৫ ফেব্রম্নয়ারি বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আমরা হারিয়েছি ৫৭ জন সম্ভাবনাময় সেনা অফিসারকে।
এই মর্মানিত্মক ঘটনাকে পুঁজি করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিলো। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের অপচেষ্টাও করেছিলো। তারা সফল হয়নি। তবে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। সে সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি।
সরকার দৃঢ়তার সাথে সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলো যা জাতীয় এবং আনত্মর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এই হত্যার বিচারকাজ দ্রম্নত এগিয়ে চলছে। দায়ী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
আমি দায়িত্ব নেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সরকারকে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে দেশের দড়্গিণাঞ্চলে জানমালের যে ড়্গতি হয়েছিলো তা মোকাবেলা করতে হয়েছে। সরকার দ্রম্নত কার্যকর পদড়্গেপ নেয়ায় এই দুর্যোগ থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে।
প্রিয় দেশবাসী,
আমরা এমন এক সময়ে সরকার গঠন করেছি যখন বিশ্বব্যাপী চলছে অর্থনৈতিক মন্দা ও চরম খাদ্যঘাটতি। এসত্ত্বেও, বিগত সরকারের সময়ে যে চালের দাম ছিলো ৪৫ টাকা আমরা সেই চালের দাম ১৮/২০ টাকায় কমিয়ে আনতে পেরেছিলাম বর্তমানে যা ২২/২৪ টাকা। ১১৫ টাকার সয়াবিন তেল এখন ৮০ টাকা। ৪৫ টাকার আটা এখন মানুষ ১৮/২০ টাকায় কিনতে পারছে।
২০০১ সালে মূল্যস্ফীতি ১.৫৯ ভাগে রেখে এসেছিলাম। এবারের নির্বাচনের পর যখন সরকার গঠন করলাম মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.১১ শতাংশ।
সরকার গঠন করে ২০০৯ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতির এ হার হ্রাস করি যা দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩.৪৬ এবং ৪.৬৯ শতাংশে।
বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও গত বছরের তুলনায় বর্তমান অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবাহ ২২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রেমিটেন্স প্রবাহের উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
মন্দা মোকাবেলায় বাজেটে প্রণোদনার জন্য ৫,০৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালোভাবে চলতে পারে।
ভাই ও বোনেরা,
আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিলো দ্রব্যমূল্য কমানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই অঙ্গীকার পূরণে আমরা অনেকটা সফলতা অর্জন করেছি।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ যখন ড়্গমতায় ছিলো তখন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয় বরং উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত হয়।
কিন্তু পরবর্তী সরকার খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে পারেনি। দেশকে খাদ্য আমদানি নির্ভর করে তোলে। ফলে খাদ্যশস্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মানুষ চরম খাদ্যকষ্ট ভোগ করে।
আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিজিএফ, ভিজিডিসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্য বিতরণ করে যাচ্ছি। রমজান মাসে ১ কোটি ২০ লড়্গ দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করছি। এবারের রমজান মাসে কোন জিনিসের দাম বাড়ে নাই।
কৃষকদের জন্য আমাদের সরকার ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ করেছে। প্রয়োজনে তা আরো বাড়ানো হবে।
এবারের ইরি-বোরো এবং আমন মৌসুমে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।
টিএসপি সারের দাম প্রতিটন ৬৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ডিএপি সারের দাম ৮৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। সারের সুষ্ঠু সরবরাহ ও বিতরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। কোথাও একদিনের জন্য সার সংকট হয়নি। ডিজেল ও বীজসহ কৃষি উপকরণের দামও কমানো হয়েছে। ফলে বাম্পার ফলন হয়েছে।
বর্তমানে দেশে সাড়ে ১১ লড়্গ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ আছে। এছাড়া আমন ফসলও কৃষকের ঘরে উঠেছে।
কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকারি পর্যায়ে সংগ্রহ লড়্গ্যমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে রেশনের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে চাল বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী, আনসার, গ্রাম পুলিশ, চৌকিদার ও দফাদারদের মধ্যে রেশন প্রদানের বিষয়টিও আমরা বিবেচনা করছি।
উত্তরবঙ্গে বছরের পর বছর চলতে থাকা মঙ্গাকে আমরা বিদায় দিয়েছি।
“জাল যার জলা তার” নীতির ভিত্তিতে নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করতে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯ প্রণয়ণ করেছি।
কৃষকের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেছি।
প্রিয় দেশবাসী,
আমরা একটি দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।
২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্রের হার ১৫% এ নামিয়ে আনার লড়্গ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বয়স্ক ভাতা, বিধবাভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর ভাতার হার ও উপকারভোগীর সংখ্যা উলেস্নখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে বয়স্কভাতা কার্যক্রমের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।
অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রমের জন্য ৯৩ কোটি ৬০ লড়্গ টাকা, প্রতিবন্ধী শিড়্গার্থীদের শিড়্গা উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বয়স্ক ভাতা বাবদ এ পর্যনত্ম ৬০৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করার লড়্গ্যে ১১৯৭.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে “একটি বাড়ি একটি খামার” প্রকল্প বাসত্মবায়ন করা হচ্ছে।
গৃহহীন, হতদরিদ্র মানুষকে মাথা গোঁজার ঠাঁই দেয়ার জন্য ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সর্বপ্রথম আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করে যা জোট সরকার বন্ধ করে দিয়েছিলো। এবার আমরা আরো ব্যাপকভাবে এই প্রকল্প বাসত্মবায়ন করছি। প্রতিটি গৃহহীন মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে বাসস্থানের ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই করবো।
সচেতন দেশবাসী,
আমরা শিড়্গাকে দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নের প্রধান কৌশল হিসেবে নিয়েছি।
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিড়্গকদের বেতনের সরকারি অংশ বৃদ্ধি ও সমতাকরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এই প্রথম এসএসসি পরীড়্গার আদলে দেশব্যাপী অভিন্ন পদ্ধতিতে পঞ্চম শ্রেণীর শিড়্গা সমাপনী পরীড়্গা গ্রহণ করে ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিড়্গার উলেস্নখযোগ্য সম্প্রসারণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির লড়্গ্যে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় প্রাথমিক শিড়্গা উন্নয়ন কর্মসূচি বাসত্মবায়িত হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মোট ৪০ হাজার নতুন শ্রেণীকড়্গ নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে এবং ৪৫ হাজার শিড়্গক নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
সরকার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরী, এবতেদায়ী ও দাখিল সত্মরের শিড়্গার্থীদের বিনামূল্যে ১৯ কোটি বই বিতরণ করছে। এবারই প্রথম ওয়েবসাইটে পাঠ্যপুসত্মক দেয়া হয়েছে।
এবারই মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেয়া হচ্ছে। অতীতে কখনোই এটা দেয়া হয়নি।
পাঠ্যসূচীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস অনত্মর্ভুক্ত হয়েছে।
সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নতুন শিড়্গানীতির খসড়া প্রণয়ন করেছে এবং তা জনগণের মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে।
সরকার শিড়্গা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে বাজেটে শিড়্গাখাতে মোট ৭২৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।।
প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিড়্গার্থীদের ঝরে পড়া বন্ধ করতে উপবৃত্তির সংখ্যা ৪৮ লড়্গ থেকে ৭৮ লড়্গে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিড়্গার প্রসারের জন্য মাদ্রাসাসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নারী শিড়্গার ব্যাপক প্রসারের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রী উপবৃত্তি প্রদান, বই ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান ও পাবলিক পরীড়্গায় অংশগ্রহণের জন্য পরীড়্গার ফি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যনত্ম মেয়েদের বেতন মওকুফ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য শিড়্গা অবৈতনিক করা হবে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আমরা ২০১৪ সালের মধ্যে নিরড়্গরতা দূর করবো।
স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ লড়্গ্যে বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হচ্ছে।
১৮টি জেলা হাসপাতালে ৮৭৫টি শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্স এ পরিণত করার কাজ এগিয়ে চলছে।
গ্রামীণ এলাকায় প্রতি ৬,০০০ জনের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের লড়্গ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্মিত ১০,৭২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে।
সর্বমোট ১৩ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ানো হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার স্বল্পতা কমাতে এডহকভিত্তিতে ৬ হাজার ডাক্তার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়েছে। শীঘ্রই ৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে। নতুন ১৩টি নার্সিং স্কুল এবং বিএসসি নার্সিং কোর্স চালু করা হয়েছে। ডিপেস্নামা পাস নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তার মর্যাদা ও বেতনক্রম দেয়া হয়েছে।।
আইসিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবার জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যায়ে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে এবং জেলা হাসপাতাল পর্যনত্ম ওয়েব ক্যামেরা দেয়া হয়েছে।
প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ও জেলা হাসপাতালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে “মোবাইল ফোন স্বাস্থ্যসেবা” প্রদান করা হচ্ছে।
প্রিয় দেশবাসী,
গত এক বছরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা বেশকিছু গুরম্নত্বপূর্ণ পদড়্গেপ নিয়েছি।
দড়্গিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হবে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবো ইনশালস্নাহ।
ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে বিমানবন্দর হতে যাত্রাবাড়ি পর্যনত্ম প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঊষবাধঃবফ ঊীঢ়ৎবংংধিু নির্মাণের পদড়্গেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমিকভাবে অন্যান্য রাসত্মাতেও তা করা হবে।
পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ অবস্থানে দ্বিতীয় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণে প্রাথমিক পদড়্গেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সারাদেশে আমরা মহাসড়ক, সড়ক ও ব্রীজের নির্মাণকাজ দ্রম্নততার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
ঢাকা - চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।
রেলওয়ের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা হতে জয়দেবপুর পর্যনত্ম ৮৬ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ নির্মাণের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যনত্ম রেললাইন নির্মাণ করা হবে।
দায়িত্ব নেয়ার পরই আমরা নৌপথ ও নদীকে গুরম্নত্ব দিয়ে নদ-নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং গতি প্রবাহ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয় পদড়্গেপ নিয়েছি।
আজকেই বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার কাজ শুরম্ন হয়েছে।
ঢাকা শহরের চারদিকে সার্কুলার ওয়াটার ওয়েজ চালু করার কাজ চলছে। ঢাকার চারদিকে প্রবাহিত নদী রড়্গার জন্য নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, উচ্ছেদকৃত স্থানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, দূষণ রোধ ও বনায়নের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির লড়্গ্যে ক্যাপিটাল ড্রেজিং-এর কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। নাব্যতা বৃদ্ধি ও ভাঙ্গনরোধকল্পে ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পের সমীড়্গা কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
দড়্গিণাঞ্চলের জমিতে লবণাক্ততা রোধ এবং পলিপড়া হ্রাস করার লড়্গ্যে জরম্নরি ভিত্তিতে গড়াই নদী পুনরম্নদ্ধার কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ড়্গতি মোকাবেলায় আমরা নিজস্ব তহবিল থেকে ৭০০ কোটি টাকার জলবায়ু পরিবর্তন ফাণ্ড গঠন করেছি।
ঝুঁকি মোকাবেলায় ইধহমষধফবংয পষরসধঃব পযধহমব ংঃৎধঃবমু ধহফ ধপঃরড়হ ঢ়ষধহ গ্রহণ করা হয়েছে।
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে আমি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ড়্গতিগ্রসত্ম হওয়ার বিষয়টি আমি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছি। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হসত্মানত্মরসহ অন্যান্য সহযোগিতা চেয়েছি। আমাদের দাবি আনত্মর্জাতিক বিশ্বের সমর্থন পেয়েছে।
মংলা বন্দরকে আনত্মর্জাতিক মানের সমুদ্র বন্দরে রূপানত্মরের লড়্গ্যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতে কন্টেইনার টার্মিনাল চালু করা হয়েছে। কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ঢাকার উপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) এর আওতায় ঢাকার চারিদিকে ৪টি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ঢাকা শহরকে সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
রাজউক কর্তৃক উত্তরা তৃতীয় পর্ব এবং পূর্বাচলে পস্নট বরাদ্দের জন্য প্রথমবারের মত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়নে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে লটারির ফলাফলের ভিত্তিতে পস্নট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা
বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ছাড়া একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একটি আইসিটি নির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইসিটি জ্ঞানসমৃদ্ধ তরম্নণদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত করতে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা, ২০০৯ এবং নীতিমালা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ বেশ কিছু গুরম্নত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লড়্গ্যে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কম্পিউটার প্রশিড়্গণ প্রদান এবং ডাটা এন্ট্রি সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
গাজীপুর এর কালিয়াকৈরে ২৩২ একর জমির উপর হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে।
ই-গভর্নেন্স বাসত্মবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে ভিডিও কনফারেন্স এর আওতায় আনা হয়েছে।
বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকার দুর্নীতিকে নীতি হিসাবে গ্রহণ করেছিলো। এমন কোন খাত নেই যেখানে দুর্নীতি হয়নি। ফলে থমকে গিয়েছিলো উন্নয়ন।
আমরা দেশকে দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে চাই। সে কারণে, দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ ও সংস্কারসহ বেশকিছু পদড়্গেপ গ্রহণ করেছি।
দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে।
চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ বিশ্বের ১০টি দুর্নীতিগ্রসত্ম দেশের তালিকায় অনত্মর্ভুক্ত ছিলো। আওয়ামী লীগ সরকার ড়্গমতায় আসার এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এ অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ১লা জুলাই ২০০৯ থেকে নতুন পে-স্কেল প্রদান করা হয়েছে। চিকিৎসা ভাতা এবং অবসরভোগীদের নীট পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সিভিল সার্ভিস এ্যাক্ট প্রণয়ন এবং পদোন্নতি নীতিমালা সংশোধন ও যুগোপযোগীকরণ করা হয়েছে। সৎ, দড়্গ ও মেধাবী বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
প্রিয় দেশবাসী,
আপনারা জানেন, সাত বছরে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়েনি।
চার দলীয় জোট বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। পাঁচ বছরে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারেনি।
আমরা দায়িত্ব নেয়ার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩,৮০৮ মেগাওয়াট, যা বর্তমানে বেড়ে ৪,২৯৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫৫০০ মেগাওয়াট। এ বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।
আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর ৭২৮ মেগাওয়াট ড়্গমতার নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়েছে। এবছরের মধ্যে আরো ১০০০ মেগাওয়াট ড়্গমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হবে।
জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বিগত সাত বছরে কোন পদড়্গেপ নেয়া হয়নি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়্গ্যে ইতোমধ্যে আবিষ্কৃত গ্যাস ও তেল মজুদ হালনাগাদ করা হচ্ছে। জাতীয় জ্বালানি নীতি ও কয়লা নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধানের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।
আমাদের সরকার দেশের শিল্প উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শিল্প সহায়ক শিল্পনীতি প্রণয়ন, বৈদেশিক পুঁজি আকর্ষণ, নারী উদ্যোগ বিকাশ এবং পরিবেশ বান্ধব শিল্প স্থাপনে উৎসাহ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ৭% থেকে হ্রাস করে ৫% করা হয়েছে।
শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার, মেধাঅধিকার সংরড়্গণ ও সৃজনশীল কর্মের স্বীকৃতির লড়্গ্যে ‘ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯’ পাস করা হয়েছে।
বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও এক বছরে বিদেশে সাড়ে ৪ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স গত বছরের তুলনায় ২২% বেশি।
পবিত্র ওমরাহ পালনকালে আমি সৌদি বাদশার সাথে সাড়্গাৎ করে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশীদের জন্য ‘ইকামা’ হসত্মানত্মর সংক্রানত্ম জটিলতা নিরসন করার পদড়্গেপ নিয়েছি।
আমার অনুরোধে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে জনশক্তি প্রবেশের ড়্গেত্রে ‘কোটা’ পদ্ধতি রহিত করার সিদ্ধানত্ম হয়েছে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় যুবক ও যুবমহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
নারীর ড়্গমতায়ন এবং উন্নয়নের মূলধারায় নারীকে সম্পৃক্ত করার লড়্গ্যে আমরা কাজ করছি। সরকার, প্রশাসন ও সশস্ত্রবাহিনীতে নারীর অবস্থান আজ উন্নত বিশ্বের তুলনায় কোন অংশেই কম নয়।
সচেতন দেশবাসী,
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও ড়্গমতা বিকেন্দ্রীকরণের লড়্গ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন পর উপজেলা পরিষদসমূহ নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানগণের নেতৃত্বে কার্যক্রম পরিচালনা শুরম্ন করেছে।
আমরা মুক্ত চিনত্মা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে চাই। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত করতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ সংশোধনের প্রসত্মাব ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ভিত্তিতে তথ্য অধিকার বিধিমালা, ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যে কাজ শুরম্ন করেছে।
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা, পরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ড়্গেত্রে বিগত এক বছরে মোট ৬৬টি আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
ঞযব ঈড়ফব ড়ভ ঈৎরসরহধষ চৎড়পবফঁৎব (অসবহফসবহঃ) অপঃ, ২০০৯ বিচার বিভাগ পৃথকীকরণকে স্থায়ী রূপ দান করেছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লড়্গ্যে ঞযব ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈৎরসবং ঞৎরনঁহধষং (অসবহফসবহঃ) অপঃ, ২০০৯ অপঃ, ২০০৯ পাস হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রাথমিক স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। স্বল্পসময়ের মধ্যে বিচারের কার্যক্রম শুরম্ন করা হবে ইনশালস্নাহ্।
মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন ও মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছে। ২০০৯-২০১২ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের সদস্য পুনঃনির্বাচিত হওয়া এরই স্বীকৃতি।
চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মানবাধিকার লংঘন ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসাবে যে বদনাম ছিল বাংলাদেশ তা থেকে মুক্ত হয়েছে।
সম্মানিত দেশবাসী,
সশস্ত্র বাহিনী আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে ব্যাপক উন্নয়ন ও কল্যাণধর্মী পদড়্গেপ নেয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
সেনা সদস্যরা জাতিসংঘ মিশনে অংশ নিয়ে দেশের জন্য বয়ে এনেছে অনন্য সম্মান। সরকার জাতিসংঘ মিশনে আরো বেশি সেনা সদস্য পাঠানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের লড়্গ্যে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেনা সদস্যদের রেশন বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শানিত্ম মিশনে কর্মরত সেনা সদস্যদের ছুটি বৃদ্ধি ও ভিওআইপি টেলিফোন সুবিধাসহ বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের রেশনের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা পরিবারের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
জঙ্গীবাদ দমন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে।
জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডসহ সকল হত্যাকাণ্ড, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা, চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের উপর বোমা হামলাসহ সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আইনানুগ বিচার আমরা নিশ্চিত করবো।
বাংলাদেশে যাতে কোনরকম জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত হতে না পারে সেজন্য সরকার কার্যকর পদড়্গেপ গ্রহণ করেছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সকল সদস্যকে রেশনের আওতায় আনা হয়েছে।
সরকার ড়্গমতায় আসার ৪ মাসের মধ্যে পুলিশের সব সদস্যদের মধ্যে শতভাগ রেশন সুবিধা প্রবর্তন করেছে এবং রেশনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিডিআর, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও কারা অধিদপ্তরের সদস্যদের রেশন সুবিধার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশের জনবল বৃদ্ধির জন্য ৩২ হাজার সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিডিআরকে আরো কার্যকর করার জন্য পুনর্গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
বাঙালির ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরড়্গণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্প বাসত্মবায়িত হচ্ছে।
১৪২টি শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ১৯৭২ সালের নির্ধারিত মূল্যের ভিত্তিতে পরিত্যক্ত বাড়ী হসত্মানত্মর করা হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানীভাতা বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৫৯ বছরে উন্নীত করেছি।
সুষ্ঠু হজ্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ফলে এবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫৯ হাজার হজ্বযাত্রী নির্বিঘ্নে পবিত্র হজ্ব পালন করেছেন।
৫লাখেরও বেশী ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।
এবারই প্রথম খ্রীষ্ট্রান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টিবোর্ড গঠন করা হয়েছে।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টান কল্যাণ ট্রাষ্টের অনুদানের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মসজিদ ভিত্তিক কার্যক্রমের আওতায় সাড়ে ৫ লাখ শিশু ও বয়স্ককে প্রাক-প্রাথমিক শিড়্গা এবং সাড়ে ৪ লাখ শিশু-কিশোরকে কোরান শিড়্গা দেয়া হচ্ছে।
ক্রীড়াড়্গেত্রে উন্নয়নের জন্য পদড়্গেপ নেয়ায় ক্রীড়াঙ্গন সাফল্যের ধারায় ফিরে এসেছে।
আমাদের ক্রিকেট দল ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে টেষ্ট ও ওয়ান ডে সিরিজ জয় করেছে। জিম্বাবুই-এর বিরম্নদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজ জিতেছে। বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ফুটবলকে আমরা মর্যাদার আসনে ফিরিয়ে এনেছি। সাউথ এশিয়ান গেমস ২০১০-এর আয়োজক ও বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১১-এর সহ আয়োজক হিসাবে বাংলাদেশ-এর নির্বাচন আনত্মর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
পর্যটন শিল্পকে শক্তিশালী করতে কক্সবাজার ও কুয়াকাটার উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল যা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় সেখানেও উন্নয়ন করা হবে।
প্রিয় দেশবাসী,
‘‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো সঙ্গে শত্রম্নতা নয়’’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও আনত্মর্জাতিক সম্পর্কের মূলমন্ত্র।
এরই মধ্যে আমি ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ ও প্রতিবেশী দেশে দ্বিপাড়্গিক সফর এবং বিভিন্ন আনত্মর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি।
জাতিসংঘের ৬৪তম সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়ে আমি জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে অনত্মর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছি।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ২৫টি নির্বাচিত দেশের রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিয়ে বাংলাদেশসহ ড়্গতিগ্রসত্ম দেশগুলোর কথা তুলে ধরেছি।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে জাতিসংঘ শানিত্মরড়্গা কার্যক্রমে শীর্ষস্থানীয় দশটি সৈন্য প্রেরণকারী দেশের নেতৃবৃন্দের বৈঠকে অংশগ্রহণ করে শানিত্ম মিশনের নীতি-নির্ধারণীতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত করার কথা আমি তুলে ধরেছি।
আমরা বলেছিলাম, নির্বাচিত হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে সুসংহত করবো। জাতীয় সংসদকে কার্যকর করবো। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ৪৮টি সংসদীয় কমিটি ও স্থায়ী কমিটি আমরা গঠন করেছি। অন্যান্য দল থেকে ৭ জন সংসদ সদস্যকে বিভিন্ন কমিটির সভাপতির পদ দেয়া হয়েছে। এটাও বাংলাদেশে প্রথম।
প্রিয় দেশবাসী,
আমাদের প্রতি আপনারা যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন তার মর্যাদা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।
আমরা চাই ২০১২ সালের মধ্যে একটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ।
২০১৩ সালের মধ্যে ডিগ্রী পর্যায় পর্যনত্ম শিড়্গাকে অবৈতনিক করতে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি।
২০১৫ সালের মধ্যে সকল গৃহহীন মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে চাই। বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না।
২০১৩ সাল নাগাদ ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে চাই।
২০১৩ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে উন্নীত করতে চাই যাতে বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে।
আমরা ২০২১ সালের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হার বর্তমানের হাজারে ৫৪ থেকে কমিয়ে ১৫ এবং মাতৃমৃত্যুর হার ৩.৮ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাই।
ইনশালস্নাহ্ আমাদের সম্মিলিত পরিশ্রম, আনত্মরিকতা এবং আপনাদের সমর্থনে আমরা একাজে সফলতা অর্জন করতে পারবো।
আমরা চাই, গতানুগতিক রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনীতির ধারা প্রতিষ্ঠা করতে। তাই আমরা বিরোধীদলকে সংসদে ফিরে এসে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রিয় দেশবাসী,
আজ থেকে ৩৮ বছর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যারা জীবন দিয়ে স্বাধীনতা এনেছিলেন তাদের রক্তঋণ শোধ করতে হবে।
সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন বাংলাদেশের দুখী-দরিদ্র মানুষ দুবেলা খাবার পাবে, মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে, চিকিৎসার সুযোগ পাবে। আমরা সব মানুষের জন্য উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে চাই।
২০২১ সাল- বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়নত্মী।
২০২০ সাল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।
২০২১ সালে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অশিড়্গার অন্ধকার থাকবে না। যেখানে দারিদ্র্য থাকবে না। মানুষ তার সম্মান নিয়ে, মর্যাদা নিয়ে সমৃদ্ধ জীবন গড়ে তুলবে।
আমরা ২০২১ সালে সেই বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি যে বাংলাদেশ হবে শিড়্গা-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অগ্রসর - ডিজিটাল বাংলাদেশ।
আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশ্ব দরবারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে বলবে- আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা, যে কথা জাতির জনক বলে গিয়েছিলেন।
সেই স্বপ্ন নিয়েই আমাদের পথচলা। আসুন, আলোকিত এই পথের সন্ধানে ঐক্যবদ্ধ হই। সংকীর্ণ ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গড়ে তুলি সোনার বাংলাদেশ।
সবাইকে আনত্মরিক ধন্যবাদ।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।
প্রিয় দেশবাসী,
আসসালামু ওয়া আলাইকুম -

আজকের এই দিনে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আপনাদের সেবা করার যে সুযোগ আমাকে দিয়েছিলেন তার একবছর পূর্ণ হলো আজ। এই শুভলগ্নে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি বাংলাদেশের সকল মানুষকে। কৃতজ্ঞতা এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি সকল ভোটারকে যারা আমাদের পড়্গে রায় দিয়েছিলেন। ধন্যবাদ জানাচ্ছি সেসকল সম্মানিত ভোটারকে যারা আমাদের সমর্থন দেননি কিন্তু তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তরম্নণ প্রজন্মের ভোটারদের, যাদের অনেকে প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছে। দিনবদলের পড়্গে ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পড়্গে রায় দিয়েছে। অভিনন্দন আমাদের নারীসমাজকে যারা অকুণ্ঠভাবে আমাদের সমর্থন দিয়েছেন।
আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, নিজস্ব রাষ্ট্র, নিজস্ব মানচিত্র, লালসবুজের জাতীয় পতাকা।
গভীর বেদনার সাথে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট এর সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, আমার তিনভাই ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লে: শেখ জামাল ও দশ বছরের শিশুভাই শেখ রাসেলকে।
স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, জাতির পিতার একমাত্র সহোদর শেখ নাসের, কৃষকনেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও তার পরিবার, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অনত্ম:স্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ সেই রাতের সকল শহীদদের।
স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় নিহত জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরম্নল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহম্মেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরম্নজ্জামানকে যাদের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পরিচালনায় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করেছিলাম।
শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সাবেক অর্থমন্ত্রী সংসদ সদস্য এসএএমএস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসানউলস্নাহ মাষ্টার, সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজউদ্দিনসহ বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ২১ হাজার নেতা-কর্মীকে।
স্মরণ করছি ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন শহীদকে। আলস্নাহ্র অশেষ রহমতে আমি সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম। আজো পাচঁশরও বেশী নেতা-কর্মী পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন-যাপন করছেন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেড়্গ এবং আনত্মর্জাতিকভাবে প্রশংসিত একটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ভোটারদের ম্যান্ডেট লাভ করে।
বিপুল এই বিজয় ছিলো আমাদের উপর আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। এর ফলে জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং অঙ্গীকারও বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে। গত একবছরে আমরা চেষ্টা করেছি এই আস্থার প্রতিদান দিতে, বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে।
কতোটুকু সফল হয়েছি তা বিচারের ভার আপনাদের অর্থাৎ এদেশের জনগণের। তবে আমাদের আনত্মরিকতা ও প্রচেষ্টায় যে ত্রম্নটি ছিলো না তা অবশ্যই আপনারা অনুধাবন করবেন।
আপনারা জানেন ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা শুরম্ন হয়। এর আগে দুটি বছর দেশে ছিলো অনির্বাচিত সরকার।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে আতংকের মাধ্যমে দেশকে স্থবির করে দেয়া হয়েছিলো। মুখ থুবড়ে পড়েছিলো অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়ন।
আমার জিজ্ঞাসা, দুই বছরের এই ভোগানিত্মর জন্য কারা দায়ী?
আমি জানি সচেতন নাগরিকমাত্রই বলবেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের দুঃশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও স্বজনপ্রীতির কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো।
নির্বাচনে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে বুঝতে পেরেই তারা ভোটকারচুপির মাধ্যমে যেনতেন প্রকারে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করেছিলো। এই ষড়যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছিলো তদানীনত্মন রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনকে।
জোর করে ড়্গমতা দখলের এই নীলনকশার বিরম্নদ্ধে জনগণ সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আন্দোলনকারী জনতার উপর একদিকে পুলিশ, আরেকদিকে সশস্ত্র দলীয় ক্যাডারদের লেলিয়ে দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা-নির্যাতন চালায় চারদলীয় জোট।
এরই এক পর্যায়ে দেশে জারি হয় জরম্নরি অবস্থা।
আমাকে বিদেশ থেকে ফিরতে বাধা দেয়া হয়। সরকারের রক্তচড়্গু ও বাধাকে উপেড়্গা করে আমি দেশে ফিরি। তখন আমাকে গ্রেফতার করা হয়।
মিথ্যা মামলা দিয়ে মাসের পর মাস নির্জন কারাগারে অনত্মরীণ করে রাখা হয়। সেইসঙ্গে আরো অনেক রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। রাজনৈতিক দলগুলোকে ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়।
এ প্রসঙ্গে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও প্রবাসীদের।
সেই দুঃসময়ে তারা দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছেন। তাদের সাহসী ভূমিকার কারণেই জাতি আজ গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে।
পাশাপাশি, আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে। দিনরাত পরিশ্রম করে তারা ১ কোটি ২৩ লড়্গ ভুয়া ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জাতিকে একটি নির্ভুল ভোটারতালিকা উপহার দিয়েছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি শানিত্মপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন যেখানে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
আমরা চাই, ভবিষ্যতে প্রতিটি নির্বাচনে মানুষ যেনো স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে।
কোন অপশক্তি যাতে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসের মাথায় ২৫ ফেব্রম্নয়ারি বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আমরা হারিয়েছি ৫৭ জন সম্ভাবনাময় সেনা অফিসারকে।
এই মর্মানিত্মক ঘটনাকে পুঁজি করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিলো। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের অপচেষ্টাও করেছিলো। তারা সফল হয়নি। তবে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। সে সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি।
সরকার দৃঢ়তার সাথে সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলো যা জাতীয় এবং আনত্মর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এই হত্যার বিচারকাজ দ্রম্নত এগিয়ে চলছে। দায়ী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
আমি দায়িত্ব নেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সরকারকে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে দেশের দড়্গিণাঞ্চলে জানমালের যে ড়্গতি হয়েছিলো তা মোকাবেলা করতে হয়েছে। সরকার দ্রম্নত কার্যকর পদড়্গেপ নেয়ায় এই দুর্যোগ থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে।
প্রিয় দেশবাসী,
আমরা এমন এক সময়ে সরকার গঠন করেছি যখন বিশ্বব্যাপী চলছে অর্থনৈতিক মন্দা ও চরম খাদ্যঘাটতি। এসত্ত্বেও, বিগত সরকারের সময়ে যে চালের দাম ছিলো ৪৫ টাকা আমরা সেই চালের দাম ১৮/২০ টাকায় কমিয়ে আনতে পেরেছিলাম বর্তমানে যা ২২/২৪ টাকা। ১১৫ টাকার সয়াবিন তেল এখন ৮০ টাকা। ৪৫ টাকার আটা এখন মানুষ ১৮/২০ টাকায় কিনতে পারছে।
২০০১ সালে মূল্যস্ফীতি ১.৫৯ ভাগে রেখে এসেছিলাম। এবারের নির্বাচনের পর যখন সরকার গঠন করলাম মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.১১ শতাংশ।
সরকার গঠন করে ২০০৯ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতির এ হার হ্রাস করি যা দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩.৪৬ এবং ৪.৬৯ শতাংশে।
বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও গত বছরের তুলনায় বর্তমান অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবাহ ২২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রেমিটেন্স প্রবাহের উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
মন্দা মোকাবেলায় বাজেটে প্রণোদনার জন্য ৫,০৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালোভাবে চলতে পারে।
ভাই ও বোনেরা,
আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিলো দ্রব্যমূল্য কমানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই অঙ্গীকার পূরণে আমরা অনেকটা সফলতা অর্জন করেছি।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ যখন ড়্গমতায় ছিলো তখন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয় বরং উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত হয়।
কিন্তু পরবর্তী সরকার খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে পারেনি। দেশকে খাদ্য আমদানি নির্ভর করে তোলে। ফলে খাদ্যশস্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মানুষ চরম খাদ্যকষ্ট ভোগ করে।
আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিজিএফ, ভিজিডিসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্য বিতরণ করে যাচ্ছি। রমজান মাসে ১ কোটি ২০ লড়্গ দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করছি। এবারের রমজান মাসে কোন জিনিসের দাম বাড়ে নাই।
কৃষকদের জন্য আমাদের সরকার ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ করেছে। প্রয়োজনে তা আরো বাড়ানো হবে।
এবারের ইরি-বোরো এবং আমন মৌসুমে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।
টিএসপি সারের দাম প্রতিটন ৬৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ডিএপি সারের দাম ৮৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। সারের সুষ্ঠু সরবরাহ ও বিতরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। কোথাও একদিনের জন্য সার সংকট হয়নি। ডিজেল ও বীজসহ কৃষি উপকরণের দামও কমানো হয়েছে। ফলে বাম্পার ফলন হয়েছে।
বর্তমানে দেশে সাড়ে ১১ লড়্গ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ আছে। এছাড়া আমন ফসলও কৃষকের ঘরে উঠেছে।
কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকারি পর্যায়ে সংগ্রহ লড়্গ্যমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে রেশনের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে চাল বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী, আনসার, গ্রাম পুলিশ, চৌকিদার ও দফাদারদের মধ্যে রেশন প্রদানের বিষয়টিও আমরা বিবেচনা করছি।
উত্তরবঙ্গে বছরের পর বছর চলতে থাকা মঙ্গাকে আমরা বিদায় দিয়েছি।
“জাল যার জলা তার” নীতির ভিত্তিতে নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করতে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯ প্রণয়ণ করেছি।
কৃষকের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেছি।
প্রিয় দেশবাসী,
আমরা একটি দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।
২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্রের হার ১৫% এ নামিয়ে আনার লড়্গ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বয়স্ক ভাতা, বিধবাভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর ভাতার হার ও উপকারভোগীর সংখ্যা উলেস্নখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে বয়স্কভাতা কার্যক্রমের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।
অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রমের জন্য ৯৩ কোটি ৬০ লড়্গ টাকা, প্রতিবন্ধী শিড়্গার্থীদের শিড়্গা উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বয়স্ক ভাতা বাবদ এ পর্যনত্ম ৬০৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করার লড়্গ্যে ১১৯৭.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে “একটি বাড়ি একটি খামার” প্রকল্প বাসত্মবায়ন করা হচ্ছে।
গৃহহীন, হতদরিদ্র মানুষকে মাথা গোঁজার ঠাঁই দেয়ার জন্য ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সর্বপ্রথম আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করে যা জোট সরকার বন্ধ করে দিয়েছিলো। এবার আমরা আরো ব্যাপকভাবে এই প্রকল্প বাসত্মবায়ন করছি। প্রতিটি গৃহহীন মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে বাসস্থানের ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই করবো।
সচেতন দেশবাসী,
আমরা শিড়্গাকে দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নের প্রধান কৌশল হিসেবে নিয়েছি।
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিড়্গকদের বেতনের সরকারি অংশ বৃদ্ধি ও সমতাকরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এই প্রথম এসএসসি পরীড়্গার আদলে দেশব্যাপী অভিন্ন পদ্ধতিতে পঞ্চম শ্রেণীর শিড়্গা সমাপনী পরীড়্গা গ্রহণ করে ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিড়্গার উলেস্নখযোগ্য সম্প্রসারণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির লড়্গ্যে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় প্রাথমিক শিড়্গা উন্নয়ন কর্মসূচি বাসত্মবায়িত হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মোট ৪০ হাজার নতুন শ্রেণীকড়্গ নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে এবং ৪৫ হাজার শিড়্গক নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
সরকার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরী, এবতেদায়ী ও দাখিল সত্মরের শিড়্গার্থীদের বিনামূল্যে ১৯ কোটি বই বিতরণ করছে। এবারই প্রথম ওয়েবসাইটে পাঠ্যপুসত্মক দেয়া হয়েছে।
এবারই মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেয়া হচ্ছে। অতীতে কখনোই এটা দেয়া হয়নি।
পাঠ্যসূচীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস অনত্মর্ভুক্ত হয়েছে।
সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নতুন শিড়্গানীতির খসড়া প্রণয়ন করেছে এবং তা জনগণের মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে।
সরকার শিড়্গা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে বাজেটে শিড়্গাখাতে মোট ৭২৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।।
প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিড়্গার্থীদের ঝরে পড়া বন্ধ করতে উপবৃত্তির সংখ্যা ৪৮ লড়্গ থেকে ৭৮ লড়্গে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিড়্গার প্রসারের জন্য মাদ্রাসাসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নারী শিড়্গার ব্যাপক প্রসারের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রী উপবৃত্তি প্রদান, বই ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান ও পাবলিক পরীড়্গায় অংশগ্রহণের জন্য পরীড়্গার ফি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যনত্ম মেয়েদের বেতন মওকুফ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য শিড়্গা অবৈতনিক করা হবে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আমরা ২০১৪ সালের মধ্যে নিরড়্গরতা দূর করবো।
স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ লড়্গ্যে বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হচ্ছে।
১৮টি জেলা হাসপাতালে ৮৭৫টি শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্স এ পরিণত করার কাজ এগিয়ে চলছে।
গ্রামীণ এলাকায় প্রতি ৬,০০০ জনের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের লড়্গ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্মিত ১০,৭২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে।
সর্বমোট ১৩ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ানো হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার স্বল্পতা কমাতে এডহকভিত্তিতে ৬ হাজার ডাক্তার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়েছে। শীঘ্রই ৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে। নতুন ১৩টি নার্সিং স্কুল এবং বিএসসি নার্সিং কোর্স চালু করা হয়েছে। ডিপেস্নামা পাস নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তার মর্যাদা ও বেতনক্রম দেয়া হয়েছে।।
আইসিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবার জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যায়ে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে এবং জেলা হাসপাতাল পর্যনত্ম ওয়েব ক্যামেরা দেয়া হয়েছে।
প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ও জেলা হাসপাতালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে “মোবাইল ফোন স্বাস্থ্যসেবা” প্রদান করা হচ্ছে।
প্রিয় দেশবাসী,
গত এক বছরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা বেশকিছু গুরম্নত্বপূর্ণ পদড়্গেপ নিয়েছি।
দড়্গিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হবে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবো ইনশালস্নাহ।
ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে বিমানবন্দর হতে যাত্রাবাড়ি পর্যনত্ম প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঊষবাধঃবফ ঊীঢ়ৎবংংধিু নির্মাণের পদড়্গেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমিকভাবে অন্যান্য রাসত্মাতেও তা করা হবে।
পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ অবস্থানে দ্বিতীয় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণে প্রাথমিক পদড়্গেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সারাদেশে আমরা মহাসড়ক, সড়ক ও ব্রীজের নির্মাণকাজ দ্রম্নততার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
ঢাকা - চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।
রেলওয়ের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা হতে জয়দেবপুর পর্যনত্ম ৮৬ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ নির্মাণের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যনত্ম রেললাইন নির্মাণ করা হবে।
দায়িত্ব নেয়ার পরই আমরা নৌপথ ও নদীকে গুরম্নত্ব দিয়ে নদ-নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং গতি প্রবাহ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয় পদড়্গেপ নিয়েছি।
আজকেই বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার কাজ শুরম্ন হয়েছে।
ঢাকা শহরের চারদিকে সার্কুলার ওয়াটার ওয়েজ চালু করার কাজ চলছে। ঢাকার চারদিকে প্রবাহিত নদী রড়্গার জন্য নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, উচ্ছেদকৃত স্থানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, দূষণ রোধ ও বনায়নের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির লড়্গ্যে ক্যাপিটাল ড্রেজিং-এর কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। নাব্যতা বৃদ্ধি ও ভাঙ্গনরোধকল্পে ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পের সমীড়্গা কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
দড়্গিণাঞ্চলের জমিতে লবণাক্ততা রোধ এবং পলিপড়া হ্রাস করার লড়্গ্যে জরম্নরি ভিত্তিতে গড়াই নদী পুনরম্নদ্ধার কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ড়্গতি মোকাবেলায় আমরা নিজস্ব তহবিল থেকে ৭০০ কোটি টাকার জলবায়ু পরিবর্তন ফাণ্ড গঠন করেছি।
ঝুঁকি মোকাবেলায় ইধহমষধফবংয পষরসধঃব পযধহমব ংঃৎধঃবমু ধহফ ধপঃরড়হ ঢ়ষধহ গ্রহণ করা হয়েছে।
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে আমি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ড়্গতিগ্রসত্ম হওয়ার বিষয়টি আমি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছি। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হসত্মানত্মরসহ অন্যান্য সহযোগিতা চেয়েছি। আমাদের দাবি আনত্মর্জাতিক বিশ্বের সমর্থন পেয়েছে।
মংলা বন্দরকে আনত্মর্জাতিক মানের সমুদ্র বন্দরে রূপানত্মরের লড়্গ্যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতে কন্টেইনার টার্মিনাল চালু করা হয়েছে। কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ঢাকার উপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) এর আওতায় ঢাকার চারিদিকে ৪টি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ঢাকা শহরকে সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
রাজউক কর্তৃক উত্তরা তৃতীয় পর্ব এবং পূর্বাচলে পস্নট বরাদ্দের জন্য প্রথমবারের মত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়নে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে লটারির ফলাফলের ভিত্তিতে পস্নট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা
বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ছাড়া একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একটি আইসিটি নির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইসিটি জ্ঞানসমৃদ্ধ তরম্নণদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত করতে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা, ২০০৯ এবং নীতিমালা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ বেশ কিছু গুরম্নত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লড়্গ্যে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কম্পিউটার প্রশিড়্গণ প্রদান এবং ডাটা এন্ট্রি সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
গাজীপুর এর কালিয়াকৈরে ২৩২ একর জমির উপর হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে।
ই-গভর্নেন্স বাসত্মবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে ভিডিও কনফারেন্স এর আওতায় আনা হয়েছে।
বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকার দুর্নীতিকে নীতি হিসাবে গ্রহণ করেছিলো। এমন কোন খাত নেই যেখানে দুর্নীতি হয়নি। ফলে থমকে গিয়েছিলো উন্নয়ন।
আমরা দেশকে দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে চাই। সে কারণে, দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ ও সংস্কারসহ বেশকিছু পদড়্গেপ গ্রহণ করেছি।
দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে।
চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ বিশ্বের ১০টি দুর্নীতিগ্রসত্ম দেশের তালিকায় অনত্মর্ভুক্ত ছিলো। আওয়ামী লীগ সরকার ড়্গমতায় আসার এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এ অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ১লা জুলাই ২০০৯ থেকে নতুন পে-স্কেল প্রদান করা হয়েছে। চিকিৎসা ভাতা এবং অবসরভোগীদের নীট পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সিভিল সার্ভিস এ্যাক্ট প্রণয়ন এবং পদোন্নতি নীতিমালা সংশোধন ও যুগোপযোগীকরণ করা হয়েছে। সৎ, দড়্গ ও মেধাবী বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
প্রিয় দেশবাসী,
আপনারা জানেন, সাত বছরে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়েনি।
চার দলীয় জোট বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। পাঁচ বছরে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারেনি।
আমরা দায়িত্ব নেয়ার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩,৮০৮ মেগাওয়াট, যা বর্তমানে বেড়ে ৪,২৯৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫৫০০ মেগাওয়াট। এ বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।
আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর ৭২৮ মেগাওয়াট ড়্গমতার নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়েছে। এবছরের মধ্যে আরো ১০০০ মেগাওয়াট ড়্গমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হবে।
জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বিগত সাত বছরে কোন পদড়্গেপ নেয়া হয়নি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়্গ্যে ইতোমধ্যে আবিষ্কৃত গ্যাস ও তেল মজুদ হালনাগাদ করা হচ্ছে। জাতীয় জ্বালানি নীতি ও কয়লা নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধানের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।
আমাদের সরকার দেশের শিল্প উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শিল্প সহায়ক শিল্পনীতি প্রণয়ন, বৈদেশিক পুঁজি আকর্ষণ, নারী উদ্যোগ বিকাশ এবং পরিবেশ বান্ধব শিল্প স্থাপনে উৎসাহ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ৭% থেকে হ্রাস করে ৫% করা হয়েছে।
শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার, মেধাঅধিকার সংরড়্গণ ও সৃজনশীল কর্মের স্বীকৃতির লড়্গ্যে ‘ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯’ পাস করা হয়েছে।
বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও এক বছরে বিদেশে সাড়ে ৪ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স গত বছরের তুলনায় ২২% বেশি।
পবিত্র ওমরাহ পালনকালে আমি সৌদি বাদশার সাথে সাড়্গাৎ করে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশীদের জন্য ‘ইকামা’ হসত্মানত্মর সংক্রানত্ম জটিলতা নিরসন করার পদড়্গেপ নিয়েছি।
আমার অনুরোধে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে জনশক্তি প্রবেশের ড়্গেত্রে ‘কোটা’ পদ্ধতি রহিত করার সিদ্ধানত্ম হয়েছে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় যুবক ও যুবমহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
নারীর ড়্গমতায়ন এবং উন্নয়নের মূলধারায় নারীকে সম্পৃক্ত করার লড়্গ্যে আমরা কাজ করছি। সরকার, প্রশাসন ও সশস্ত্রবাহিনীতে নারীর অবস্থান আজ উন্নত বিশ্বের তুলনায় কোন অংশেই কম নয়।
সচেতন দেশবাসী,
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও ড়্গমতা বিকেন্দ্রীকরণের লড়্গ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন পর উপজেলা পরিষদসমূহ নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানগণের নেতৃত্বে কার্যক্রম পরিচালনা শুরম্ন করেছে।
আমরা মুক্ত চিনত্মা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে চাই। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত করতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ সংশোধনের প্রসত্মাব ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ভিত্তিতে তথ্য অধিকার বিধিমালা, ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যে কাজ শুরম্ন করেছে।
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা, পরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ড়্গেত্রে বিগত এক বছরে মোট ৬৬টি আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
ঞযব ঈড়ফব ড়ভ ঈৎরসরহধষ চৎড়পবফঁৎব (অসবহফসবহঃ) অপঃ, ২০০৯ বিচার বিভাগ পৃথকীকরণকে স্থায়ী রূপ দান করেছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লড়্গ্যে ঞযব ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈৎরসবং ঞৎরনঁহধষং (অসবহফসবহঃ) অপঃ, ২০০৯ অপঃ, ২০০৯ পাস হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রাথমিক স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। স্বল্পসময়ের মধ্যে বিচারের কার্যক্রম শুরম্ন করা হবে ইনশালস্নাহ্।
মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন ও মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছে। ২০০৯-২০১২ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের সদস্য পুনঃনির্বাচিত হওয়া এরই স্বীকৃতি।
চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মানবাধিকার লংঘন ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসাবে যে বদনাম ছিল বাংলাদেশ তা থেকে মুক্ত হয়েছে।
সম্মানিত দেশবাসী,
সশস্ত্র বাহিনী আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে ব্যাপক উন্নয়ন ও কল্যাণধর্মী পদড়্গেপ নেয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
সেনা সদস্যরা জাতিসংঘ মিশনে অংশ নিয়ে দেশের জন্য বয়ে এনেছে অনন্য সম্মান। সরকার জাতিসংঘ মিশনে আরো বেশি সেনা সদস্য পাঠানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের লড়্গ্যে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেনা সদস্যদের রেশন বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শানিত্ম মিশনে কর্মরত সেনা সদস্যদের ছুটি বৃদ্ধি ও ভিওআইপি টেলিফোন সুবিধাসহ বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের রেশনের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা পরিবারের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
জঙ্গীবাদ দমন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে।
জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডসহ সকল হত্যাকাণ্ড, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা, চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের উপর বোমা হামলাসহ সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আইনানুগ বিচার আমরা নিশ্চিত করবো।
বাংলাদেশে যাতে কোনরকম জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত হতে না পারে সেজন্য সরকার কার্যকর পদড়্গেপ গ্রহণ করেছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সকল সদস্যকে রেশনের আওতায় আনা হয়েছে।
সরকার ড়্গমতায় আসার ৪ মাসের মধ্যে পুলিশের সব সদস্যদের মধ্যে শতভাগ রেশন সুবিধা প্রবর্তন করেছে এবং রেশনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিডিআর, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও কারা অধিদপ্তরের সদস্যদের রেশন সুবিধার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশের জনবল বৃদ্ধির জন্য ৩২ হাজার সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিডিআরকে আরো কার্যকর করার জন্য পুনর্গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
বাঙালির ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরড়্গণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্প বাসত্মবায়িত হচ্ছে।
১৪২টি শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ১৯৭২ সালের নির্ধারিত মূল্যের ভিত্তিতে পরিত্যক্ত বাড়ী হসত্মানত্মর করা হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানীভাতা বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৫৯ বছরে উন্নীত করেছি।
সুষ্ঠু হজ্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ফলে এবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫৯ হাজার হজ্বযাত্রী নির্বিঘ্নে পবিত্র হজ্ব পালন করেছেন।
৫লাখেরও বেশী ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।
এবারই প্রথম খ্রীষ্ট্রান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টিবোর্ড গঠন করা হয়েছে।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টান কল্যাণ ট্রাষ্টের অনুদানের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মসজিদ ভিত্তিক কার্যক্রমের আওতায় সাড়ে ৫ লাখ শিশু ও বয়স্ককে প্রাক-প্রাথমিক শিড়্গা এবং সাড়ে ৪ লাখ শিশু-কিশোরকে কোরান শিড়্গা দেয়া হচ্ছে।
ক্রীড়াড়্গেত্রে উন্নয়নের জন্য পদড়্গেপ নেয়ায় ক্রীড়াঙ্গন সাফল্যের ধারায় ফিরে এসেছে।
আমাদের ক্রিকেট দল ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে টেষ্ট ও ওয়ান ডে সিরিজ জয় করেছে। জিম্বাবুই-এর বিরম্নদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজ জিতেছে। বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ফুটবলকে আমরা মর্যাদার আসনে ফিরিয়ে এনেছি। সাউথ এশিয়ান গেমস ২০১০-এর আয়োজক ও বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১১-এর সহ আয়োজক হিসাবে বাংলাদেশ-এর নির্বাচন আনত্মর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
পর্যটন শিল্পকে শক্তিশালী করতে কক্সবাজার ও কুয়াকাটার উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল যা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় সেখানেও উন্নয়ন করা হবে।
প্রিয় দেশবাসী,
‘‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো সঙ্গে শত্রম্নতা নয়’’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও আনত্মর্জাতিক সম্পর্কের মূলমন্ত্র।
এরই মধ্যে আমি ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ ও প্রতিবেশী দেশে দ্বিপাড়্গিক সফর এবং বিভিন্ন আনত্মর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি।
জাতিসংঘের ৬৪তম সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়ে আমি জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে অনত্মর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছি।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ২৫টি নির্বাচিত দেশের রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিয়ে বাংলাদেশসহ ড়্গতিগ্রসত্ম দেশগুলোর কথা তুলে ধরেছি।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে জাতিসংঘ শানিত্মরড়্গা কার্যক্রমে শীর্ষস্থানীয় দশটি সৈন্য প্রেরণকারী দেশের নেতৃবৃন্দের বৈঠকে অংশগ্রহণ করে শানিত্ম মিশনের নীতি-নির্ধারণীতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত করার কথা আমি তুলে ধরেছি।
আমরা বলেছিলাম, নির্বাচিত হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে সুসংহত করবো। জাতীয় সংসদকে কার্যকর করবো। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ৪৮টি সংসদীয় কমিটি ও স্থায়ী কমিটি আমরা গঠন করেছি। অন্যান্য দল থেকে ৭ জন সংসদ সদস্যকে বিভিন্ন কমিটির সভাপতির পদ দেয়া হয়েছে। এটাও বাংলাদেশে প্রথম।
প্রিয় দেশবাসী,
আমাদের প্রতি আপনারা যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন তার মর্যাদা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।
আমরা চাই ২০১২ সালের মধ্যে একটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ।
২০১৩ সালের মধ্যে ডিগ্রী পর্যায় পর্যনত্ম শিড়্গাকে অবৈতনিক করতে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি।
২০১৫ সালের মধ্যে সকল গৃহহীন মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে চাই। বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না।
২০১৩ সাল নাগাদ ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে চাই।
২০১৩ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে উন্নীত করতে চাই যাতে বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে।
আমরা ২০২১ সালের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হার বর্তমানের হাজারে ৫৪ থেকে কমিয়ে ১৫ এবং মাতৃমৃত্যুর হার ৩.৮ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাই।
ইনশালস্নাহ্ আমাদের সম্মিলিত পরিশ্রম, আনত্মরিকতা এবং আপনাদের সমর্থনে আমরা একাজে সফলতা অর্জন করতে পারবো।
আমরা চাই, গতানুগতিক রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনীতির ধারা প্রতিষ্ঠা করতে। তাই আমরা বিরোধীদলকে সংসদে ফিরে এসে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রিয় দেশবাসী,
আজ থেকে ৩৮ বছর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যারা জীবন দিয়ে স্বাধীনতা এনেছিলেন তাদের রক্তঋণ শোধ করতে হবে।
সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন বাংলাদেশের দুখী-দরিদ্র মানুষ দুবেলা খাবার পাবে, মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে, চিকিৎসার সুযোগ পাবে। আমরা সব মানুষের জন্য উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে চাই।
২০২১ সাল- বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়নত্মী।
২০২০ সাল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।
২০২১ সালে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অশিড়্গার অন্ধকার থাকবে না। যেখানে দারিদ্র্য থাকবে না। মানুষ তার সম্মান নিয়ে, মর্যাদা নিয়ে সমৃদ্ধ জীবন গড়ে তুলবে।
আমরা ২০২১ সালে সেই বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি যে বাংলাদেশ হবে শিড়্গা-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অগ্রসর - ডিজিটাল বাংলাদেশ।
আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশ্ব দরবারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে বলবে- আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা, যে কথা জাতির জনক বলে গিয়েছিলেন।
সেই স্বপ্ন নিয়েই আমাদের পথচলা। আসুন, আলোকিত এই পথের সন্ধানে ঐক্যবদ্ধ হই। সংকীর্ণ ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গড়ে তুলি সোনার বাংলাদেশ।
সবাইকে আনত্মরিক ধন্যবাদ।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।
Wednesday, January 6, 2010
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ গ্রন্থে ইতিহাস বিকৃতি
শেখ মুজিবের নাম থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি বাদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠ তারিখ নেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ গ্রন্থে ইতিহাস বিকৃতি
অভিজিত ভট্টাচার্য: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ (১-৭ খণ্ড) গ্রন্থের কিছু কিছু অংশে ইতিহাস বিকৃতি, তথ্যবিভ্রানিত্ম, অতিরঞ্জন, অবমূল্যায়ন, পুনরাবৃত্তি, ভাষার ত্রুটিবিচ্যুতি ও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কিত বইটি যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে আনুপূর্বিক সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন ছাড়া বইটি কোথাও বিতরণ করা সমীচীন নয়।
পাঠ্যপুসত্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্বলিত বিষয় সংযোজন সংক্রানত্ম কমিটি তাদের খসড়া প্রতিবেদনে এ মতামত দিয়েছে। আজকালের মধ্যে প্রতিবেদনটি শিক্ষা সচিব সৈয়দ আতাউর রহমানের কাছে জমা দেয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাসদরের শিক্ষা পরিদফতর থেকে ২০০৮ সালে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ নামে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। মোট ৭টি খণ্ডে ৮টি বই প্রকাশ করা হয়। এগুলো পরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে বিতরণ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পাদিত ওই বইয়ের যথার্থতা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ২০০৯ সালের ১৩ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে একইবছরের ২৮ জুলাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। ওই বইয়ের পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য চিঠিতে বলা হয়। এরকম পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য পাঠ্যপুসত্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত বিষয় সংযোজন কমিটিকে দায়িত্ব দেয়। ৮ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ এবং সদস্য সচিব হচ্ছেন নায়েমের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক জিয়াউল হাসান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন পাটোয়ারি, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক মু. নাজমুল হক, অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক, অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী।
খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, বইটির প্রথম খণ্ডের প্রথম পর্ব বইয়ের ১০৮ নম্বর পৃষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়ার ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বইয়ে সবসময় ‘শেখ মুজিব’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভূমিকাকে সচেতনভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। একই খণ্ডের একই পর্বের ৩০৬ নম্বর পৃষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সম্পর্কে তথ্যের বিভ্রানিত্ম রয়েছে। এ পৃষ্ঠায় মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠনের কথা উলেস্নখ করা হলেও ‘মুজিবনগর’ নামটি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি প্রবাসী সরকারের ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকগুলো গুরুত্ব পায়নি। একই খণ্ড ও একই পর্বের ৬৬৩ নম্বর পৃষ্ঠা ও একই খণ্ডের দ্বিতীয় পর্বের ১ হাজার ৩৫৪ নম্বর পৃষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের কন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা সম্প্রচারের তারিখ অনুলেস্নখিত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বইটি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রণীত হওয়ায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কথাই বেশি বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক, সামাজিক শক্তির ভূমিকা গুরুত্বসহকারে স্থান পায়নি। এছাড়া বইটি রচনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে উলেস্নখ নেই। বইটির কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য যেসব লেখক, সম্পাদক ও বিশেষজ্ঞের নাম থাকা দরকার তা নেই। ফলে বইয়ের তথ্য উপস্থাপন, ধারাবাহিকতা, ভাষারীতি, বানান, উদ্ধৃতি নির্দেশের ক্ষেত্রে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এমনকি প্রথম খণ্ডের প্রথম পর্বের উপসংহার আর দ্বিতীয় পর্বের উপসংহার একই হয়েছে। সম্পাদনা: হাসান জাকির
অভিজিত ভট্টাচার্য: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ (১-৭ খণ্ড) গ্রন্থের কিছু কিছু অংশে ইতিহাস বিকৃতি, তথ্যবিভ্রানিত্ম, অতিরঞ্জন, অবমূল্যায়ন, পুনরাবৃত্তি, ভাষার ত্রুটিবিচ্যুতি ও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কিত বইটি যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে আনুপূর্বিক সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন ছাড়া বইটি কোথাও বিতরণ করা সমীচীন নয়।
পাঠ্যপুসত্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্বলিত বিষয় সংযোজন সংক্রানত্ম কমিটি তাদের খসড়া প্রতিবেদনে এ মতামত দিয়েছে। আজকালের মধ্যে প্রতিবেদনটি শিক্ষা সচিব সৈয়দ আতাউর রহমানের কাছে জমা দেয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাসদরের শিক্ষা পরিদফতর থেকে ২০০৮ সালে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ নামে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। মোট ৭টি খণ্ডে ৮টি বই প্রকাশ করা হয়। এগুলো পরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে বিতরণ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পাদিত ওই বইয়ের যথার্থতা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ২০০৯ সালের ১৩ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে একইবছরের ২৮ জুলাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। ওই বইয়ের পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য চিঠিতে বলা হয়। এরকম পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য পাঠ্যপুসত্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত বিষয় সংযোজন কমিটিকে দায়িত্ব দেয়। ৮ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ এবং সদস্য সচিব হচ্ছেন নায়েমের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক জিয়াউল হাসান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন পাটোয়ারি, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক মু. নাজমুল হক, অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক, অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী।
খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, বইটির প্রথম খণ্ডের প্রথম পর্ব বইয়ের ১০৮ নম্বর পৃষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়ার ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বইয়ে সবসময় ‘শেখ মুজিব’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভূমিকাকে সচেতনভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। একই খণ্ডের একই পর্বের ৩০৬ নম্বর পৃষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সম্পর্কে তথ্যের বিভ্রানিত্ম রয়েছে। এ পৃষ্ঠায় মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠনের কথা উলেস্নখ করা হলেও ‘মুজিবনগর’ নামটি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি প্রবাসী সরকারের ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকগুলো গুরুত্ব পায়নি। একই খণ্ড ও একই পর্বের ৬৬৩ নম্বর পৃষ্ঠা ও একই খণ্ডের দ্বিতীয় পর্বের ১ হাজার ৩৫৪ নম্বর পৃষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের কন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা সম্প্রচারের তারিখ অনুলেস্নখিত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বইটি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রণীত হওয়ায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কথাই বেশি বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক, সামাজিক শক্তির ভূমিকা গুরুত্বসহকারে স্থান পায়নি। এছাড়া বইটি রচনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে উলেস্নখ নেই। বইটির কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য যেসব লেখক, সম্পাদক ও বিশেষজ্ঞের নাম থাকা দরকার তা নেই। ফলে বইয়ের তথ্য উপস্থাপন, ধারাবাহিকতা, ভাষারীতি, বানান, উদ্ধৃতি নির্দেশের ক্ষেত্রে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এমনকি প্রথম খণ্ডের প্রথম পর্বের উপসংহার আর দ্বিতীয় পর্বের উপসংহার একই হয়েছে। সম্পাদনা: হাসান জাকির
নানা আয়োজনে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নানা আয়োজনে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
ঢাকা, জানুয়ারি ০৪ নানা আয়োজনে পালিত হলো দেশের অন্যতম প্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সোমবার রাতের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ৩০ পাউন্ডের কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। এসময় বিভিন্ন শাখা থেকে আসা কর্মীদের মধ্যে ৬০ কেজি মিষ্টি বিতরণ করা হয়। (আরো তথ্যসহ) সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ। দেশাত্মবোধক গান, বক্তৃতা আর মুহুর্মুহু স্লোগানের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে জমে উঠতে থাকে সমাবেশস্থল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ, তেজগাঁও কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা থেকে নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় সংগঠনের এ কর্মসূচিতে যোগ দেয়। বেলা বারোটার দিকে সংগঠনের সাবেক নেতারা মঞ্চে আসেন। এরপর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা। ওড়ানো হয় বেলুন ও কবুতর। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের। এরপর রঙ-বেরঙের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, ব্যানার এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি নিয়ে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। লালপেড়ে সবুজ শাড়ি পরে শোভাযাত্রার পুরোভাগে ছিল ছাত্রলীগের নারীকর্মীরা। শোভাযাত্রাটি অপরাজেয় বাংলা থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, কাকরাইল, বিজয় নগর, পল্টন মোড় হয়ে আওয়ামী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বিবাদ-বেদনা ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "১৬ কোটি মানুষের ভাগ্যবদল করতে নিজেদেরকে বদলে ফেলাই ছাত্রলীগের একমাত্র এজেন্ডা। "এজন্য অতীত দিনের দুর্নাম, জঞ্জাল মুছে, বিবাদ ও বেদনা ভুলে নতুন আশার মালা গেঁথে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। নিজেদের আচার-আচরণ, মন-মানসিকতা ও সংস্কৃতিতে আমূল বদলে যেতে হবে। মেধাবীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে।" তিনি বলেন, "আজকের ছাত্র রাজনীতি যদি মেধাশূন্য হয়ে যায়। তাহলে ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিও মেধাশূন্য হয়ে যাবে। ফলে দেশ সঠিক দিক নির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হবে।" অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম, লিয়াকত শিকদার, বাহাদুর ব্যাপারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, অজয় কর খোকন, আব্দুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে নাইমউদ্দিন আহম্মেদকে আহ্বায়ক করে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ১৯৪৯ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর আরমানিটোলায় ছাত্রলীগের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে দবিরুল ইসলাম সভাপতি ও মোহাম্মদ আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
৫২'র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৬'র ছয়দফা আন্দোলন, ৬৯'র গণঅভ্যূত্থান ও মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির অধিকার আদায়ের বিভিন্ন সংগ্রাম এবং আশি দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল ছাত্রলীগের। এদিকে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে ৬২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপন করেছে জাসদ ছাত্রলীগ। ডাকসু ভবন চত্বরে এর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্রলীগের একটি অংশ বেরিয়ে গিয়ে জাসদ গঠন করে। তাদের স্লোগান ছিল 'বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র'। এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন হাসানুল হক ইনু। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ মইনুদ্দিন খান বাদল , শিরিন আখতার, সৈয়দ নুরুল আম্বিয়াসহ আরো অনেকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডাকসু চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের ১২ মাসের হিসাব-নিকাশ
প্রফেসর ড. মোঃ আসলাম ভূইয়া
গণতান্ত্রিক সরকারের জবাবদিহিতা করতে হয় তাদের কার্যক্রমের জন্য, রাজনৈতিক দল ড়্গমতায় আসার পূর্বে জনগণকে দেয়া তাদের অঙ্গীকার যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা জনগণ অবশ্যই বিচার-বিশ্লেষণ করার অধিকার রাখে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে এ জবাবদিহিতার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনের পূর্বে প্রথমবারের মতো ইশতেহার প্রকাশ করে তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করে। অতএব আওয়ামী লীগ সরকারের দেশ শাসনের দড়্গতা ও সুব্যবস্থাপনার হিসাব-নিকাশ করার সময় উপরোক্ত প্রেড়্গাপট বিচেনায় রাখা যুক্তিযুক্ত মনে করি। ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচির প্রাধান্য ক্রমানুসারে কতোটুকু বাস্তবায়ন করতে পারছে তা ১ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার মুর্হূতে মূল্যায়ন করা জনগণের অধিকার। মূল্যায়ন করার ড়্গেত্রে সবাইকে ড়নলবপঃরাব হতে হবে। কোনো তথ্যের বিকৃতি কিংবা অতিরঞ্জন করা সমীচীন হবে না। এ বিষয় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিকাশমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আলোকে বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বিরাজমান অব্যবস্থাকে বিবেচনায় রেখে এ মূল্যায়ন করাই হবে বাঞ্ছনীয়। সামাজিক কল্যাণকর রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্র যে ভূমিকা পালন করে অনুরূপ ভূমিকা প্রাথমিক লুম্পেন বুর্জোয়া ব্যবস্থাপনায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা নেতিবাচক হওয়াটাই স্বাভাবিক। ইতিহাস তাই বলে। এর ব্যত্যয় ঘটেছে বলে কোনো দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল। সীমাহীন সমস্যা জর্জরিত একটি তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশে সকল সমস্যা সরকার ১ বছরে সমাধান করে ফেলবে এমন আশা করা সম্পূর্ণরূপে মূর্খতার শামিল। রাজনৈতিক বৈপরীত্য থাকলে ও এমন দূরাশা জাগিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করাও সম্পূর্ণ যুক্তিহীন ও অগ্রহণযোগ্য। ১. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ :বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থাধীনে দুর্নীতি সম্পূর্ণ নির্মূল করা অলীক চিন্তা। কোনো জ্ঞানী প্রজ্ঞাবান মানুষ এরূপ অলীক দাবি করবে না কিন্তু দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। দুর্নীতি সমাজ ব্যবস্থাকে আঘাত করবে না এবং দৃশ্যমানও হবে না এমন অবস্থায় নেয়া সম্ভব। ১২ মাসে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়নি। সেজন্য বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দুর্নীতিতে ১নং রাষ্ট্র আর নয়। এখন বাংলাদেশের অবস্থান ১০তম। দুর্নীতিদমন সংস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন। সরকার দুর্নীতি দমন সংস্থার ওপর কোনোরকম হস্তড়্গেপ করছে না। অর্থাৎ দুর্নীতি দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে ধ্বংস করার কোনো সুযোগ পাবে না। পুঁজিবাদী দেশেও দুর্নীতি আছে তবে যৌক্তিক পর্যায়। বাংলাদেশ গরিব দেশ দুর্নীতি থাকবে। তবে গ্রহণযোগ্য স্তরে থাকবে। এটাই এ সরকারের জন্য একটি সাফল্য। দেশের সম্পদ পাচার করার মতো দুর্নীতি যাতে না হয় সেদিকে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি। কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সরকারের সাফল্যের খাতায় এ হিসাব অবশ্যই লিপিবদ্ধ যোগ্য।২. অবকাঠামো নির্মাণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা :সার্বিক উন্নয়নের জন্য যে সকল অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন, তার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যতম। শিল্পায়ন এবং উৎপাদিত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এ বিবেচনায় সরকার ১ বছরের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য কিছু পদড়্গেপ নিয়েছে। সরকার বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েকে চার লেনে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে টেন্ডার ও কার্যাদেশ প্রদান করেছে। সহসা নির্মাণ কাজ শুরু হবে।এছাড়াও ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের (স্থলপথে) অর্থাৎ পড়হহবপঃরারঃু বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক আলাপ-আলোচনায় সমঝোতা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৮ বছরের একটি সমস্যা সমাধান হতে চলেছে। সরকার বসে নেই কর্মতৎপরতা আছে এবং সফলতাও আছে। ঢাকাসহ বৃহত্তর নগরগুলোর যানজট নিরসনে একাধিক পদড়্গেপ নিয়েছে। যেমন, ঊীঢ়ৎবংং ডধু, ফ্লাইওভার নির্মাণ করার কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। রেল পথের উন্নয়নের কাজও চলছে। পাতাল রেল নির্মাণের ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজে সরকারের সাফল্য রীতিমত ঈর্ষণীয়। সকল প্রকার পরিকল্পনা, অনুমোদন, দরপত্রের খসড়াও, সেতুর নমুনা সম্পন্ন হয়েছে, অর্থায়নের ব্যবস্থা হয়েছে। এ বিশাল সেতু নির্মাণের কাজ আগামী বছরে শুরু হবে। সরকারের মেয়াদকালে নির্মাণ কাজও সম্পন্ন করতে সরকার আশাবাদী।৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি :বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সকল উন্নয়ন, বিশেষ করে শিল্প-কারখানা ও বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন বিদ্যুৎ ও গ্যাস। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বহুল এবং সময় সাপেড়্গ ও বটে। রাতারাতি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা যায় না। বিগত শাসনামলে আওয়ামী লীগ সরকার অতিরিক্ত ২৫০০ মে. ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছিল। এরপর আর বিদ্যুৎ খাতের কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। জরুরি ভিত্তিতে সরকার এক বছরের মধ্যে প্রায় ৩৫০ মে. ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছে। গ্যাস উত্তোলনের ও প্রক্রিয়া চলছে। আগামী বছর বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার কাজও শুরু হবে। সরকার ১২ মাসে যে কাজ করেছে বিগত সরকারগুলো তা ৭ বছরেও করতে পারেনি। এটা সরকারের সফলতার স্বাড়্গর বটে।৪. শিড়্গানীতি প্রণয়ন : দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত দেশে নতুন শিড়্গানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশ্চাৎপদ শিড়্গানীতিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে সড়্গম এমন একটি নতুন শিড়্গানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রণীত শিড়্গানীতি বাস্তবায়িত হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাঠ্যসূচিতে প্রাধান্য পাবে। বিগত শাসনামলে আওয়ামী লীগ সরকার ইতিমধ্যে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছিল যা প্রণীত শিড়্গানীতি সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। স্কুল-কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। শিড়্গা নাগরিক অধিকার এ কথা স্মরণ রেখেই শিড়্গানীতি গ্রহণ করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিড়্গার সুযোগ পাবে সবাই। ছাত্রীরা উপবৃত্তি যথারীতি পাবে। নারী শিড়্গা উৎসাহিত করার জন্যই এ নীতিমালা গৃহীত হয়েছে। ফলে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিড়্গায় ছাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সকল ধরনের শিড়্গাকে এক করা হয়েছে। এতে শিড়্গা বৈষম্য হ্রাস পাবে। সবার জন্য শিড়্গা নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২ মাসে এ কঠিন কাজটি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে যা ৩৮ বছরে সম্ভব হয়নি। সরকারের শিড়্গা কর্মসূচিকে ব্যর্থ করার জন্য দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রীয় পুস্তুক গুদামে অগ্নিসংযোগ করে প্রাথমিক শিড়্গার্থীদের জন্য সংরড়্গিত পুস্তক পুড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু সরকার যথাসময়ে পুস্তক বিতরণ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এড়্গেত্রেও সরকারের সাফল্য উলেস্নখযোগ্য।৫. অর্থনীতি :অর্থ ব্যবস্থায় সরকারের সাফল্য তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন- মুদ্রানীতি যথেষ্ট সাফল্যের স্বাড়্গর রেখেছে। বিশ্ব অর্থনীতি মন্দা ও সংকটে যখন পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে বিপর্যয় ঘটেছে, এমনকি প্রাচ্যের বহু দেশের মুদ্রামানে ধস নামে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে, তাতে সবাই আশঙ্কা করেছিল বাংলাদেশে এর প্রভাব তীব্র হবে এবং মুদ্রার মানের ধস নামবে। কিন্তু তা হয়নি। মুদ্রার মান যথার্থভাবে সংরড়্গিত আছে। বরং আগের চাইতে শক্তিশালী হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির হারও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সড়্গম হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করে বেতন বৃদ্ধির পরও মুদ্রাস্ফীতি ঘটেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দশ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।৬. কৃষি : সরকারকে খাদ্যশস্য ব্যাপকভাবে আমদানি করতে হয়নি। অভ্যন্তরীণ কৃষিনীতি সফল হওয়াতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্য ঘাটতি পূরণ হয়েছে। আমদানি করার প্রয়োজন হয়নি। কৃষি খাতে ভর্তুকি, ঋণ সহজলভ্য সর্বোপরি ডিজেলের মূল্য হ্রাস এবং অর্ধেক মূল্যে সার সরবরাহসহ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। যে কারণে খাদ্য মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ড়্গমতার মধ্যে রাখা সম্ভব হয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের মূল্যহ্রাস সরকারের একটি বড় ধরনের অঙ্গীকার ছিল। খাদ্য অভাব লাঘব করার জন্য সরকার ভিজিএফ, ভিজিডি কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ লাখ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করছে। এখন দেশে মঙ্গা শব্দটি আর উচ্চারিত হয় না। এটা অবশ্যই সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও সফলতা।৭. প্রাকৃতিক দুর্যোগ :একথাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে জলবায়ু পরিবর্তনের এর কারণে বহু দেশে খরা হয়েছে। খরার কারণে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। যেমন চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল ইত্যাদি ফসল ভালো না হওয়াতে সারা বিশ্বে কৃষিপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশেও আবহাওয়ার পরিবর্তনে খরা-অতিবৃষ্টিসহ সাইক্লোন যেমন- সিডর, আইলা ইত্যাদি দেশের দড়্গিণাঞ্চলে ব্যাপক ড়্গয়ড়্গতি করেছে। মানুষ গৃহহীন হয়েছে। ফসল নষ্ট হয়েছে, গবাদি-পশুর সমূহ ড়্গতি হয়েছে। মোট কথা সম্পদহানি ঘটেছে। এ ধরনের প্রতিকূল অবস্থা সরকারের প্রণীত কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সরকার দুর্যোগপূর্ব এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ ড়্গতি অনেকাংশে হ্রাস করতে পরবর্তীতে সড়্গম হয়। ড়্গতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্য প্রদান করার মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করছে। এ উদ্যোগ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশের কার্যক্রমকে বিশ্বে দুর্যোগ মোকাবেলার মডেল হিসেবে গ্রহণ করেছে।৮. সুশাসন ও স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীয়করণ :সরকার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সকল মন্ত্রণালয়ের জন্য সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এ সংসদীয় কমিটি কাজ করছে। প্রত্যেক সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সাংসদ আছেন। শুধু তাই নয় এবারই প্রথম সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিরোধীদলীয় সাংসদকে করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটা অবশ্যই একটি গুণগত পরিবর্তন। স্থানীয় শাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য দীর্ঘদিন পর উপজেলা নির্বাচন করা হয়েছে। সরকার স্থানীয় মাঠ পর্যায় সুশাসন কার্যকর করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ আইন প্রণয়ন করেছে।৯. বিচার ব্যবস্থা : বিচারিক কাজ আইনজ্ঞ জুডিশিয়াল ক্যাডার দ্বারা সম্পন্ন করা হবে। নির্বাহী বিভাগ বিচারকার্যে হস্তড়্গেপ করতে পারবে না। এখন কার্যকরভাবে বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন ও প্রশাসন থেকে আলাদা হয়েছে।জাতির জনকের পরিবার পরিজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অসমাপ্ত বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত আত্বস্বীকৃত খুনিদের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছে। দেশে যে আইনের শাসন আছে তা প্রতিষ্ঠিত করে এ সরকার বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের আইন-আদালতের অবস্থান সমুন্নত করছে। দেশের ভাবমূর্তিও পুনরুদ্ধার করেছে।যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য অনেক দূর এগিয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি অপরাধের বিলম্বিত বিচার কাজ অবশেষে শুরু করতে যাচ্ছে। সরকারের প্রদত্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে এবং এর মধ্য দিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হবে।১০. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ প্রবাহ :সরকার সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায়। তথ্য উন্মুক্ত করা এবং অবাধ তথ্যপ্রবাহের জন্য সরকার ইতিমধ্যে তথ্য কমিশন গঠন করেছে। প্রিন্টিং মিডিয়া অথবা ইলেকট্রিক মিডিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সরকার বিগত সরকার অনুমোদিত কোনো গণমাধ্যমের ওপর হস্তড়্গেপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেনি। এটাই সরকারের সফলতার স্বাড়্গর। ১১. পররাষ্ট্রনীতি ও বিশ্ব সমাজে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি : বাংলাদেশ সরকার জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে সড়্গম হয়েছে। বিশ্বমন্দার কারণে যতোসংখ্যক বিদেশে কর্মরত শ্রমিকের দেশে ফেরত আসার আশঙ্কা করা হয়েছিল তা কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোধ করা হয়েছে। বরং আরো নতুন শ্রম বাজার বিস্তার হয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি হয়েছে। বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটেছে। অনতিদূরে বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরো নিবিড় হবে বলে ইতিমধ্যে সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। কয়েকটি নতুন চুক্তিও হবে ভারতের সঙ্গে যা দু দেশেরই স্বার্থ সংরড়্গণ করবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন দিগন্ত উন্মেচন করছেন। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত দুর্যোগ মোকাবেলা বাংলাদেশ একটি আদর্শ মডেল হিসেবে স্বীকৃত পেয়েছে। এ সবই পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য।ব্যর্থতা :ক. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অদড়্গতার কারণে এবং বিশ্ববাজারের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য যতোটা নিয়ন্ত্রিত ছিল তা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। সরকারের সফলতা যতোটা উজ্বল হয়ে জনগণকে আলোকিত করেছিল তা কিছুটা অনুজ্জ্বল হয়েছে। এ বাস্তবতা সরকারকে স্বীকার করতে হবে। খ. জনসংখ্যা : জনসংখ্যা বাধাহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধে সরকার কোনো কার্যকর পদড়্গেপ গ্রহণ করেনি। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ কোনো অপঃরড়হ চৎড়মৎধসসব গ্রহণ করেনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বাংলাদেশের ১নং সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে সরকারের যথোপযুক্ত পদড়্গেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল। গ. আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ : আইন-শৃঙ্খলা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, বিশেষ করে জেলা পর্যায় সরকার সফল, বড় বড় নগরগুলোতে এতোটা সফল নয়। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ইত্যাদি বৃহৎ নগরগুলোতে প্রত্যাশিতভাবে কমেনি বা হ্রাস পায়নি। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এখনো নীরবে চলছে। পুলিশ কার্যকর ভূমিকা অর্থাৎ নিরপেড়্গ ভূমিকা গ্রহণ করলে পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ করলে ১২ মাসের সরকারের পালস্না সফলতায় ভারী তবে ব্যর্থতার পালস্না কম হলেও গুরুত্বহীন নয়। সরকারকে আরো মনোযোগী হতে হবে। প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দড়্গতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারের হাতে ৪ বছর সময় আছে। মানুষের প্রত্যাশা অবশেষে ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার সফল হবে। রূপকল্প ২০২১ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সড়্গম হবে। রূপকল্প অর্জন করতে সড়্গম হলে জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হবে। প্রফেসর ড. মোঃ আসলাম ভূইয়া : শিড়্গাবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানী।
বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ দুবাইয়ের উদ্বোধন
বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ দুবাইয়ের উদ্বোধন

দুবাই সোমবার উদ্বোধন করেছে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন ’বুর্জ দুবাই। ২০০তলা বিশিষ্ট এ টাওয়ারের উচ্চতা ৮০০মিটার। সব রেকর্ড ছাড়িয়ে আত্মপ্রকাশ করার মধ্য দিয়ে দুবাই শহরের মর্যাদা বাড়িয়ে দিল বুর্জ দুবাই। বুর্জ দুবাইয়ের নির্মাতা ইমার প্রোপার্টিস পিজেএসসি ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ২০০৪ সাল থেকে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করে। তবে ভবনটির সঠিক উচ্চতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বুর্জ দুবাইয়ের ২০০ তলার মধ্যে ১৬৫টি বাসযোগ্য বলে জানিয়েছেন এর চেয়ারম্যান। ২০০৪ সালে নির্মাণকাজ শুরুর ১, ৩২৫ দিন পর ভবনটি উদ্বোধন করা হল। টাওয়াটির কাঠামোর ৩৩০,০০০ কিউবিক মিটার কংক্রীট, ৩৯,০০০ মিটার স্টিল, ১০৩,০০০ স্কয়ার মিটার কাঁচ এবং ১৫,৫০০০ স্কয়ার মিটার স্টেইনলেস স্টীলের তৈরি। ওজন ৫০০,০০০ টন। মোট আয়তন ৫ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন স্কয়ার ফিট। এর মধ্যে আবাসিক এলাকা ১ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন স্কয়ার ফিট। আর ৩০০,০০০ স্কয়ার ফিট অফিস এলাকা। এছাড়াও এতে আছে সুইমিং পুল, পর্যবেক্ষণ ডেক, রেস্টুরেন্ট এবং বিলাসবহুল হোটেলও।
৩৮ বছর ধরে সংরক্ষিত
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের হাতের লেখা একটি চেক নিয়ে জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের মরহুম সেকান্দার আলী সেরনিয়াবাতের পরিবারে ৩৮ বছর ধরে নীরব কান্না চলছে। বর্তমানে এই স্মৃতিটুকু তার ছোট ছেলে রাজীব সেরনিয়াবাতের কাছে সংরড়্গিত রয়েছে। তারা এদিকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে নিয়ে সংরড়্গণের দাবি জানিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন ত্রাণ তহবিল থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের কৃষক সেকান্দার আলী সেরনিয়াবাতকে ৩ হাজার টাকার অনুদানের চেক দেন। চেকটি বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে স্বাড়্গরিত। চেকটিতে উলেস্নখ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল। সোনালী ব্যাংক স'ানীয় কার্যালয়, ঢাকা। একাউন্ট নং-৪৬৯৩। চেকটি গ্রাহকের হাতে পৌঁছে জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তায়। চেক পাওয়ার পর গ্রাহক টাকা কালেকশনের জন্য সেটি তৎকালীন অগ্রণী ব্যাংক গৌরনদী শাখায় জমা দেন। কিছুদিন পর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ঘাতকদের হাতে শহীদ হন। শেখ মুজিব শহীদ হওয়ার কয়েক দিন পর গ্রাহক ব্যাংকে যোগাযোগ করলে ব্যাংক কর্তৃপড়্গ তাকে জানিয়ে দেন, বঙ্গবন্ধু নেই টাকাও নেই। গ্রাহক তখন কোনো প্রতিবাদ না করে ভারাক্রান- মন নিয়ে ঘরে ফিরে চেকটি সংরড়্গণ করে রাখেন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চেকের গ্রাহক ছিলেন বঙ্গন্ধুর ভক্ত। তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সরাসরি পরিচিতও ছিলেন। সেকান্দার আলী সেরনিয়াবাত কয়েক বছর আগে মার যান। মৃত্যুর আগে তিনি তার ছোট ছেলে রাজীব সেরনিয়াবাতের কাছে চেকটি দিয়ে তা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে সংরড়্গণ করতে বলেছেন।
Tuesday, January 5, 2010
হামলার পর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই সবকিছু করা হয়েছে
হামলার পর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই সবকিছু করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদে
সাবেক আইজিপি শহুদুল হক
২১ গ্রেনেড হামলা
০ পিনাকি দাসগুপ্ত
বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় এবার সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের সাবেক আইজি শহুদুল হককে। অপর দিকে গ্রেনেড হামলা মামলার গুরম্নত্বপূর্ণ আসামি ভারতের তিহার জেলে আটক দুই ভাই মোর্সালিন ও মোসৱাকিনকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার তদনেৱর মেয়াদ গতকাল সোমবার আদালত ২ মাস বাড়িয়েছে। এ নিয়ে মামলার অধিকতর তদনৱকালে সিআইডি সাবেক দুই আইজিপি ও সাবেক ডিএমপির কমিশনারসহ বেশ কয়েক পুলিশ কর্ম-কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিআইডি সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সময় পুলিশের আইজি ছিলেন শহুদুল হক। তিনি ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও
আহতদেরকে দেখতে যাওয়া মনে করেননি। গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ব্যসৱ ছিলেন। তার নির্দেশেই সেদিন পুলিশ তড়িঘড়ি করে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেছিল। রবিবার ও গতকাল সোমবার মালিবাগ সিআইডি দফতরে শহুদুল হককে দুই দফায় প্রায় পাঁচ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদনৱ কর্মকর্তা।
তিনি বলেছেন, ঘটনার পর যা কিছু হয়েছে তা সবটাই হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ মতো। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপর। ডিএমপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কমিশনারই সব কিছু তদারকি করেছেন। তাছাড়া ওই সময় ডিএমপিতে দায়িত্বরত অন্য কর্মকর্তারাই ভাল বলতে পারবেন। তাকে কোন কিছু আগাম জানানো হয়নি। সূত্র জানায়, সাবেক আইজিপি শহুদুল হকের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাকে আবারও ডাকা হবে।
মামলা সংশিস্নষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, অন্য আসামি মোর্সালিন ও মোসৱাকিন ভারতের তিহার জেলে আটক রয়েছে। তারা হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার অনেক অজানা তথ্য জানা যাবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়েছে। তারা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে বিষয়টি চূড়ানৱ হতে পারে।
সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দী বিনিময় চুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুলস্নাহ আরেফ কলকাতা পুলিশের সহায়তায় ৭ সন্ত্রাসীকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন। কথা ছিল ভারতে কয়েকজন সন্ত্রাসীকে ফেরত পাঠানো হবে। কিন্তু সেসময় বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ পুলিশ ভারতের কোন সন্ত্রাসীকে ফেরত পাঠাতে পারেনি। ফলে ভারতে আটক বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর হলেও ভারতে আটক বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের ফেরত আনার ব্যাপারে বরফ গলতে শুরম্ন করেছে। আদালত প্রতিবেদক জানান, মামলার তদনেৱর মেয়াদ দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। মামলার অধিকতর তদনৱ কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ তদনৱ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৪ মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ এএনএম বশির উলস্নাহ দুই মাস বাড়ান এবং চার মাসের মধ্যে তদনৱ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
সাবেক আইজিপি শহুদুল হক
২১ গ্রেনেড হামলা
০ পিনাকি দাসগুপ্ত
বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় এবার সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের সাবেক আইজি শহুদুল হককে। অপর দিকে গ্রেনেড হামলা মামলার গুরম্নত্বপূর্ণ আসামি ভারতের তিহার জেলে আটক দুই ভাই মোর্সালিন ও মোসৱাকিনকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার তদনেৱর মেয়াদ গতকাল সোমবার আদালত ২ মাস বাড়িয়েছে। এ নিয়ে মামলার অধিকতর তদনৱকালে সিআইডি সাবেক দুই আইজিপি ও সাবেক ডিএমপির কমিশনারসহ বেশ কয়েক পুলিশ কর্ম-কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিআইডি সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সময় পুলিশের আইজি ছিলেন শহুদুল হক। তিনি ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও
আহতদেরকে দেখতে যাওয়া মনে করেননি। গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ব্যসৱ ছিলেন। তার নির্দেশেই সেদিন পুলিশ তড়িঘড়ি করে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেছিল। রবিবার ও গতকাল সোমবার মালিবাগ সিআইডি দফতরে শহুদুল হককে দুই দফায় প্রায় পাঁচ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদনৱ কর্মকর্তা।
তিনি বলেছেন, ঘটনার পর যা কিছু হয়েছে তা সবটাই হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ মতো। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপর। ডিএমপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কমিশনারই সব কিছু তদারকি করেছেন। তাছাড়া ওই সময় ডিএমপিতে দায়িত্বরত অন্য কর্মকর্তারাই ভাল বলতে পারবেন। তাকে কোন কিছু আগাম জানানো হয়নি। সূত্র জানায়, সাবেক আইজিপি শহুদুল হকের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাকে আবারও ডাকা হবে।
মামলা সংশিস্নষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, অন্য আসামি মোর্সালিন ও মোসৱাকিন ভারতের তিহার জেলে আটক রয়েছে। তারা হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার অনেক অজানা তথ্য জানা যাবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়েছে। তারা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে বিষয়টি চূড়ানৱ হতে পারে।
সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দী বিনিময় চুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুলস্নাহ আরেফ কলকাতা পুলিশের সহায়তায় ৭ সন্ত্রাসীকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন। কথা ছিল ভারতে কয়েকজন সন্ত্রাসীকে ফেরত পাঠানো হবে। কিন্তু সেসময় বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ পুলিশ ভারতের কোন সন্ত্রাসীকে ফেরত পাঠাতে পারেনি। ফলে ভারতে আটক বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর হলেও ভারতে আটক বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের ফেরত আনার ব্যাপারে বরফ গলতে শুরম্ন করেছে। আদালত প্রতিবেদক জানান, মামলার তদনেৱর মেয়াদ দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। মামলার অধিকতর তদনৱ কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ তদনৱ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৪ মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ এএনএম বশির উলস্নাহ দুই মাস বাড়ান এবং চার মাসের মধ্যে তদনৱ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
Monday, January 4, 2010
বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহবান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান
বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহবান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান
ঢাকা, জানুয়ারি ০৪ বিরোধী দলকে নতুন বছরে সংসদে আসার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। নতুন বছরে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ভাষণে জিল্লুর রহমান প্রধান বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে বলেন, "আমি আশা করি, বিরোধী দল সংসদে যোগদান করে জনগণ কর্তৃক ন্যস্ত নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে অবদান রাখবে।" রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিল্লুর রহমান এবারই প্রথম সংসদে বক্তব্য দিলেন। এর আগে ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। বিরোধীদলকে জাতীয় উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়ে রাষ্টপতি বলেন, "বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার গতানুগতিক ধারা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্র চর্চার প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদ।" জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারি ও বিরোধীদলের সাংসদরা জাতির কাছে দায়বদ্ধ। এজন্য সব পক্ষই নিয়মিত সংসদে অংশগ্রহণ করে একে কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলবে- এটাই জাতির প্রত্যাশা। হিংসা-বিদ্বেষ, ব্যক্তিগত এবং সংকীর্ণ স্বার্থের ওপরে উঠে সাংসদদের গঠনমূলক, কার্যকর ও সক্রিয় হওয়ার আহবান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি আরো বলেন, "বর্তমান সরকার ঘোষিত দিনবদলের সনদের আলোকে সর্বস্তরে এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।" নতুন প্রজন্মকে তাদের শ্রম, মেধা ও জ্ঞান পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর আহবান জানিয়ে জিল্লুর রহমান বলেন, "ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমরা গড়ে দিয়ে যাব বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা- এ হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার।" রাষ্ট্রপতি তার বক্তৃতার শুরুতে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের ঘটনায় নিহত বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতাসহ অন্যরা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত, চারদলীয় জোট সরকারের সময় নিহত আওয়ামী লীগের সাংসদ এবং বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের স্মরণ করেন। তিনি আরো স্মরণ করেন উপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় নেতাদের। রাষ্ট্রপতি তার বক্তৃতা শেষ করেন, 'জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু' বলে। ২৩ মিনিটের এ বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক দিকগুলো উঠে এসেছে। জিল্লুর রহমানের নাম ঘোষণা হওয়ার পর উপস্থিত সাংসদরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। ভাষণে রাষ্ট্রপতি সরকারের সাফল্যের বর্ণনা করে বলেন, সরকার মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব মন্দা মোকাবেলায় সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে প্রণোদনার জন্য বাজেটে ৫ হাজার ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের উল্লেখ করেন তিনি। জিল্লুর রহমান মন্তব্য করেন, "এই সরকার দেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছে।" ২০১০ শিক্ষা বর্ষে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, এবতেদায়ী ও দাখিল স্তরের জন্য প্রায় ১৯ কোটি বই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। 'স্বার্থান্বেষী মহল' এ উদ্যোগ বিনাশের জন্য টেক্সট বুক বোর্ডের গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ সত্ত্বেও দেশের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছে নির্ধারিত সময়ে বই সরবরাহ করা হয়েছে। যোগাযোগ এবং বিদ্যুত ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসা করেন তিনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গে জিল্লুর রহমান দি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইবুনাল (সংশোধন) অ্যাক্ট ২০০৯ পাশ করা এবং ট্রাইবুনালের জন্য প্রাথমিক স্থান নির্বাচন করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আশা করা যায়, আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবার পর পরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু করা হবে।" রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, জঙ্গীবাদ ও চরমপন্থী দমন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ কোনো ধরণের জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না। বাংলাদেশে যাতে কোনরকম জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংগঠিত হতে না পারে এবং বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে অন্যদেশে যাতে কোনরকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে সেজন্য সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর আগে স্পিকার আব্দুল হামিদ তার বক্তব্যে বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহবান জানান।
ঢাকা, জানুয়ারি ০৪ বিরোধী দলকে নতুন বছরে সংসদে আসার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। নতুন বছরে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ভাষণে জিল্লুর রহমান প্রধান বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে বলেন, "আমি আশা করি, বিরোধী দল সংসদে যোগদান করে জনগণ কর্তৃক ন্যস্ত নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে অবদান রাখবে।" রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিল্লুর রহমান এবারই প্রথম সংসদে বক্তব্য দিলেন। এর আগে ২০০৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। বিরোধীদলকে জাতীয় উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়ে রাষ্টপতি বলেন, "বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার গতানুগতিক ধারা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্র চর্চার প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদ।" জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারি ও বিরোধীদলের সাংসদরা জাতির কাছে দায়বদ্ধ। এজন্য সব পক্ষই নিয়মিত সংসদে অংশগ্রহণ করে একে কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলবে- এটাই জাতির প্রত্যাশা। হিংসা-বিদ্বেষ, ব্যক্তিগত এবং সংকীর্ণ স্বার্থের ওপরে উঠে সাংসদদের গঠনমূলক, কার্যকর ও সক্রিয় হওয়ার আহবান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি আরো বলেন, "বর্তমান সরকার ঘোষিত দিনবদলের সনদের আলোকে সর্বস্তরে এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।" নতুন প্রজন্মকে তাদের শ্রম, মেধা ও জ্ঞান পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর আহবান জানিয়ে জিল্লুর রহমান বলেন, "ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমরা গড়ে দিয়ে যাব বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা- এ হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার।" রাষ্ট্রপতি তার বক্তৃতার শুরুতে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের ঘটনায় নিহত বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতাসহ অন্যরা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত, চারদলীয় জোট সরকারের সময় নিহত আওয়ামী লীগের সাংসদ এবং বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের স্মরণ করেন। তিনি আরো স্মরণ করেন উপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় নেতাদের। রাষ্ট্রপতি তার বক্তৃতা শেষ করেন, 'জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু' বলে। ২৩ মিনিটের এ বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক দিকগুলো উঠে এসেছে। জিল্লুর রহমানের নাম ঘোষণা হওয়ার পর উপস্থিত সাংসদরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। ভাষণে রাষ্ট্রপতি সরকারের সাফল্যের বর্ণনা করে বলেন, সরকার মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব মন্দা মোকাবেলায় সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে প্রণোদনার জন্য বাজেটে ৫ হাজার ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের উল্লেখ করেন তিনি। জিল্লুর রহমান মন্তব্য করেন, "এই সরকার দেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছে।" ২০১০ শিক্ষা বর্ষে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, এবতেদায়ী ও দাখিল স্তরের জন্য প্রায় ১৯ কোটি বই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। 'স্বার্থান্বেষী মহল' এ উদ্যোগ বিনাশের জন্য টেক্সট বুক বোর্ডের গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ সত্ত্বেও দেশের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছে নির্ধারিত সময়ে বই সরবরাহ করা হয়েছে। যোগাযোগ এবং বিদ্যুত ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসা করেন তিনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গে জিল্লুর রহমান দি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইবুনাল (সংশোধন) অ্যাক্ট ২০০৯ পাশ করা এবং ট্রাইবুনালের জন্য প্রাথমিক স্থান নির্বাচন করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আশা করা যায়, আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবার পর পরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু করা হবে।" রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, জঙ্গীবাদ ও চরমপন্থী দমন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ কোনো ধরণের জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না। বাংলাদেশে যাতে কোনরকম জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংগঠিত হতে না পারে এবং বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে অন্যদেশে যাতে কোনরকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে সেজন্য সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর আগে স্পিকার আব্দুল হামিদ তার বক্তব্যে বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহবান জানান।
ছাত্রলীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হল্যান্ড এ বসবাসরত ৯০ এর গনঅভুত্থানে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীবৃন্দের যৌথ বিবৃতি
ছাত্রলীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হল্যান্ড এ বসবাসরত ৯০ এর গনঅভুত্থানে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীবৃন্দের যৌথ বিবৃতি,
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গরা সংগঠন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীবৃন্দ বলেন, ১৯৪৮ সালের এই দিনে বাংলা ও বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে প্রতিষ্ঠা লাভ করে দেশের প্রাচীনতম এ ছাত্রসংগঠন ।এদিন নঈম উদ্দীন আহমেদকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয় তখনকার পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি। এরপর ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ, ৮১-৮২-৮৬ এবং ৯০ শৈরাচার জিয়া-এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারী খালেদার পাতানো খেলা সংসদ নির্বাচন, বি এন পি – জামাত জোট সরকারের জংগি- সন্ত্রাস, ১০ ট্রাক অবৈধ অশ্র, লাগামহীন দুর্নিতি, লুটপাট, নাড়ীনির্যাতন, ভুয়া ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রনী ভুমিকার কাতারে ছিল ছাত্রলীগ ।
ছাত্রলীগ নেত্রীবৃন্দ বলেন, নববর্ষের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কঠোর সমালোচনা করে সাবেক নেতৃবৃন্দ বলেন, একমাত্র ইহুদীরাই পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়ার নীতিতে বিশ্বাসী ছিল। ইহুদী ধর্মাবলম্বী এক বুড়ি কর্তৃক মহানবীর পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখার ইতিহাস সর্বজনবিদিত। বেগম জিয়া সেই বুড়ির অনুকরণে শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পথে কাঁটা বিছানোর হুমকি দিয়েছেন, কিন্তূ অতীতের মতই বাংলাদেশের জনগণ বেগম জিয়ার বিছানো কাঁটা পদদলিত করে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশে এবং প্রবাসীরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকবে ।
নেত্রীবৃন্দ আরো বলেন, গত জোট সরকারের সময় বি এন পি-জামাত বাংলাদেশকে বের্থ্য এবং জংগিবাদের রাস্ট্র বানিয়েছিল, তাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল মাননীয় মন্ত্রি, সংসদ সদস্য, সাংবাদিক, ছাত্রনেতা, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্দিজীবি, বিচারপতি, মা, শিশু, এবং বোনেরা, সেই দিন হাওয়া ভবনের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের হাত থেকে কেউ রক্ষা পাইনি, সে দিন নির্যাতিতরা জীবন যুদ্ধ করেও হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে দেয়া হয় নি। পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছিল ২৬০০০ নেতা-কর্মিকে।
প্রবাসী নেত্রীবৃন্দ আশাব্যক্ত করে বলেন, ছাত্রলীগ কে সু-সংগঠিত হয়ে দেশ থেকে চিরতরের জন্য জংগি ও সন্ত্রাস, মুক্তিযুদ্ধপরাধীদের বিচারের জন্য অগ্রনী ভুমিকা পালন করবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন: সাবেক ছাত্রনেতা, মুরাদ খান, নান্টু মৃধা, ইমরান হোসেন, টুকু খান, আবরার হোসেন, সন্দিপ কুমার দাশ, জয়নাল আবেদীন, রশীদ রানা, মাসুদ রহমান, জাকিরুল হক, আব্দুল আছিয়া মেনন, মিলন বাচ্চু, মিরাজ হোসেন, আতিকুর রহমান, শ্যামল শীল, জসিম উদ্দিন, খোরশেদ আলম মুন্না, বিষ্ণু বিশ্বাস, ফজলুর রহমান, মুহিন উদ্দিন, নাসিম খান অভি, ভূশন নাথ, আনিসুজ্জামান কিরণ, ইকরামুল পলাশ মুজিব খান, নীপু দাশ, রিপন ও লক্ষন, রঞ্জন কুমার বড়ুয়া, জাহিদ হোসেন, আশিক, পুলক, জুয়েল ও বাহার উদ্দিন, এবিএম জিয়াউদ্দিন, খান মোহামমদ মজিদ, সম্রাট মৃধা ও চান মিয়া প্রমুখ।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গরা সংগঠন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীবৃন্দ বলেন, ১৯৪৮ সালের এই দিনে বাংলা ও বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে প্রতিষ্ঠা লাভ করে দেশের প্রাচীনতম এ ছাত্রসংগঠন ।এদিন নঈম উদ্দীন আহমেদকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয় তখনকার পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি। এরপর ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ, ৮১-৮২-৮৬ এবং ৯০ শৈরাচার জিয়া-এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারী খালেদার পাতানো খেলা সংসদ নির্বাচন, বি এন পি – জামাত জোট সরকারের জংগি- সন্ত্রাস, ১০ ট্রাক অবৈধ অশ্র, লাগামহীন দুর্নিতি, লুটপাট, নাড়ীনির্যাতন, ভুয়া ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রনী ভুমিকার কাতারে ছিল ছাত্রলীগ ।
ছাত্রলীগ নেত্রীবৃন্দ বলেন, নববর্ষের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কঠোর সমালোচনা করে সাবেক নেতৃবৃন্দ বলেন, একমাত্র ইহুদীরাই পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়ার নীতিতে বিশ্বাসী ছিল। ইহুদী ধর্মাবলম্বী এক বুড়ি কর্তৃক মহানবীর পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখার ইতিহাস সর্বজনবিদিত। বেগম জিয়া সেই বুড়ির অনুকরণে শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পথে কাঁটা বিছানোর হুমকি দিয়েছেন, কিন্তূ অতীতের মতই বাংলাদেশের জনগণ বেগম জিয়ার বিছানো কাঁটা পদদলিত করে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশে এবং প্রবাসীরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকবে ।
নেত্রীবৃন্দ আরো বলেন, গত জোট সরকারের সময় বি এন পি-জামাত বাংলাদেশকে বের্থ্য এবং জংগিবাদের রাস্ট্র বানিয়েছিল, তাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল মাননীয় মন্ত্রি, সংসদ সদস্য, সাংবাদিক, ছাত্রনেতা, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্দিজীবি, বিচারপতি, মা, শিশু, এবং বোনেরা, সেই দিন হাওয়া ভবনের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের হাত থেকে কেউ রক্ষা পাইনি, সে দিন নির্যাতিতরা জীবন যুদ্ধ করেও হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে দেয়া হয় নি। পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছিল ২৬০০০ নেতা-কর্মিকে।
প্রবাসী নেত্রীবৃন্দ আশাব্যক্ত করে বলেন, ছাত্রলীগ কে সু-সংগঠিত হয়ে দেশ থেকে চিরতরের জন্য জংগি ও সন্ত্রাস, মুক্তিযুদ্ধপরাধীদের বিচারের জন্য অগ্রনী ভুমিকা পালন করবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন: সাবেক ছাত্রনেতা, মুরাদ খান, নান্টু মৃধা, ইমরান হোসেন, টুকু খান, আবরার হোসেন, সন্দিপ কুমার দাশ, জয়নাল আবেদীন, রশীদ রানা, মাসুদ রহমান, জাকিরুল হক, আব্দুল আছিয়া মেনন, মিলন বাচ্চু, মিরাজ হোসেন, আতিকুর রহমান, শ্যামল শীল, জসিম উদ্দিন, খোরশেদ আলম মুন্না, বিষ্ণু বিশ্বাস, ফজলুর রহমান, মুহিন উদ্দিন, নাসিম খান অভি, ভূশন নাথ, আনিসুজ্জামান কিরণ, ইকরামুল পলাশ মুজিব খান, নীপু দাশ, রিপন ও লক্ষন, রঞ্জন কুমার বড়ুয়া, জাহিদ হোসেন, আশিক, পুলক, জুয়েল ও বাহার উদ্দিন, এবিএম জিয়াউদ্দিন, খান মোহামমদ মজিদ, সম্রাট মৃধা ও চান মিয়া প্রমুখ।
Friday, January 1, 2010
Thursday, December 31, 2009
বিদায় ২০০৯
বিদায় ২০০৯ উত্তম চক্রবর্তিঃ আজ আলোড়িত বর্ষ বিদায়ের দিন। বহু ঘটনার জন্ম দিয়ে মহাকালের পরিক্রমায় বিদায় নিল আরও একটি বছর। বাংলাদেশের ৩৮ বছরের অনেক ইতিহাস বদলে দিয়েছে বিদায়ী বছরটি। সূচনা করেছে জাতীয় জীবনে ও রাজনীতির ইতিহাসে এক অভিনব অধ্যায়ের।
দুই বছরের অগণতান্ত্রিক শাসনের অবসান, গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের যাত্রা শুরম্ন। এরপর অনেক ঘটনা-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উতরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে এই বছরটি। আজ রাতটুকু পেরোলেই কাল পূর্বাকাশে উঠবে যে নতুন সূর্য, সে সূর্য নতুন বছরের। নতুন আশায় বুক বেঁধে আরও একটি নতুন বছরের দিনলিপি পড়ে থাকবে পেছনে। নতুন বছরে নতুন সূর্যের অসীম প্রতীৰা মানুষের। উতসব আয়োজনের মধ্য দিয়েই মানুষ স্বাগত জানাবে ইংরেজী নতুন বছর ২০১০ সালকে। ইংরেজী পঞ্জিকার সর্বজনীনতায় কাল বিশ্ববাসীও মেতে উঠবে নতুন বছরের আগমনী আনন্দ-উলস্নাসে।
মহাকালের আবর্তে হারিয়ে গেলেও বিদায়ী বছরটি দেশের মানুষের মনে দাগ কেটে থাকবে বহুকাল, বহু বছর। কারণ বিদায়ী এ বছরটি পাল্টে দিয়েছে অনেক ইতিহাস। কারণ বাঙালী জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত দেশের মানুষকে এক অবিস্মরণীয় গণতন্ত্রের শাসনকাল উপহার দিয়ে চিরবিদায় নিচ্ছে ঘটনাবহুল এ বছরটি। বছরজুড়েই ছিল মুক্তিযুদ্ধের পৰের শক্তির গণজোয়ার, আর অন্ধকার শক্তির গোপন ষড়যন্ত্র-চক্রানত্ম।
দীর্ঘ দু'বছরের অন্ধকারাচ্ছন্ন, অনিশ্চয়তার অগণতান্ত্রিক-অসাংবিধানিক শাসনের নিগড় থেকে গণতন্ত্রের নবযাত্রা শুরম্ন করা বিদায়ী বছরটিতে দেশের মানুষ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে পথ চললেও দেশকে অস্থিতিশীল ও গৃহযুদ্ধ বাধাতে একটি চিহ্নিত অপশক্তির নানা ষড়যন্ত্র-চক্রানত্মের ঘৃণ্য চেষ্টাও প্রত্যৰ করেছে দেশের মানুষ। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরম্ন করে সমাজ, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ছিল নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার দোলাচল।
অনেক অনিশ্চয়তার বেড়াজাল ছিন্ন করে গণতন্ত্রের এই বিদায়ী বছরের পুরোটা সময়ই আলোচনা-সমালোচনার শীর্ষে ছিল মহাবিজয় নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ, মন্ত্রী ও নেতৃত্বে চমক, গণতন্ত্রকে পুনরায় হত্যার নীলনক্সা অনুযায়ী বিডিআর বিদ্রোহের নামে নির্বিচারে সামরিক কর্মকর্তা হত্যাযজ্ঞ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের বিচার সম্পন্ন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, নানা কারসাজির মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা, বিশ্বমন্দার মাঝেও অর্থনীতি সচল রাখা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইলার আঘাত, টিপাইমুখ বাঁধ, বিরোধীদলীয় নেত্রীর বাড়ির বরাদ্দ বাতিল, কঠোর হসত্মে জঙ্গীবাদ দমন, গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিতিশীলতা, সার সঙ্কটবিহীন বাম্পার ফলন ইত্যাদি ইসু্য। তবে বিডিআর বিদ্রোহ আর বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে তারকা নেতাদের পতন ইসু্যটি বছরজুড়েই ছিল আলোচনার শীর্ষে।
বিদায়ী বছরের শুরুটাই ছিল দুরাশার রাত কেটে মানুষের জীবনে আলো ফিরিয়ে দেয়া। সামরিক নিয়ন্ত্রিত অগণতান্ত্রিক সরকারের পরিবর্তে গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জানুয়ারি মাসের প্রথমেই রেকর্ড সংখ্যক তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী করে ক্ষমতায় বসায় গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে। দুনীতি-দুঃশাসন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরম্নদ্ধে ঐতিহাসিক গণরায় দেয় দেশের মানুষ। রেকর্ড সংখ্যক আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করে। ১৯৭০ সালের পর জাতি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আর কখনই এভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়নি।অগণতান্ত্রিক শাসন থেকে আনুষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক শাসনে রূপ নেয় ৬ জানুয়ারি। বিদায়ী বছরের এ দিন দেশের মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার শপথ গ্রহণ করেন। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের পর পরই মন্ত্রিসভা গঠনে বছরের শুরম্নতেই বড় ধরনের চমক দিয়ে সারাদেশে রীতিমতো আলোচনার ঝড় তোলেন। দুনীতির বিরম্নদ্ধে জিহাদ
দুই বছরের অগণতান্ত্রিক শাসনের অবসান, গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের যাত্রা শুরম্ন। এরপর অনেক ঘটনা-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উতরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে এই বছরটি। আজ রাতটুকু পেরোলেই কাল পূর্বাকাশে উঠবে যে নতুন সূর্য, সে সূর্য নতুন বছরের। নতুন আশায় বুক বেঁধে আরও একটি নতুন বছরের দিনলিপি পড়ে থাকবে পেছনে। নতুন বছরে নতুন সূর্যের অসীম প্রতীৰা মানুষের। উতসব আয়োজনের মধ্য দিয়েই মানুষ স্বাগত জানাবে ইংরেজী নতুন বছর ২০১০ সালকে। ইংরেজী পঞ্জিকার সর্বজনীনতায় কাল বিশ্ববাসীও মেতে উঠবে নতুন বছরের আগমনী আনন্দ-উলস্নাসে।
মহাকালের আবর্তে হারিয়ে গেলেও বিদায়ী বছরটি দেশের মানুষের মনে দাগ কেটে থাকবে বহুকাল, বহু বছর। কারণ বিদায়ী এ বছরটি পাল্টে দিয়েছে অনেক ইতিহাস। কারণ বাঙালী জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত দেশের মানুষকে এক অবিস্মরণীয় গণতন্ত্রের শাসনকাল উপহার দিয়ে চিরবিদায় নিচ্ছে ঘটনাবহুল এ বছরটি। বছরজুড়েই ছিল মুক্তিযুদ্ধের পৰের শক্তির গণজোয়ার, আর অন্ধকার শক্তির গোপন ষড়যন্ত্র-চক্রানত্ম।
দীর্ঘ দু'বছরের অন্ধকারাচ্ছন্ন, অনিশ্চয়তার অগণতান্ত্রিক-অসাংবিধানিক শাসনের নিগড় থেকে গণতন্ত্রের নবযাত্রা শুরম্ন করা বিদায়ী বছরটিতে দেশের মানুষ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে পথ চললেও দেশকে অস্থিতিশীল ও গৃহযুদ্ধ বাধাতে একটি চিহ্নিত অপশক্তির নানা ষড়যন্ত্র-চক্রানত্মের ঘৃণ্য চেষ্টাও প্রত্যৰ করেছে দেশের মানুষ। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরম্ন করে সমাজ, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ছিল নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার দোলাচল।
অনেক অনিশ্চয়তার বেড়াজাল ছিন্ন করে গণতন্ত্রের এই বিদায়ী বছরের পুরোটা সময়ই আলোচনা-সমালোচনার শীর্ষে ছিল মহাবিজয় নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ, মন্ত্রী ও নেতৃত্বে চমক, গণতন্ত্রকে পুনরায় হত্যার নীলনক্সা অনুযায়ী বিডিআর বিদ্রোহের নামে নির্বিচারে সামরিক কর্মকর্তা হত্যাযজ্ঞ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের বিচার সম্পন্ন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, নানা কারসাজির মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা, বিশ্বমন্দার মাঝেও অর্থনীতি সচল রাখা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইলার আঘাত, টিপাইমুখ বাঁধ, বিরোধীদলীয় নেত্রীর বাড়ির বরাদ্দ বাতিল, কঠোর হসত্মে জঙ্গীবাদ দমন, গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিতিশীলতা, সার সঙ্কটবিহীন বাম্পার ফলন ইত্যাদি ইসু্য। তবে বিডিআর বিদ্রোহ আর বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে তারকা নেতাদের পতন ইসু্যটি বছরজুড়েই ছিল আলোচনার শীর্ষে।
বিদায়ী বছরের শুরুটাই ছিল দুরাশার রাত কেটে মানুষের জীবনে আলো ফিরিয়ে দেয়া। সামরিক নিয়ন্ত্রিত অগণতান্ত্রিক সরকারের পরিবর্তে গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জানুয়ারি মাসের প্রথমেই রেকর্ড সংখ্যক তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী করে ক্ষমতায় বসায় গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে। দুনীতি-দুঃশাসন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরম্নদ্ধে ঐতিহাসিক গণরায় দেয় দেশের মানুষ। রেকর্ড সংখ্যক আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করে। ১৯৭০ সালের পর জাতি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আর কখনই এভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়নি।অগণতান্ত্রিক শাসন থেকে আনুষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক শাসনে রূপ নেয় ৬ জানুয়ারি। বিদায়ী বছরের এ দিন দেশের মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার শপথ গ্রহণ করেন। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের পর পরই মন্ত্রিসভা গঠনে বছরের শুরম্নতেই বড় ধরনের চমক দিয়ে সারাদেশে রীতিমতো আলোচনার ঝড় তোলেন। দুনীতির বিরম্নদ্ধে জিহাদ
ঘোষণা করে ক্ষমতায় আসা মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পায়না সংস্কারবাদীরা। আওয়ামী লীগের ১/১১ পরব সংস্কারপন্থীরা বাদ পড়েন মন্ত্রিসভা থেকে, স্থান পান অধিকাংশই নতুন মুখ। জাতীয় রাজনীতিতে অনেকটাই কমপরিচিত মধ্যম সারির নেতাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে 'দিনবদলের সনদ' বাস্তবায়নের বিরাট চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সরকারের যাত্রা শুরম্ন করেন তিনি। দলের দুঃসময়ের কান্ডারি জিল্লুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা।
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়ে বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কতটুকু সফল হবেন_ এ নিয়ে প্রথম দিকে নানা আলোচনা-সমালোচনা চললেও বিদায়ী বছরের সালতামামিতে প্রমাণ হয়েছে তিনি ভুল করেননি। এই একটি বছর দক্ষতা-বিচক্ষণতা বিচারে অনেকের বিরম্নদ্ধে প্রশ্ন উঠলেও মহাজোট সরকারের একজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুনীতির সামান্যতম অভিযোগ আনতে পারেননি কেউ-ই। এছাড়া বিদায়ী বছরের মাঝামাঝিতে দলের কাউন্সিলেও বড় নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন প্রজন্মের নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আনার শেখ হাসিনার চমকটিও ছিল আলোচনার খবর।
তবে বিদায়ী বছরের যাত্রাপথেও গণতন্ত্রের ওপর মারাত্মক আঘাত আসে। মহাজোট সরকারের মাত্র ৪৯ দিনের মাথায় দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়ে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের মারণাস্ত্র হানে অন্ধকারের অপশক্তিরা। কিন্তু অত্যনত্ম দৰতার সঙ্গেই গভীর এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। বিদায়ী বছরের শুরুতেই ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হয় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা। দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে সদ্য দায়িত্বগ্রহণকারী মহাজোট সরকারের পতন ঘটাতে এ দু'দিন বিডিআর বিদ্রোহের নামে অত্যনত্ম নিষ্ঠুর কায়দায় ৭০ জনেরও বেশি সিনিয়র, মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। গৃহযুদ্ধ বাধাতে সারাদেশেই বিডিআর বিদ্রোহ উস্কে দেয়া হয়।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দিয়ে এই চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র ঠেকাতে সক্ষম হন। অনিবার্য রক্তৰরণ ছাড়াই বিডিআর বিদ্রোহ দমন করেন। শেখ হাসিনা এই প্রায় অসম্ভব কাজটি ধৈর্য-সহিঞ্চুতা ও দৃঢ় সাহসিকতা এবং সর্বোপরি দূরদর্শিতা ও দৰতার সঙ্গে সামাল দিয়ে সারাবিশ্বেই প্রশংসিত হয়েছেন। দেশ ধ্বংসের গভীর এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলাই নয়, বিদায়ী বছরের শেষ প্রানত্মে এসে বিডিআর বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে বিচার কাজও শুরম্ন করেছে এই সরকার।
শুধু মানুষসৃষ্ট দুর্যোগ নয়, মহাজোট সরকারকে এই এক বছরে আইলার মতো ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগও মোকাবেলা করতে হয়েছে। অতীতে সব সরকার বিশ্বের কাছ থেকে সাহায্য এনে এমন দুর্যোগ মোকাবেলা করলেও শেখ হাসিনা বহির্বিশ্বের সাহায্য না নিয়ে নিজের সম্পদ দিয়েই দৰভাবে আইলা মোকাবেলা করে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। এছাড়া বছরজুড়েই সাম্প্রদায়িক উগ্র জঙ্গীগোষ্ঠী ও আনত্মর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হসত্মে দমন করায় বিদায়ী বছরে বড় ধরনের কোন নাশকতা চালাতে পারেনি ঘৃণ্য এসব অপশক্তি।
বিদায়ী-২০০৯ সালে আলোচিত ঘটনা ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের কাজ সম্পন্ন করার ঘটনা। বর্তমান সরকারের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই ছিল এটি। ৰমতা গ্রহণের পরই মহাজোট সরকার বিচারের পথ উন্মুক্ত করে, চাহিদা অনুযায়ী আপীল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেয়। এরপর শুনানি শেষে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ১৯ নবেম্বর জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়। সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ আত্মস্বীকৃত খুনীদের আপীল খারিজ করে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। হাইকোর্টে মৃতু্যদ-প্রাপ্ত সব খুনীর ফাঁসির রায় কার্যকর দেখার জন্য এখন অধীর অপেৰায় গোটা দেশবাসী। নতুন বছরের প্রথম ভাগেই বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হবে বলেই প্রত্যাশা আইনজ্ঞদের।তবে বছরজুড়েই আলোচনার শীর্ষে ছিল দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অগি্নমূল্যে নিয়ে ৰমতায় এসেই শক্তহাতে নাগাল টেনে ধরতে সৰম হয় সরকার। বাজার সিন্ডিকেট, চিনি সিন্ডিকেটসহ নানা সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্র-চক্রানত্ম মোকাবেলা করতে হয়েছে বছরজুড়েই। মহাজোট সরকারের ইশতেহারে প্রথম অগ্রাধিকার ছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং বিশ্বমন্দা মোকাবিলায় সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এ ৰেত্রে বিদায়ী বছরে মহাজোট সরকার সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে নিঃসন্দেহে। বিশ্ববাজারে দ্রব্যমূল্য ছিল স্থিতিশীল। আর তাই বছরজুড়েই দ্রব্যমূল্য ছিল মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসেও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকাটা ছিল বিদায়ী
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়ে বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কতটুকু সফল হবেন_ এ নিয়ে প্রথম দিকে নানা আলোচনা-সমালোচনা চললেও বিদায়ী বছরের সালতামামিতে প্রমাণ হয়েছে তিনি ভুল করেননি। এই একটি বছর দক্ষতা-বিচক্ষণতা বিচারে অনেকের বিরম্নদ্ধে প্রশ্ন উঠলেও মহাজোট সরকারের একজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুনীতির সামান্যতম অভিযোগ আনতে পারেননি কেউ-ই। এছাড়া বিদায়ী বছরের মাঝামাঝিতে দলের কাউন্সিলেও বড় নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন প্রজন্মের নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আনার শেখ হাসিনার চমকটিও ছিল আলোচনার খবর।
তবে বিদায়ী বছরের যাত্রাপথেও গণতন্ত্রের ওপর মারাত্মক আঘাত আসে। মহাজোট সরকারের মাত্র ৪৯ দিনের মাথায় দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়ে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের মারণাস্ত্র হানে অন্ধকারের অপশক্তিরা। কিন্তু অত্যনত্ম দৰতার সঙ্গেই গভীর এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। বিদায়ী বছরের শুরুতেই ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হয় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা। দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে সদ্য দায়িত্বগ্রহণকারী মহাজোট সরকারের পতন ঘটাতে এ দু'দিন বিডিআর বিদ্রোহের নামে অত্যনত্ম নিষ্ঠুর কায়দায় ৭০ জনেরও বেশি সিনিয়র, মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। গৃহযুদ্ধ বাধাতে সারাদেশেই বিডিআর বিদ্রোহ উস্কে দেয়া হয়।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দিয়ে এই চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র ঠেকাতে সক্ষম হন। অনিবার্য রক্তৰরণ ছাড়াই বিডিআর বিদ্রোহ দমন করেন। শেখ হাসিনা এই প্রায় অসম্ভব কাজটি ধৈর্য-সহিঞ্চুতা ও দৃঢ় সাহসিকতা এবং সর্বোপরি দূরদর্শিতা ও দৰতার সঙ্গে সামাল দিয়ে সারাবিশ্বেই প্রশংসিত হয়েছেন। দেশ ধ্বংসের গভীর এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলাই নয়, বিদায়ী বছরের শেষ প্রানত্মে এসে বিডিআর বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে বিচার কাজও শুরম্ন করেছে এই সরকার।
শুধু মানুষসৃষ্ট দুর্যোগ নয়, মহাজোট সরকারকে এই এক বছরে আইলার মতো ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগও মোকাবেলা করতে হয়েছে। অতীতে সব সরকার বিশ্বের কাছ থেকে সাহায্য এনে এমন দুর্যোগ মোকাবেলা করলেও শেখ হাসিনা বহির্বিশ্বের সাহায্য না নিয়ে নিজের সম্পদ দিয়েই দৰভাবে আইলা মোকাবেলা করে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। এছাড়া বছরজুড়েই সাম্প্রদায়িক উগ্র জঙ্গীগোষ্ঠী ও আনত্মর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হসত্মে দমন করায় বিদায়ী বছরে বড় ধরনের কোন নাশকতা চালাতে পারেনি ঘৃণ্য এসব অপশক্তি।
বিদায়ী-২০০৯ সালে আলোচিত ঘটনা ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের কাজ সম্পন্ন করার ঘটনা। বর্তমান সরকারের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই ছিল এটি। ৰমতা গ্রহণের পরই মহাজোট সরকার বিচারের পথ উন্মুক্ত করে, চাহিদা অনুযায়ী আপীল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেয়। এরপর শুনানি শেষে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ১৯ নবেম্বর জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়। সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ আত্মস্বীকৃত খুনীদের আপীল খারিজ করে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। হাইকোর্টে মৃতু্যদ-প্রাপ্ত সব খুনীর ফাঁসির রায় কার্যকর দেখার জন্য এখন অধীর অপেৰায় গোটা দেশবাসী। নতুন বছরের প্রথম ভাগেই বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হবে বলেই প্রত্যাশা আইনজ্ঞদের।তবে বছরজুড়েই আলোচনার শীর্ষে ছিল দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অগি্নমূল্যে নিয়ে ৰমতায় এসেই শক্তহাতে নাগাল টেনে ধরতে সৰম হয় সরকার। বাজার সিন্ডিকেট, চিনি সিন্ডিকেটসহ নানা সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্র-চক্রানত্ম মোকাবেলা করতে হয়েছে বছরজুড়েই। মহাজোট সরকারের ইশতেহারে প্রথম অগ্রাধিকার ছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং বিশ্বমন্দা মোকাবিলায় সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এ ৰেত্রে বিদায়ী বছরে মহাজোট সরকার সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে নিঃসন্দেহে। বিশ্ববাজারে দ্রব্যমূল্য ছিল স্থিতিশীল। আর তাই বছরজুড়েই দ্রব্যমূল্য ছিল মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসেও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকাটা ছিল বিদায়ী
বছরের আরেকটি ইতিবাচক ঘটনা। ধান-চাল-গম সরবরাহ পর্যাপ্ত এবং দাম মধ্যবিত্তদের আয়ত্তের মধ্যে রাখাটাও ছিল বিদায়ী বছরে আলোচিত ঘটনা। তবে বিশ্বমন্দার প্রভাবে বিদায়ী বছরে বিদেশী বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে অনেকটাই।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পাঁচ বছরে সারের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু মহাজোট সরকার ৰমতায় এসেই সারের মূল্য অর্ধেকেরও নিচে নামিয়ে আনে। ডিজেলের দামও কমিয়ে দেয়। আগে কৃষক সারের পেছনে ছুটলেও বিদায়ী বছরে পরিস্থিতি ছিল উল্টো। পর্যাপ্ত সরবরাহ ও দাম কমানোর কারণে বছরজুড়েই সারই বরং ছুটেছে কৃষকদের পেছনে। সারের সঙ্কট না থাকায় বিদায়ী বছরে বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রত্যেক কৃষককে পরিচয়পত্র দিয়ে সরকার থেকে ভতর্ুকি দামে সার-ডিজেল-কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও কৃষি ঋণ প্রদানের ঘটনাটি ২০০৯ সালে ছিল আরেকটি আলোচিত ঘটনা। এছাড়া বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পাট শিল্প ধ্বংস করতে আদমজী জুট মিল ধ্বংস করলেও বিদায়ী বছরে গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে পাটের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। দাম না পাওয়ায় উৎপাদন ছেড়ে দেয়া কৃষকরা নতুন উদ্যমে পাট উতপাদন করছে এবং বেশ ভাল দামে বিক্রি করতে পেরেছে বিদায়ী বছরে।
তবে বিদায়ী ২০০৯ সালে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সর্বত্র সোচ্চার দাবি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। বছর জুড়ে সভা, সমাবেশ, সেমিনার, বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবসে এই দাবিটি প্রতিধ্বনিত হয়েছে কোটি কোটি মানুষের মুখে। ৰমতাসীন সরকারের নির্বাচনী ওয়াদাও ছিল এটি। তা বাসত্মবায়নে বছরের প্রথমেই ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসত্মাব পাস হলে জনগণ আশায় বুক বাঁধে। তবে বিদায়ী বছরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি বড় কোন অগ্রগতি না হলেও নতুন বছরের শুরম্নতেই আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরম্ন হবে বলে প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছে সরকার।
এছাড়া বিদায়ী বছরে দেশের ইতিহাসে প্রথম কোন বর্তমান ও সাবেক স্পীকার, সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও চীফ হুইপের বিরম্নদ্ধে দুনর্ীতি তদনত্মে সংসদীয় কমিটি গঠন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন, সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ডেপুটি স্পীকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী ও চীফ হুইপ বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুনীতির প্রমাণপত্র উপস্থাপনের ঘটনাটিও রীতিমতো তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছিল। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিদায়ী বছরে উপজেলা পরিষদকে পুনরম্নজ্জীবিত করা হলেও এমপিদের কতর্ৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার রেশ এখনও কাটেনি। বিদায়ী বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও অস্বাভাবিক অবনতি হয়নি। বিদু্যত সাশ্রয়ে বিদায়ী বছরের শুরু এবং শেষে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগুনো ও পেছানোর ঘটনাটিও ছিল আলোচনার শীর্ষে। শুধুমাত্র কাউন্সিল অনুষ্ঠান ছাড়া বড় দু'টি রাজনৈতিক দলেরই সাংগঠনিক কোন ততপরতা ছিল না বললেই চলে।
সব মিলিয়ে বিদায়ী বছরটি ছিল বৈচিত্র্যময়। আজকের গোধূলি বেলায় রক্তিম সূর্য অসত্ম যাওয়ার মধ্য দিয়ে হারিয়ে যাবে ঘটনাবহুল এ বছরটি। এখন নতুন বছর আর নতুন সূর্যের অপেৰায় দেশবাসী। এখন অপেৰা কেবল মানুষের খাদ্যের নিশ্চয়তা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের রায় কার্যকর, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও সংঘাতময় রাজনীতি পরিহার করে সৌহাদর-সম্প্রীতির দেশের। ৰমতায় থাকা মহাজোট সরকারের কাছে এ প্রত্যাশা রেখেই আগামীকাল থেকে নতুন বছরে, নতুন জীবনে যাত্রা করবে এ দেশের মানুষ। কাল শুরম্ন হবে আরও একটি নতুন বছর ২০১০। বিদায় ২০০৯
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পাঁচ বছরে সারের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু মহাজোট সরকার ৰমতায় এসেই সারের মূল্য অর্ধেকেরও নিচে নামিয়ে আনে। ডিজেলের দামও কমিয়ে দেয়। আগে কৃষক সারের পেছনে ছুটলেও বিদায়ী বছরে পরিস্থিতি ছিল উল্টো। পর্যাপ্ত সরবরাহ ও দাম কমানোর কারণে বছরজুড়েই সারই বরং ছুটেছে কৃষকদের পেছনে। সারের সঙ্কট না থাকায় বিদায়ী বছরে বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রত্যেক কৃষককে পরিচয়পত্র দিয়ে সরকার থেকে ভতর্ুকি দামে সার-ডিজেল-কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও কৃষি ঋণ প্রদানের ঘটনাটি ২০০৯ সালে ছিল আরেকটি আলোচিত ঘটনা। এছাড়া বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পাট শিল্প ধ্বংস করতে আদমজী জুট মিল ধ্বংস করলেও বিদায়ী বছরে গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে পাটের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। দাম না পাওয়ায় উৎপাদন ছেড়ে দেয়া কৃষকরা নতুন উদ্যমে পাট উতপাদন করছে এবং বেশ ভাল দামে বিক্রি করতে পেরেছে বিদায়ী বছরে।
তবে বিদায়ী ২০০৯ সালে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সর্বত্র সোচ্চার দাবি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। বছর জুড়ে সভা, সমাবেশ, সেমিনার, বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবসে এই দাবিটি প্রতিধ্বনিত হয়েছে কোটি কোটি মানুষের মুখে। ৰমতাসীন সরকারের নির্বাচনী ওয়াদাও ছিল এটি। তা বাসত্মবায়নে বছরের প্রথমেই ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসত্মাব পাস হলে জনগণ আশায় বুক বাঁধে। তবে বিদায়ী বছরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি বড় কোন অগ্রগতি না হলেও নতুন বছরের শুরম্নতেই আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরম্ন হবে বলে প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছে সরকার।
এছাড়া বিদায়ী বছরে দেশের ইতিহাসে প্রথম কোন বর্তমান ও সাবেক স্পীকার, সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও চীফ হুইপের বিরম্নদ্ধে দুনর্ীতি তদনত্মে সংসদীয় কমিটি গঠন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন, সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ডেপুটি স্পীকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী ও চীফ হুইপ বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুনীতির প্রমাণপত্র উপস্থাপনের ঘটনাটিও রীতিমতো তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছিল। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিদায়ী বছরে উপজেলা পরিষদকে পুনরম্নজ্জীবিত করা হলেও এমপিদের কতর্ৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার রেশ এখনও কাটেনি। বিদায়ী বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও অস্বাভাবিক অবনতি হয়নি। বিদু্যত সাশ্রয়ে বিদায়ী বছরের শুরু এবং শেষে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগুনো ও পেছানোর ঘটনাটিও ছিল আলোচনার শীর্ষে। শুধুমাত্র কাউন্সিল অনুষ্ঠান ছাড়া বড় দু'টি রাজনৈতিক দলেরই সাংগঠনিক কোন ততপরতা ছিল না বললেই চলে।
সব মিলিয়ে বিদায়ী বছরটি ছিল বৈচিত্র্যময়। আজকের গোধূলি বেলায় রক্তিম সূর্য অসত্ম যাওয়ার মধ্য দিয়ে হারিয়ে যাবে ঘটনাবহুল এ বছরটি। এখন নতুন বছর আর নতুন সূর্যের অপেৰায় দেশবাসী। এখন অপেৰা কেবল মানুষের খাদ্যের নিশ্চয়তা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের রায় কার্যকর, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও সংঘাতময় রাজনীতি পরিহার করে সৌহাদর-সম্প্রীতির দেশের। ৰমতায় থাকা মহাজোট সরকারের কাছে এ প্রত্যাশা রেখেই আগামীকাল থেকে নতুন বছরে, নতুন জীবনে যাত্রা করবে এ দেশের মানুষ। কাল শুরম্ন হবে আরও একটি নতুন বছর ২০১০। বিদায় ২০০৯
নববর্ষ, তোমাকে অভিবাদন

নববর্ষ, তোমাকে অভিবাদন
সফেদ কুয়াশার বুক চিরে টকটকে লাল সূর্যটা নিয়ে এলো নতুন দিনের সন্ধান। শিশিরভেজা দূর্বাঘাস আর লাউয়ের ডগাগুলো লকলকিয়ে স্বাগত জানায় নতুন বছরকে। স্বাগতম হে ইংরেজি নববর্ষ " ২০১০ "
নতুন বছর মানেই নতুন আনন্দ। নতুন পরিকল্পনা। চক্রাকারে দিবানিশির চলন্ত গতি। এ অমোঘ আইনের কোনোই ত্রুটি নেই। দিনপঞ্জির পাতা বলে দিলো ৩৬৫ দিন শেষ। বিদায় নিয়ে গেল ২০০৯ সাল। শুভ আগমন ২০১০। তাই তো ঊষার আকাশে নতুন দিনের আলোকচ্ছটা। পুরনো দিনের সব স্মৃতি পেছনে ফেলে আমরা পা রাখছি নতুন দিনের উঠানে। দেখতে দেখতেই তো সব কিছু শেষ হয়। এই তো সে দিনও যে শিশুটি বিনা নোটিশে কাঁথা-বালিশ ভিজিয়ে ফেলত, সে এখন মস্তবড় কচি-কাঁচার আসরের বাবা। দেখতে দেখতেই জন্ম, আবার দেখতে দেখতেই আমাদের মৃত্যু। এই তো জীবনধারা। বিদায়ী বছরের জীর্ণ-ক্লান্ত দিবারাত্রি আমাদের কত না কর্মের নীরব সাক্ষী! সত্যিই বিদায় বড় ব্যথার। কেমন করে যে একটি বছরে ১২টি মাস, ছয়টি ঋতু, ৫২ সপ্তাহ, ৩৬৫ দিন, আট হাজার ৭৬০ ঘণ্টা, ৫ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ মিনিট এবং তিন কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার সেকেন্ড পেরিয়ে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গেল টেরই পেলাম না। গেল বছরে আমরা অনেক পেয়েছি, আবার হারিয়েছিও অনেককে। হারিয়েছি বাংলার বীর সন্তান অসংখ্য সেনাসদস্যদের, বনধুবানধব, আত্মীয়স্বজন, সাংবাদিক, গুণীজন, প্রিয়জন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী সর্বোপরি হারিয়েছি আমার প্রিয় মাতৃভূমির সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ুয়া বেশ কয়েকজন মেধাবী ছাত্র বনধুদের; যারা ছিল এ দেশের আগামীর ভবিষ্যৎ কর্ণধার। সার্বিক বিচারে গেল বছরটি ছিল বহু স্তরে স্বপ্নভঙ্গের নিস্তরঙ্গের কাল। তবুও সব জরাজীর্ণকে পেছনে ফেলে নতুন দিনের নতুন প্রত্যয়ে সমমুখে এগিয়ে যাওয়ার এই তো সময়। কেননা নববর্ষ আমাদের ভাঙনের মধ্যে সৃষ্টি করতে শেখায়। শেখায় স্বপ্নভঙ্গের মধ্যে উজ্জীবিত করতে। যার কারণে সব অপ্রাপ্তি, অপূর্ণতা ও ব্যর্থতা সত্ত্বেও আমরা আশাবাদী, কারণ আগুনের দরিয়া সাঁতরে স্বপ্ন সম্ভাবনার শান্ত-শীতল দীঘিতে অবগাহন করার ইতিহাস বাঙালির আছে। এ জাতি বারবারই জেগে উঠতে জানে। কোনো অপশক্তিই আমাদের পদদলিত করে স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলিত করতে পারেনি। কেননা বাঙালি জাতি পরাজয় চেনে না। সর্বোপরি মহান প্রভুর কাছে নববর্ষের প্রার্থনা- আমার বাংলা হোক কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা।
সফেদ কুয়াশার বুক চিরে টকটকে লাল সূর্যটা নিয়ে এলো নতুন দিনের সন্ধান। শিশিরভেজা দূর্বাঘাস আর লাউয়ের ডগাগুলো লকলকিয়ে স্বাগত জানায় নতুন বছরকে। স্বাগতম হে ইংরেজি নববর্ষ " ২০১০ "
নতুন বছর মানেই নতুন আনন্দ। নতুন পরিকল্পনা। চক্রাকারে দিবানিশির চলন্ত গতি। এ অমোঘ আইনের কোনোই ত্রুটি নেই। দিনপঞ্জির পাতা বলে দিলো ৩৬৫ দিন শেষ। বিদায় নিয়ে গেল ২০০৯ সাল। শুভ আগমন ২০১০। তাই তো ঊষার আকাশে নতুন দিনের আলোকচ্ছটা। পুরনো দিনের সব স্মৃতি পেছনে ফেলে আমরা পা রাখছি নতুন দিনের উঠানে। দেখতে দেখতেই তো সব কিছু শেষ হয়। এই তো সে দিনও যে শিশুটি বিনা নোটিশে কাঁথা-বালিশ ভিজিয়ে ফেলত, সে এখন মস্তবড় কচি-কাঁচার আসরের বাবা। দেখতে দেখতেই জন্ম, আবার দেখতে দেখতেই আমাদের মৃত্যু। এই তো জীবনধারা। বিদায়ী বছরের জীর্ণ-ক্লান্ত দিবারাত্রি আমাদের কত না কর্মের নীরব সাক্ষী! সত্যিই বিদায় বড় ব্যথার। কেমন করে যে একটি বছরে ১২টি মাস, ছয়টি ঋতু, ৫২ সপ্তাহ, ৩৬৫ দিন, আট হাজার ৭৬০ ঘণ্টা, ৫ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ মিনিট এবং তিন কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার সেকেন্ড পেরিয়ে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গেল টেরই পেলাম না। গেল বছরে আমরা অনেক পেয়েছি, আবার হারিয়েছিও অনেককে। হারিয়েছি বাংলার বীর সন্তান অসংখ্য সেনাসদস্যদের, বনধুবানধব, আত্মীয়স্বজন, সাংবাদিক, গুণীজন, প্রিয়জন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী সর্বোপরি হারিয়েছি আমার প্রিয় মাতৃভূমির সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ুয়া বেশ কয়েকজন মেধাবী ছাত্র বনধুদের; যারা ছিল এ দেশের আগামীর ভবিষ্যৎ কর্ণধার। সার্বিক বিচারে গেল বছরটি ছিল বহু স্তরে স্বপ্নভঙ্গের নিস্তরঙ্গের কাল। তবুও সব জরাজীর্ণকে পেছনে ফেলে নতুন দিনের নতুন প্রত্যয়ে সমমুখে এগিয়ে যাওয়ার এই তো সময়। কেননা নববর্ষ আমাদের ভাঙনের মধ্যে সৃষ্টি করতে শেখায়। শেখায় স্বপ্নভঙ্গের মধ্যে উজ্জীবিত করতে। যার কারণে সব অপ্রাপ্তি, অপূর্ণতা ও ব্যর্থতা সত্ত্বেও আমরা আশাবাদী, কারণ আগুনের দরিয়া সাঁতরে স্বপ্ন সম্ভাবনার শান্ত-শীতল দীঘিতে অবগাহন করার ইতিহাস বাঙালির আছে। এ জাতি বারবারই জেগে উঠতে জানে। কোনো অপশক্তিই আমাদের পদদলিত করে স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলিত করতে পারেনি। কেননা বাঙালি জাতি পরাজয় চেনে না। সর্বোপরি মহান প্রভুর কাছে নববর্ষের প্রার্থনা- আমার বাংলা হোক কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা।
ওরা আমাকে দিনের পর দিন নির্যাতন করেছে : আবদুল জলিল
2.jpg)
ওরা আমাকে দিনের পর দিন নির্যাতন করেছে : আবদুল জলিল
সোহেল হায়দার চৌধুরী
আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. আবদুল জলিল এমপি ওয়ান ইলেভেনের পর যারা রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করেছে, তাদের বিরম্নদ্ধে আবারো সংসদীয় তদন্ত দাবি করে বলেছেন, যারা তারসহ রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিনা কারণে অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, প্রাণের ভয় দেখিয়ে স্বজনদের জিম্মি করে তাদের মতো করে কথা বলতে বাধ্য করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়া দরকার। নতুবা সুযোগ পেলেই অগণতান্ত্রিক শক্তি আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে বাধাগ্রস্থ করতে চাইবে।২০০৭ সালের ২৮ মে নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন আবদুল জলিল। প্রায় দেড় বছর তিনি বন্দি ও প্যারোলে ছিলেন। গত সোমবার তার গ্রেপ্তার ও পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে তিনি কথা বলেছেন যায়যায়দিনের সঙ্গে। আবদুল জলিল বলেন, এখনো তাকে ওই সময়ের দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে ফেরে। মাঝে মধ্যে সে সময়ের কথা মনে এলে চোখ জলে ভরে যায়। দীর্ঘ নিঃশ্বাস বুক চিরে বেরিয়ে আসে। তিনি জানেন না কী অপরাধ ছিল তার? গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াইয়ে নিজেকে জড়িয়ে রাখা? অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা নাকি অগণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করা? নিজের গুলশানের বাসভবনে বসে সফেদ চুলের বর্ষীয়ান এ নেতা বলেন, চোখ-হাত বেঁধে অজ্তত স্তানে নিয়ে দিনের পর দিন তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। চরম দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। বারবার গায়ে হাত তুলতে চেয়েছে। থাপ্পড় মেরে সব দাঁত ফেলে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে। জেলখানায় যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে চিকিতসার বদলে নির্যাতনের জন্য। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রিজন সেলে থাকা অবস্থায় কর্নেল আফজাল ও কর্নেল সাঈদ রাত ২টার পর আসতেন। সারারাত ঘুমাতে দিতেন না। স্ত্রী-সন্তাদের নির্যাতনের ভয় দেখাতেন। বলতেন তাদের তুলে নিয়ে যাবেন। জীবনেও মুক্তি দেয়া হবে না। প্রতিটি মুহূর্তে চাপ দিতেন নেত্রী শেখ হাসিনার বিরম্নদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ লিখে দিতে হবে।ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে সাবেক মন্ত্রী আবদুল জলিল বলেন, ২০০৭ সালের ২৮ মে দুপুরে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কার্যালয়ে সেনাবাহিনীর সাত-আট মেজর ও কর্নেল র্যাঙ্কের লোক যান। তারা তাকে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। তারা নিজেদের যৌথবাহিনীর লোক পরিচয় দেন। জিজ্ঞাসা করেন তার বিরম্নদ্ধে কি অভিযোগ। বলেন জানেন না। উপরের নির্দেশ আছে। তিনি তাদের সঙ্গে কথা না বাড়িয়ে রেস্টরুমে ঢোকেন বাথরুম সারার জন্য। তারাও সেখানে ঢোকেন। তিনি এর প্রতিবাদ জানালে তারা রেস্টরুমে গেটে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি বাথরুম, সেরে তার স্ত্রীকে ফোন করে সব বিষয় জানান। তিনি তখন নওগাঁয়। তিনি রেস্টরুম থেকে বের হলে ওই লোকগুলো তাকে কর্ডন করে নিয়ে নিচে নামে। প্রথমে একটা গাড়িতে ওঠানোর পর সঙ্গে সঙ্গে সেটা থেকে নামিয়ে আরেকটি গাড়িতে ওঠায়। চোখ বেঁধে দেয় কালো কাপড়ে। তিনি চোখে ব্যথা পাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় একজন কাউকে জিজ্ঞাসা করলেন হ্যান্ডকাফ লাগাবে কি না। অফিসার গোছের কেউ একজন বললেন দরকার নেই। তিনি সব শুনছেন, কিছু দেখছেন না বা কাউকে চিনতে পারছেন না। গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো ডিজিএফআইর ইন্টারোগেশন সেলে। নামামাত্রই শুরু হলো নানা প্রশ্ন। একের পর এক প্রশ্নের তীর ছুড়ে দেয়া হচ্ছে তার দিকে। তিনি তাদের প্রশ্নবাণে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পরদিন তাকে কোর্টে চালান দেয়া হয়। কোর্ট থেকে নেয়া হয় রিমান্ডে। শুরু হয় নতুন করে প্রশ্নের পালা। নেত্রী (শেখ হাসিনা) সম্পর্কে, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে। কখনো কখনো বিশ্রী ভাষায় তারা নানা কথা বলতেন। তখন তাদের কথাবার্তা ও আচরণে মনে হতো তারা বোধহয় অন্য গ্রহের মানুষ, অন্য দেশের মানুষ। তিনি মুক্তিযুদ্ধ করে যে দেশ স্বাধীন করেছেন, সে দেশের মানুষ নন তারা।তাকে জিজ্ঞাসা করা হতো দলের টাকা-পয়সা কোত্থেকে আসে। নেত্রীর টাকা-পয়সা কোথায় কোথায় আছে। বিদেশে কোনো টাকা-পয়সা বা বাড়ি আছে কি না। বলতেন, দল চালান কোন বিদেশি দূতাবাসের টাকা দিয়ে। শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন দেশ রাজনীতির জন্য কতো টাকা দেয় ইত্যাদি বিচিত্র এবং রুচিহীন নানা প্রশ্ন। তিনি বলতেন, আওয়ামী লীগ বিদেশের টাকা দিয়ে চলে না। সারাদেশে আওয়ামী লীগের কোটি কোটি নেতা-কর্মীর টাকা দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ চলে। শেখ হাসিনার বিদেশে কোনো টাকা নেই বা বাড়ি নেই। নির্যাতনকারীরা বলতেন, তার কথা ঠিক নয়। তিনি তখন তাদের বলতেন যদি জানেন ঠিক নয়, তাহলে জিজ্ঞাসা করছেন কেন?এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো ট্রাম্পকার্ডের কি ইতিহাস। তিনি বললেন, ট্রাম্পকার্ড মানে ফাইনাল স্ট্রাইক। গণবিরোধী সরকারকে সতর্ক ও সন্ত্রস্থ করে দেয়ার জন্য, সরকারের অবৈধ কাজে বাধা দেয়ার জন্য জনগণকে সম্পৃক্ত করার লৰ্য নিয়ে ট্রাম্পকার্ড নামক একটি রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া হয়েছিল। কিন' তারা তার কোনো কথা ভালোভাবে শুনতে চাইতেন না। বারবার চাপ দিতেন তারা যা বলতে চায় বা তাদের যা উদ্দেশ্য তা তাকে দিয়ে বলাতে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, তাকে দিয়ে নেত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলিয়ে তাকে নাজেহাল ও গ্রেপ্তারের গ্রাউন্ড তৈরি করা। আর এজন্য তারা জঘন্য আচরণ করেছে তার মতো একজন বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে। একটু থেমে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন আবদুল জলিল। চোখে জল চিকচিক করছে। ঠোঁট কাঁপছে। দম নিয়ে বললেন, একদিন ট্রাম্পকার্ড সম্পর্কে নতুন গল্প ফাঁদার জন্য তার সামনে নিয়ে আসা হলো ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে। তাকে বলা হলো, তিনি যাতে মিন্টুকে কোনো কথা জিজ্ঞাসা না করেন। শুধু তার কথা শুনবেন। মিন্টুকে দিয়ে বলানোর চেষ্টা হলো তিনি আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের জন্য টাকা দিয়েছেন। মিন্টু বললেন, এর কিছুই তার জানা নেই। আরেকদিন বসুন্ধরার কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন তা প্রমাণের জন্য ওয়াকিল কমিশনারকে তার সামনে আনা হলো। ওয়াকিল বললেন, বসুন্ধরা নিয়মিত দলের জন্য তাকে টাকা দিতো। তিনি প্রতিবাদ করে বললেন ওয়াকিল একটা লায়ার। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো। পাঁচদিন রিমান্ডে তাকে দিয়ে তাদের মতো করে অনেক কথা বলাতে চেয়েছে। চালানো হয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। করা হয়েছে অভদ্র আচরণ ও বিচিত্র প্রশ্ন। দেয়া হয়েছে নানা হুমকি। হাত বাঁধা চোখ বাঁধা অবস্থায় চলতো জিজ্ঞাসাবাদ। রিমান্ড শেষে তাকে কোর্টে নিয়ে যাওয়ার পর পাঠানো হয় জেলখানায়। কিন' জেলখানার বদলে তাকে হাসপাতালে রাখার নির্দেশ আসে। নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের প্রিজন সেলে। সেখানে প্রতিদিন রাত ২টার পর কর্নেল আফজাল ও কর্নেল সাঈদ আসতেন, সারারাত ঘুমাতে দিতেন না, মানসিক নির্যাতন করতেন। বলতেন নেত্রীর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে তারা যা বলবেন তা লিখে দিতে হবে। নতুবা স্ত্রী-সন্তানদের টর্চার করবেন। তাকে জীবনভর জেলে আটকে রাখবেন। তিনি জেলের ভয়ে ভীত নন বললে বলতেন স্ত্রী-সনৱানদের তুলে নিয়ে যাবেন। পরে তারা তাদের মতো করে একটি লেখা নিয়ে আসেন। তিনি তাতে সই করে দেন স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে। এরপর একদিন আফজাল ও সাঈদ বললেন, তাকে একদিনের জন্য ল্যাব এইডে যেতে হবে। তিনি জানতে চান কেন? তারা বললেন, নির্দেশ। তিনি ল্যাব এইডে যেতে রাজি না হলে আবারো নানা হুমকি দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি ততকালীন ডিআইজির (প্রিজন) সঙ্গে কথা বলেন। তার কাছে জানতে চান বেআইনিভাবে তাকে ল্যাব এইডে নিতে চায় কেন? ডিআইজি তাদের কাছে হসৱানৱরের সরকারি কাগজপত্র চাইলে তাদের হুঁশ হয়। সঙ্গে সঙ্গে তারা তার স্ত্রীর কাছে ছুটে যান। তাকে বলেন, উন্নত চিকিতসার জন্য তাকে ল্যাব এইডে নেয়া দরকার। এজন্য তার স্ত্রী যেন কর্তৃপৰের কাছে আবেদন জানান। সেনা কর্মকর্তারা তার স্ত্রীকে আইজি অফিসে নিয়ে যান। পরে তাকে ল্যাব এইডে নেয়ার পর রাত ১০টার দিকে বলা হয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তিনি রাজি হননি প্রথমে। ডিআইজিকে বলেন, তিনি কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় কথা বলতে পারেন না। ডিআইজিকে চলে যেতে বললে তিনি বলেন, যাবেন কি করে। নিচে চারজন কর্নেল বসে আছেন। কথা না বলিয়ে তারা যাবেন না। এরপর তার সামনে নিয়ে আসা হয় সাংবাদিকদের। এটিএনের মুন্নী সাহা তাকে প্রশ্ন করেন, জলিল ভাই ভয় পেয়েছেন কি না। তিনি বলেন, মৃত্যুভয় কে না পায়। এরপর নানাভাবে তাকে দিয়ে ক্যামেরার সামনে নানা কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়। পরদিন সকালে নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) গ্রেপ্তার করা হয়। আবদুল জলিলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সম্পর্কে তার বক্তব্য নিয়ে বাজারে আসা সিডি সম্পর্কে এবং তার স্ত্রী রেহানা জলিলের সংবাদ সম্মেলনে তার স্বাৰরিত চিঠি সম্পর্কে। জবাবে তিনি জানান, জোর করে মৃত্যুভয় দেখিয়ে স্ত্রী-সন্তান্দের জিম্মি করে কিছু সাজানো কথা তাকে দিয়ে বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং সেনা সদস্যদের লেখা উদ্দেশ্যমূলক বেআইনি চিঠিতে তার স্বাৰর নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ওই সিডি সম্পর্কে যখন জিজ্ঞাসা করেন সেটি বাইরে গেল কীভাবে, তখন তাকে ডিজিএফআইর এক অফিসার জানালেন, একজন সাংবাদিক চুরি করে তা নিয়ে গেছেন। জিজ্ঞাসা করেন সাংবাদিক সংরৰিত এলাকায় এলেন কিভাবে? তখন জবাব পাওয়া যায়নি। আবদুল জলিল বলেন, নির্যাতনের মুখে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় কখন কি বলেছেন জানেন না। তবে জ্ঞানত চেষ্টা করেছেন দল ও নেত্রীর জন্য খতিকর হয়- এমন কোনো কথা না বলতে। এছাড়া স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে তার স্বাক্ষরিত যে চিঠি বিলি করা হয়েছে তা করেছে ডিজিএফআইর লোক। তাকে, তার পরিবারকে ও বাসার লোকজনকে জিম্মি করে তারা ওই কাজ করেছে বলে জানান তিনি। আবদুল জলিল বলেন, যারা রাজনীতিবিদদের এভাবে নির্যাতন করেছেন, তারা অ্যান্টি ডেমোক্রেটিক এবং অ্যান্টি লিবারেশন ফোর্স। ওই চক্র দেশে গণতন্ত্র নস্যাত করে সামরিকতন্ত্র চালু করতে চেয়েছিলেন। জনগণের বাধার মুখে সফল হতে পারেননি। বর্তমান অবস্তার জন্য তার কোনো কষ্ট আছে কি না জানতে চাইলে আবদুল জলিল বলেন, এতো নির্যাতনের পরও বিনা কারণে আজকের এ অবস্থার জন্য মনের গহীনে চাপা কষ্ট থাকতেই পারে। কিন' জীবনে সব চাওয়া তো আর পাওয়া যায় না। তাই জীবনের শেষ প্রানেৱ এসে এসবকে তিনি তার ভাগ্য বলে মেনে নিয়েছেন।
Wednesday, December 30, 2009
জোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সৃষ্ট স'বিরতা কাটাতে বেগ পেতে হচ্ছে

জোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সৃষ্ট স্তবিরতা কাটাতে বেগ পেতে হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী
কাগজ প্রতিবেদক : জনগণের বিশ্বাসের মর্যাদা আমরা রৰা করবোই- এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দিন বদলের প্রতিশ্র"তি পূরণে এই সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নির্বাচনী ইশতেহার বাস-বায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তবে জোট সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সৃষ্ট স'বিরতা কাটিয়ে উঠতে তার সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে বলেও মন-ব্য করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতুর (তৃতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামর"ল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে তার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের পৰ থেকে জনগণকে কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩০০টি আসনের ২৬২ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। এক বছরে তার সরকারের সাফল্য দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ৰমতার মধ্যে রাখা হয়েছে। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো বাস-বায়ন করা হ"েছ।শেখ হাসিনা বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছরের দুর্নীতি ও লুটপাট এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের ভয়ভীতি ও আতঙ্কে দেশে একটা স'বির অবস'ার সৃষ্টি হয়েছিল। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকারকে বেশ বেগ পেতে হ"েছ। প্রধানমন্ত্রী চারদলীয় জোট সরকারের সমালোচনা করে বলেন, চারদলীয় জোট সরকার তাদের দুর্নীতি ও লুটপাট টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল। তারা ভুয়া ভোটার তৈরি করেছিল। দলীয় লোক দিয়েই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছিল। সে জন্যই ১/১১ হয়েছিল। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১/১১ হওয়ার পর রাজনীতিকেই সম্পূর্ণভাবে বিদায় জানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। দেশকে রাজনীতিশূন্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন' দেশের জনগণ, প্রবাসী বাংলাদেশী এবং বিভিন্ন দেশের চাপ ও দাবির মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু’ নামে নতুন সেতুটি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে শুর" হয়ে কেরানীগঞ্জের ওয়াসপুরে গিয়ে শেষ হয়েছে। সেতুর দৈর্ঘ্য ৭০৮ মিটার এবং প্রস' ১০ মিটার। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স'াপনের জন্য তার সরকারের কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সড়ক খাতে বিনিয়োগের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে তালিকা প্রণয়ন করে কুড়ি বছর মেয়াদি ‘রোড মাস্টার পস্ন্যান’ অনুমোদন করা হয়েছে।
Monday, December 28, 2009
জামাতে ইসলামী হচ্ছে হত্যা, খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ইসলাম ঃ শাহরিয়ার কবির
জামাতে ইসলামী হচ্ছে হত্যা, খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ইসলাম : শাহরিয়ার কবির
ভিওবিডি, টাঙ্গাইল থেকে
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, জামাত ইসলামী এবং আমিনীদের ব্যবসা বন্ধ হবে বলে তারা আজ শিক্ষানীতির বিরোধিতা করছে। জামাতে ইসলামী হচ্ছে- হত্যা, খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ইসলাম। আর আমাদের ইসলাম হচ্ছে হাজার বছরের সুফিদের ইসলাম, সহনশীল ও শান্তির ইসলাম। গতকাল শনিবার সকালে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ভূঞাপুর উপজেলা শাখার সমেমলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ইবরাহীম খাঁ কলেজ অডিটরিয়ামে মাসুদুল হক মাসুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ৮নং সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী, বিশিষ্ট অভিনেত্রী শম্পা রেজা, জেলা শাখার সদস্য সচিব কে এম আব্দুস ছালাম, একাত্তরের কোম্পানি কমান্ডার আসাদুজ্জামান আরজু, ভূঞাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুল হক তালুকদার, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি অধ্যাপক নাজির হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান মতি প্রমুখ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন একাত্তরের কোম্পানি কমান্ডার খন্দকার হাবিবুর রহমান।
ভিওবিডি, টাঙ্গাইল থেকে
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, জামাত ইসলামী এবং আমিনীদের ব্যবসা বন্ধ হবে বলে তারা আজ শিক্ষানীতির বিরোধিতা করছে। জামাতে ইসলামী হচ্ছে- হত্যা, খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ইসলাম। আর আমাদের ইসলাম হচ্ছে হাজার বছরের সুফিদের ইসলাম, সহনশীল ও শান্তির ইসলাম। গতকাল শনিবার সকালে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ভূঞাপুর উপজেলা শাখার সমেমলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ইবরাহীম খাঁ কলেজ অডিটরিয়ামে মাসুদুল হক মাসুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ৮নং সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী, বিশিষ্ট অভিনেত্রী শম্পা রেজা, জেলা শাখার সদস্য সচিব কে এম আব্দুস ছালাম, একাত্তরের কোম্পানি কমান্ডার আসাদুজ্জামান আরজু, ভূঞাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুল হক তালুকদার, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি অধ্যাপক নাজির হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান মতি প্রমুখ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন একাত্তরের কোম্পানি কমান্ডার খন্দকার হাবিবুর রহমান।
তিস্তার পানি বন্টন প্রশ্নে সুরাহা হচ্ছে

তিস্তার পানি বন্টন প্রশ্নে সুরাহা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী আইডিইবি সম্মেলনে বললেন : ভারতের সঙ্গে ৫৪টি নদী নিয়েই আলোচনা হবে
০ ইত্তেফাক ডেস্ক
প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত তিসৱা নদীর পানি বন্টন ইস্যুটির অবশেষে সুরাহা হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজধানীতে ডিপেস্নামা প্রকৌশলীদের জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ প্রদানকালে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার শিগগিরই ভারতের সঙ্গে তিসৱাসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দেশের ৫৪টি নদীর পানি বন্টন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে। তিনি বলেন, উভয় দেশের সরকারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। ইতিমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনার অপেৰায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ইনস্টিটিউট অব ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এর জাতীয় সম্মেলন ২০০৯ এবং ৩৪তম কাউন্সিল উদ্বোধন করেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ারদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে আনৱরিকতা ও নিবেদিত হয়ে কাজ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা মাঠ পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচির বাসৱবায়ন ঘটান। তাই ওইসব কর্মসূচির সফল বাসৱবায়ন বহুলাংশে আপনাদের ওপর নির্ভরশীল। খবর বাসস।
শেখ হাসিনা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার নদী খনন প্রকল্প বাতিল করলে নদ-নদীতে পলি জমা এবং দেশের দৰিণাঞ্চলে লবণাক্ত পানি প্রবাহ শুরম্ন হয়। বুড়িগঙ্গাকে ঢাকা শহরের প্রাণ উলেস্নখ করে তিনি বলেন, খনন কার্যক্রমকে সহজসাধ্য করার লৰ্যে সরকার ইতিমধ্যে বুড়িগঙ্গাকে আবর্জনামুক্ত করতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া ব্যাপক খনন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তুরাগ, বালু ও শীতলৰ্যার নাব্যতা পুনরম্নদ্ধার করা হবে। তিনি বলেন, কেবল নদী ব্যবস্থাপনা নয়, আমরা নাব্যতা পুনরম্নদ্ধারের মাধ্যমে নদ-নদীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠারও চেষ্টা করছি। এছাড়া ডেভেলপারদের প্রকল্পগ্রহণে গাছ ও উন্মুক্ত জলাশয় রাখার শর্তসহ অনুমতি প্রদানের জন্য সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রৰায় নীল ও সবুজের সমানুপাত চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলাশয় ও বৃৰ রাখার শর্ত না মানলে কোন ডেভেলপার কোম্পানিই প্রকল্পের অনুমতি পাবে না।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটে ৭শ’ কোটি টাকা নির্দিষ্ট করে রেখেছে এবং একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রাজধানীর ওপর ব্যাপক চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানী সম্প্রসারণ এবং নগরীকে সকলের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় রাজধানীর চারপাশে আরো চারটি স্যাটেলাইট শহর স্থাপনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইডিইবি’র প্রেসিডেন্ট এম আর খায়রম্নল উমাম এবং জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার কাজী নজরম্নল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
০ ইত্তেফাক ডেস্ক
প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত তিসৱা নদীর পানি বন্টন ইস্যুটির অবশেষে সুরাহা হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজধানীতে ডিপেস্নামা প্রকৌশলীদের জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ প্রদানকালে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার শিগগিরই ভারতের সঙ্গে তিসৱাসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দেশের ৫৪টি নদীর পানি বন্টন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে। তিনি বলেন, উভয় দেশের সরকারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। ইতিমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনার অপেৰায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ইনস্টিটিউট অব ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এর জাতীয় সম্মেলন ২০০৯ এবং ৩৪তম কাউন্সিল উদ্বোধন করেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ারদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে আনৱরিকতা ও নিবেদিত হয়ে কাজ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা মাঠ পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচির বাসৱবায়ন ঘটান। তাই ওইসব কর্মসূচির সফল বাসৱবায়ন বহুলাংশে আপনাদের ওপর নির্ভরশীল। খবর বাসস।
শেখ হাসিনা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার নদী খনন প্রকল্প বাতিল করলে নদ-নদীতে পলি জমা এবং দেশের দৰিণাঞ্চলে লবণাক্ত পানি প্রবাহ শুরম্ন হয়। বুড়িগঙ্গাকে ঢাকা শহরের প্রাণ উলেস্নখ করে তিনি বলেন, খনন কার্যক্রমকে সহজসাধ্য করার লৰ্যে সরকার ইতিমধ্যে বুড়িগঙ্গাকে আবর্জনামুক্ত করতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া ব্যাপক খনন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তুরাগ, বালু ও শীতলৰ্যার নাব্যতা পুনরম্নদ্ধার করা হবে। তিনি বলেন, কেবল নদী ব্যবস্থাপনা নয়, আমরা নাব্যতা পুনরম্নদ্ধারের মাধ্যমে নদ-নদীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠারও চেষ্টা করছি। এছাড়া ডেভেলপারদের প্রকল্পগ্রহণে গাছ ও উন্মুক্ত জলাশয় রাখার শর্তসহ অনুমতি প্রদানের জন্য সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রৰায় নীল ও সবুজের সমানুপাত চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলাশয় ও বৃৰ রাখার শর্ত না মানলে কোন ডেভেলপার কোম্পানিই প্রকল্পের অনুমতি পাবে না।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটে ৭শ’ কোটি টাকা নির্দিষ্ট করে রেখেছে এবং একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রাজধানীর ওপর ব্যাপক চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানী সম্প্রসারণ এবং নগরীকে সকলের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় রাজধানীর চারপাশে আরো চারটি স্যাটেলাইট শহর স্থাপনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইডিইবি’র প্রেসিডেন্ট এম আর খায়রম্নল উমাম এবং জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার কাজী নজরম্নল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
Sunday, December 27, 2009
প্রতিবন্ধী কল্যাণে সব ব্যবস্থা নেবে সরকার ঃ প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবন্ধী কল্যাণে সব ব্যবস্থা নেবে সরকার ঃ প্রধানমন্ত্রী
০ চাকরি দিলে আয়কর রেয়াত পাবে
০ স্কুলে ভর্তি না করালে কঠোর শাস্থি
০ গড়ে তোলা হবে প্রতিবন্ধী কম্পলেক্স
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোন কর্পোরেট বা বেসরকারি শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধীদের চাকরি প্রদান করলে তাদের আয়কর রিবেট (ছাড়) দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। গতকাল শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আনৱর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৮তম
আনৱর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলৰে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি আরো বলেন, সরকার ইতিমধ্যে প্রতিবন্ধী-উপযোগী কর্মৰেত্র চিহ্নিত করার কাজ শুরম্ন করেছে। প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুসারে উপযুক্ত প্রশিৰণ দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ
তৈরি করে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামূল হক মোসৱফা শহীদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি জহুরম্নল আলম ও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম আহমেদ নূরম্নল কবির। সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরম্নন্নেসা খানম। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের বৃত্তি ও ক্রেস্ট প্রদান করেন। এছাড়া তিনি ১০ জন প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ারও দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয়ে ভর্তিতে উৎসাহিত ও ঝরে পড়া রোধে আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী শিৰার্থীদের উপ-বৃত্তি বাড়ানো হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধিতার কারণে কোন শিৰার্থীকে সাধারণ শিৰা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে দায়ী ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে কঠোর শাসিৱমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি প্রতিটি স্কুলে ১ জন করে বিশেষজ্ঞ নিয়োগেরও পরিকল্পনার কথা উলেস্নখ করেন।
আনৱর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে সকল প্রতিবন্ধীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোন অসুখ নয়, মানব বৈচিত্র্যেরই একটি অংশ এবং প্রতিবন্ধীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সমাজের আর দশটা মানুষের মতই তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কিন্তু অত্যনৱ দুঃখের বিষয়, সমাজে প্রতিবন্ধীদের একটু ভিন্ন চোখে দেখা হয়। সমাজের সকলের এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষকে সচেতন করতে পারলে অবশ্যই প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন আসবে। এজন্য সকলের ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। প্রতিবন্ধীদের প্রতি কী ধরনের আচরণ করতে হবে পাঠ্যসূচিতে তা থাকা প্রয়োজন উলেস্নখ করে তিনি প্রতিবন্ধীদের প্রতি আচরণের বিষয়টি ছোটদের পাঠ্যসূচিতে অনৱর্ভুক্ত করার জন্য সংশিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে প্রতিবন্ধীর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তিনি ২০১১ সালে অনুষ্ঠিতব্য আদমশুমারীতে প্রতিবন্ধীদের সঠিকভাবে গণনা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখার জন্য সংশিস্নষ্টদের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো এবং যানবাহনে বিশেষ করে বিআরটিসি বাসে যাতে তারা চলাচল করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। সরকারি পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমী দেশব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে অথচ প্রতিবন্ধী শিল্পীদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ একেবারেই সীমিত। প্রতিবন্ধী শিল্পী সৃষ্টিতে ও তাদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের পাশাপাশি মূলধারার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিতে শিল্প একাডেমীসহ অন্যান্য একাডেমীকে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ইতিমধ্যে সকল মন্ত্রণালয়ে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাসৱবায়ন নিয়ে সরকার ভাবছে। এৰেত্রে ফোকাল মন্ত্রণালয় হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কাজ করবে এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়া সকল ধরনের প্রতিবন্ধীর চিকিৎসা, প্রশিৰণ ও পুনর্বাসন সুবিধাসহ একটি প্রতিবন্ধী কমপেস্নক্স তৈরি করার লৰ্যে ইতিমধ্যেই সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কর্মজীবী প্রতিবন্ধীদের জন্য ঢাকার মিরপুরস্থ জাতীয় বিশেষ শিৰা কেন্দ্রের অভ্যনৱরে মহিলা ও পুরম্নষ কর্মজীবী প্রতিবন্ধীদের হোস্টেল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি প্রতিবন্ধীদের আশ্বসৱ করে বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে অসহায় ভেবো না। তোমাদের অভিভাবকদের পাশাপাশি আমরাও তোমাদের সঙ্গে আছি। তোমাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আমি সব রকমের ব্যবস্থা নেব ইনশাআলস্নাহ।’
পরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের তৈরি হসৱশিল্প ও সহায়ক উপকরণ সামগ্রী পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
০ স্কুলে ভর্তি না করালে কঠোর শাস্থি
০ গড়ে তোলা হবে প্রতিবন্ধী কম্পলেক্স

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোন কর্পোরেট বা বেসরকারি শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধীদের চাকরি প্রদান করলে তাদের আয়কর রিবেট (ছাড়) দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। গতকাল শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আনৱর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৮তম
আনৱর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলৰে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি আরো বলেন, সরকার ইতিমধ্যে প্রতিবন্ধী-উপযোগী কর্মৰেত্র চিহ্নিত করার কাজ শুরম্ন করেছে। প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুসারে উপযুক্ত প্রশিৰণ দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ
তৈরি করে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামূল হক মোসৱফা শহীদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি জহুরম্নল আলম ও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম আহমেদ নূরম্নল কবির। সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরম্নন্নেসা খানম। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের বৃত্তি ও ক্রেস্ট প্রদান করেন। এছাড়া তিনি ১০ জন প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ারও দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয়ে ভর্তিতে উৎসাহিত ও ঝরে পড়া রোধে আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী শিৰার্থীদের উপ-বৃত্তি বাড়ানো হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধিতার কারণে কোন শিৰার্থীকে সাধারণ শিৰা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে দায়ী ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে কঠোর শাসিৱমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি প্রতিটি স্কুলে ১ জন করে বিশেষজ্ঞ নিয়োগেরও পরিকল্পনার কথা উলেস্নখ করেন।
আনৱর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে সকল প্রতিবন্ধীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোন অসুখ নয়, মানব বৈচিত্র্যেরই একটি অংশ এবং প্রতিবন্ধীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সমাজের আর দশটা মানুষের মতই তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কিন্তু অত্যনৱ দুঃখের বিষয়, সমাজে প্রতিবন্ধীদের একটু ভিন্ন চোখে দেখা হয়। সমাজের সকলের এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষকে সচেতন করতে পারলে অবশ্যই প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন আসবে। এজন্য সকলের ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। প্রতিবন্ধীদের প্রতি কী ধরনের আচরণ করতে হবে পাঠ্যসূচিতে তা থাকা প্রয়োজন উলেস্নখ করে তিনি প্রতিবন্ধীদের প্রতি আচরণের বিষয়টি ছোটদের পাঠ্যসূচিতে অনৱর্ভুক্ত করার জন্য সংশিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে প্রতিবন্ধীর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তিনি ২০১১ সালে অনুষ্ঠিতব্য আদমশুমারীতে প্রতিবন্ধীদের সঠিকভাবে গণনা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখার জন্য সংশিস্নষ্টদের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো এবং যানবাহনে বিশেষ করে বিআরটিসি বাসে যাতে তারা চলাচল করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। সরকারি পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমী দেশব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে অথচ প্রতিবন্ধী শিল্পীদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ একেবারেই সীমিত। প্রতিবন্ধী শিল্পী সৃষ্টিতে ও তাদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের পাশাপাশি মূলধারার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিতে শিল্প একাডেমীসহ অন্যান্য একাডেমীকে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ইতিমধ্যে সকল মন্ত্রণালয়ে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাসৱবায়ন নিয়ে সরকার ভাবছে। এৰেত্রে ফোকাল মন্ত্রণালয় হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কাজ করবে এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়া সকল ধরনের প্রতিবন্ধীর চিকিৎসা, প্রশিৰণ ও পুনর্বাসন সুবিধাসহ একটি প্রতিবন্ধী কমপেস্নক্স তৈরি করার লৰ্যে ইতিমধ্যেই সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কর্মজীবী প্রতিবন্ধীদের জন্য ঢাকার মিরপুরস্থ জাতীয় বিশেষ শিৰা কেন্দ্রের অভ্যনৱরে মহিলা ও পুরম্নষ কর্মজীবী প্রতিবন্ধীদের হোস্টেল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি প্রতিবন্ধীদের আশ্বসৱ করে বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে অসহায় ভেবো না। তোমাদের অভিভাবকদের পাশাপাশি আমরাও তোমাদের সঙ্গে আছি। তোমাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আমি সব রকমের ব্যবস্থা নেব ইনশাআলস্নাহ।’
পরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের তৈরি হসৱশিল্প ও সহায়ক উপকরণ সামগ্রী পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার ও শাস্তি ছাড়া জাতি কলুষমুক্ত হবে না : মইনউদ্দিন খান বাদল
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার ও শাস্তি ছাড়া জাতি কলুষমুক্ত হবে না : মইনউদ্দিন খান বাদল
কাগজ প্রতিবেদক, রাজশাহী : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভপতি মইনউদ্দিন খান বাদল এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার ও শাস্তি ছাড়া জাতির আত্মা কলুষমুক্ত হবে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে খুন করে জাতির ললাটে বেঈমানির কলঙ্ক চাপিয়ে দেয়ার অপপ্রয়াস পেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি। জামাত ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিভ্রান্তি ও মিথ্যার মাধ্যমে রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহাসিক ভুবনমোহন পার্কে রাজশাহী জেলা ও মহানগর জাসদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।জেলা জাসদের সভাপতি মজিবুল হক বকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মইনউদ্দিন খান বাদল আরো বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মহাজোট সরকার ৰমতায় এসে দেশকে পরিবর্তনের ধারায় পরিচালিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ বিদেশী সাহায্য ছাড়াই বাজেট করবে বলে তিনি উলেস্নখ করেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, ন্যাপ নেতা ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসন আখুঞ্জি, আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান বাদশা, সিপিবি নেতা এনামুল হক, বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক ফজলুল হক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নেতা ডা. সৈয়দ সাফিকুল আলম, রাজশাহী রৰা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জামাত খান। এ ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মহানগর জাসদের সভাপতি প্রদীপ মৃধা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুলস্নাহ আল মাসুদ শিবলী, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার মান্নান জামী ও জাসদ নেতা সেলিমুজ্জামান সেলিম।এর আগে জাসদ নেতা শহীদ মুুকিমের মা গেলেমা বেগম সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। পরে একটি বর্নাঢ্য র্যালি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদৰিণ করে।
কাগজ প্রতিবেদক, রাজশাহী : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভপতি মইনউদ্দিন খান বাদল এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার ও শাস্তি ছাড়া জাতির আত্মা কলুষমুক্ত হবে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে খুন করে জাতির ললাটে বেঈমানির কলঙ্ক চাপিয়ে দেয়ার অপপ্রয়াস পেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি। জামাত ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিভ্রান্তি ও মিথ্যার মাধ্যমে রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহাসিক ভুবনমোহন পার্কে রাজশাহী জেলা ও মহানগর জাসদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।জেলা জাসদের সভাপতি মজিবুল হক বকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মইনউদ্দিন খান বাদল আরো বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মহাজোট সরকার ৰমতায় এসে দেশকে পরিবর্তনের ধারায় পরিচালিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ বিদেশী সাহায্য ছাড়াই বাজেট করবে বলে তিনি উলেস্নখ করেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, ন্যাপ নেতা ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসন আখুঞ্জি, আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান বাদশা, সিপিবি নেতা এনামুল হক, বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক ফজলুল হক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নেতা ডা. সৈয়দ সাফিকুল আলম, রাজশাহী রৰা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জামাত খান। এ ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মহানগর জাসদের সভাপতি প্রদীপ মৃধা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুলস্নাহ আল মাসুদ শিবলী, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার মান্নান জামী ও জাসদ নেতা সেলিমুজ্জামান সেলিম।এর আগে জাসদ নেতা শহীদ মুুকিমের মা গেলেমা বেগম সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। পরে একটি বর্নাঢ্য র্যালি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদৰিণ করে।
জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা হবে : আইন প্রতিমন্ত্রী
জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা হবে : আইন প্রতিমন্ত্রী
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ২ মাসের মধ্যে
চট্টগ্রাম অফিস : এখন দেশের জনগণের প্রাণের দাবি হচ্ছে দ্রুত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা। বর্তমান সরকার জনগণের এ দাবি পূরণে বদ্ধপরিকর। আগামী জানুয়ারিতে বহুল প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা হবে। গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলার আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এ কথা বলেন।যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করার পর পরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হবে। তাদের বিচার প্রক্রিয়ার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ বিচার কার্য সম্পন্ন করতে খরচ বাবদ সরকার ১০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের জন্য পুরাতন হাইকোর্টের ভবনকে নির্বাচন করা হয়েছে। আশা করছি আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে এ ভবনে তাদের বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে সরকার তার নির্বাচনী ওয়াদা পালন করবে।রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন ও নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে সরকার ও বিরোধী দলকে এক যোগে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিরোধিতা করার সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। জোট সরকার আমলের রাজনৈতিক হয়রানি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জোট সরকারের আমলে বহু সংখ্যালঘু নির্যাতন, রাজনৈতিক হয়রানি এবং ফাহিমা মহিমাসহ বহু নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। জোট সরকারের আমলের সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং রাজনৈতিক হয়রানির ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশন তদন্ত করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার পর ওই আমলে সংঘটিত সব ঘটনার বিচার শুরু হবে।জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. রফিকুল কাদের সাইয়েদের সভাপতিত্বে এ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ২ মাসের মধ্যে
চট্টগ্রাম অফিস : এখন দেশের জনগণের প্রাণের দাবি হচ্ছে দ্রুত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা। বর্তমান সরকার জনগণের এ দাবি পূরণে বদ্ধপরিকর। আগামী জানুয়ারিতে বহুল প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা হবে। গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলার আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এ কথা বলেন।যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করার পর পরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হবে। তাদের বিচার প্রক্রিয়ার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ বিচার কার্য সম্পন্ন করতে খরচ বাবদ সরকার ১০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের জন্য পুরাতন হাইকোর্টের ভবনকে নির্বাচন করা হয়েছে। আশা করছি আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে এ ভবনে তাদের বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে সরকার তার নির্বাচনী ওয়াদা পালন করবে।রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন ও নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে সরকার ও বিরোধী দলকে এক যোগে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিরোধিতা করার সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। জোট সরকার আমলের রাজনৈতিক হয়রানি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জোট সরকারের আমলে বহু সংখ্যালঘু নির্যাতন, রাজনৈতিক হয়রানি এবং ফাহিমা মহিমাসহ বহু নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। জোট সরকারের আমলের সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং রাজনৈতিক হয়রানির ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশন তদন্ত করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার পর ওই আমলে সংঘটিত সব ঘটনার বিচার শুরু হবে।জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. রফিকুল কাদের সাইয়েদের সভাপতিত্বে এ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।
হৃদয়ে একাত্তর-২ >> শহীদদের প্রকৃত তালিকা ও পরিচয় জানতে কোনো উদ্যোগ নেই
হৃদয়ে একাত্তর-২ >> শহীদদের প্রকৃত তালিকা ও পরিচয় জানতে কোনো উদ্যোগ নেই

কাজী সাইফুদ্দিন অভি : মুক্তিযুদ্ধকালীন পাক হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামসরা নির্বিচারে নিরীহ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে গণকবর দেয়। অনেকের লাশ জলাশয় বা গর্তে ফেলে রাখে। এক সময় এই লাশগুলো কঙ্কালে পরিণত হয়। তখন আর এগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় এসব হাড়গোড় ও মাথার খুলি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু শনাক্ত করতে না পারায় শহীদদের নাম-পরিচয় জানা যাচ্ছে না। স্বাধীনতার ৩৮ বছরেও শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা কতো তা নির্ণয় করার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের কথা বলা হলেও সকল শহীদের নাম-পরিচয় জানার প্রয়োজন কেউ মনে করেনি। বেসরকারিভাবে ‘ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ শহীদদের ডিএনএ টেস্টের উদ্যোগ নিলেও সরকারি সহযোগিতার অভাবে সেই উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, স্বাধীনতার পর প্রিয়জন হারানো অনেকেই পথ চেয়েছিলেন তাদের প্রিয় মানুষটি হয়তো ফিরে আসবে। কিন্তু তারা আর ফিরে আসেননি। শহীদ পরিবারগুলোর দাবি, কোনোভাবে যদি তারা জানতে পারেন বধ্যভূমিতে, গণকবরে পাওয়া মাথার খুলি, হাড় তাদের প্রিয়জনের তাহলে হয়তো তারা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজে পাবেন। শুধু তাই নয়, শহীদদের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহেও এটি কার্যকর পদৰেপ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। শহীদদের স্বজনদের দাবি, স্বাধীনতার পর যে সব বধ্যভূমি ও গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে সেখান থেকে কঙ্কাল, মাথার খুলি, হাড়গোড় উদ্ধার করে তার ডিএনএ টেস্ট করে তাদের প্রিয়জনের লাশ শনাক্ত করা হোক। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাক হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকারদের হাতে নিহতদের একজন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতী ইউনিয়নের আবুতারা কাজী। রাজাকাররা তাকেসহ চার জনকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে পাক হানাদারদের কাছে দেয়। পরে হানাদাররা গোপালগঞ্জের তৎকালীন সিও অফিস সংলগ্ন ক্যাম্পের সামনে তাদের দিয়ে গর্ত খুঁড়িয়ে সেখানেই তাদের অর্ধমৃত অবস্থায় মাটিচাপা দেয়। তার ছেলে কাইয়ুম কাজী বলেন, আমার বাবা, দুই ফুফাতো ভাই ফারজু খাঁন ও কিবরিয়া খাঁনসহ চারজনকে একসঙ্গে পাক হানাদার ও রাজাকাররা হত্যা করে। আমার বাবাসহ যারা ওই সময় শহীদ হয়েছিলেন তাদের পরিচয়ের জন্য লাশ শনাক্ত করা উচিত। এটি করা হলে বাবার স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে পারবো। আমরা শুনেছি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের গণহত্যার পর ডিএনএ টেস্ট করে তাদের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি তারা যেন এই উদ্যোগটি নিয়ে শহীদ পরিবারকে তাদের প্রিয়জনের স্মৃতি ধরে রাখার ব্যবস্থা নেন। স্বাধীনতার পর বেসরকারিভাবে আবিষ্কৃত গণকবরগুলোতে শহীদদের সংখ্যা আজো বের করা সম্ভব হয়নি। এমনও হয়েছে কৃষক মাঠে লাঙল দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে উঠে এসেছে শহীদদের হাড়। আবার কোথাও একটু মাটি খুঁড়লেই বেরিয়ে আসছে শহীদের হাড়গোড়। কিন্তু এগুলো সংরৰণ ও তাদের নাম-পরিচয় জেনে স্মৃতিফলক নির্মাণ ও ডিএনএ টেস্ট করার কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারিভাবে শহীদদের ডিএনএ টেস্ট করার উদ্যোগ নেয়া না হলেও বেসরকারিভাবে প্রথমবারের মতো ১৯৯৯ সালে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি এ উদ্যোগ নেয়। এজন্য তারা মিরপুর শিয়ালবাড়ি বধ্যভূমিতে পাওয়া শহীদদের হাড়গোড় ও মাথার খুলি সংগ্রহ করে তার ডিএনএ টেস্ট করার উদ্যোগ নেয়। ডিএনএ টেস্টের জন্য তারা মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুলস্নাহ কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার, শহীদ পুলিশ অফিসার জিয়াউল হক খান লোদীর মেয়ে জাহানারা খানের রক্ত ও শহীদ লে. সেলিমের পিতা ডা. এম এ সিকদারের দাঁতসহ মোট ৬ জনের পরিবারের সদস্যদের রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা নেয়। এছাড়া চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কামানটিলায় শীলপাড়ার শহীদদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নমুনাও ওই সময় সংগ্রহ করা হয়। শহীদদের ফরেনসিক ও ডিএনএ টেস্টের ব্যাপারে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এম এ হাসান ভোরের কাগজকে বলেন, ১৯৯৯ সালে মিরপুরের মুসলিম বাজার ও জলস্নাদখানা বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়ার পর আমরা সেখান থেকে এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কামানটিলা বধ্যভূমি থেকে শহীদদের ডিএনএ টেস্ট ও ফরেনসিক পরীৰার জন্য নমুনা সংগ্রহ করি। এরপর শহীদদের শরীরের বিভিন্ন অংশের ডিএনএ টেস্ট ও ফরেনসিক পরীৰা করতে নমুনা সংগ্রহ করে ভারতের সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবে নিয়ে যাই। এই ল্যাবে পরীৰাও করা হয়েছিল। আমি আনঅফিসিয়ালি জানতে পেরেছিলাম পরীৰায় একটি রিপোর্ট পজেটিভ আসছিল। কিন্তু পরে আর অফিসিয়াল রিপোর্ট আমাদের দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে ফরেনসিক বিভাগে যোগাযোগ করলে তারা জানায় বাংলাদেশ সরকার অফিসিয়ালি রিপোর্ট না দেয়ার জন্য বলেছে। পরে আমি সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সেইভাবে সহযোগিতা পাইনি। এর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছে সরকারের ওপর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ছিল এই ধরনের রিপোর্ট না দিতে। তিনি বলেন, এরপরেও আমি বসে নেই। আমি লন্ডন, সুইজারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। লন্ডনের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ভ্যানেজিসের সঙ্গে আমি ’৭১-এর শহীদদের ডিএনএ টেস্ট ও ফরেনসিক টেস্ট করার ব্যাপারে আলোচনা করেছি। তিনি আমাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন এটি করা সম্ভব। প্রতিটি কেসের জন্য ৭৫০ পাউন্ড করে খরচ হবে বলে তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রমাণ হিসেবে ডিএনএ টেস্ট দালিলিক প্রমাণ হতে পারে। এখন আমাদের দেশেও ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে। শুধু দরকার সরকারি উদ্যোগ। সরকার উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গণকবর হিসেবে চিহ্নিত স্থানে শহীদদের পরিচয় বের করতে দুটি ধাপে কাজ করতে হবে। প্রথমে শহীদদের শরীরের যে সকল অংশ পাওয়া গেছে তার ফরেনসিক পরীৰা এবং ডিএনএ প্রোফাইলিং করা। এরপর যুদ্ধে যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন তাদের ডিএনএ প্রোফাইলিং করে মিলিয়ে দেখা। এভাবে শহীদদের পরিচয় জানা সম্ভব হতে পারে। এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব (বর্তমানে ওএসডি) বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ কিবরিয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, শহীদদের সঠিক তালিকা ও নাম পরিচয় জানতে স্বাধীনতার পর পর কাজ শুরু করলে তা সহজ হতো। ৩৮ বছর পর শহীদদের শনাক্ত করা খুবই কঠিন হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারে এই গণকবরে তার স্বজনের লাশ আছে বা তাদের সংগ্রহে কোনো হাড়গোড় ও শরীরের অংশ থাকে তাহলে তার ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীৰা করা যেতে পারে। তবে এজন্য শহীদ পরিবার থেকে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন হবে। শহীদ পরিবারের পৰ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ আমাদের কাছে দাবি জানালে আমরা বিষয়টি দেখবো।
মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বো"চ মূল্যায়ন করবে মহাজোট সরকার : তোফায়েল আহমেদ
মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বচ্চ মূল্যায়ন করবে মহাজোট সরকার : তোফায়েল আহমেদ
বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা : আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, দেশের সূর্যসন্তান্দের যথাযথ মূল্যায়ন করা জাতির সর্বচ্চ কর্তব্য। এ কর্তব্য পালন না করলে সবার কাছে অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে পরিচিত হবো। এ জন্য মহাজোট সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে জমি হস্তন্তর, আইলায় ৰতিগ্রস-দের মাঝে নগদ অর্থ, বিধবা ভাতা এবং মাধ্যমিক স-রে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি এ সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, জরিপ অফিসসহ যে কোনো দপ্তরে দলীয় পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা প্রভাব বিস-ারের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীকে তাতখণিক গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।জেলা প্রশাসক মেজবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজর"ল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপসি'ত ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিন হায়দার, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাদা তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহফুজা আহসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, গংগাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আহাম্মদ উল্যাহ প্রমুখ।অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ ২৭ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ২৭ একর জমির দলিল হস-ান-র, আইলায় ৰতিগ্রস- ১ হাজার ৫০০ পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা, ৪৫ জন বিধবাকে ১ হাজার ৮০০ টাকা করে বিধবা ভাতা ও মাধ্যমিক স-রের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্য বই বিতরণ করেন।
Friday, December 25, 2009
কোপেনহেগেনে জননেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত, মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে হল্যান্ড আওয়ামী লীগের যোগদান
কোপেনহেগেনে জননেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত, মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে হল্যান্ড আওয়ামী লীগের যোগদান

ভিওবিডি, ১৬ই ডিসেমবর ২০০৯, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ আয়োজিত মহান বিজয় দিবস ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে- উপবিষ্ট রয়েছেন, মাননীয় প্রধানমনত্রী, পরাষ্ট্রমনত্রী, স্বাসহমনত্রী, বন ও পরিবেশ প্রতিমনত্রী, সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সমমানিত সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। হল্যান্ড আওয়ামী লীগের এক প্রেস বিজ্ঞপিততে জানানো হয়েছে যে, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন সমেমলন কোপ-১৫, যোগদানের জন্য, জাতির জনকের কন্যা, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমনত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার ডেনমার্ক আগমন উপলক্ষ্যে, ১৬ই ডিসেমবর ২০০৯, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হল্যান্ড আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলও যোগদান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন, প্রধান অতিথি মাননীয় প্রধানমনত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা, সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সমমানিত সভাপতি, সর্বজনশ্রদ্ধেয়-শ্রী অনিল দাশ গুপত, মাননীয় পরাষ্ট্রমনত্রী ডা. দীপু মণী, মাননীয় স্বাসহমনত্রী আ ফ ম রুহুল হক, মাননীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক প্রতিমনত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সুইডেনসহ রাষ্ট্রদূত জনাব ইমতিয়াজ আহমেদ ও ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি বাচ্চু প্রমুখ। সদুর প্রবাসে, বাংলাদেশের ৩৮তম মহান বিজয় দিবসের মহতি অনুষ্ঠানে প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে কাছে পেয়ে
উপসিহত নেতা-কর্মীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেন। সমগ্র ইউরোপ থেকে আগত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা শেলাগানে-শেলাগানে মুখরিত ও প্রকম্পিত করে তোলেন পুরা হল প্রাঙ্গণ। ১৬ই ডিসেমবর ২০০৯, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ আয়োজিত মহান বিজয় দিবস ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপসিহত অতিথিদের একাংশ।উক্ত বিজয় দিবসে জননেত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে, হল্যান্ড আওয়ামী লীগ, উপস্থিতিতেদের মাঝে ‘বঙ্গবন্ধু’র ছবি সংবলিত লিফলেট প্রচার করেন। উক্ত লিফলেটে- সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশের ৩৮তম মহান বিজয় দিবস-২০০৯, কোপেনহেগেন, ডেনমার্কে, জাতির জনকের কন্যা, বিশ্ব শানিতর অগ্রদূত, গণতনেত্রর মানসকন্যা, মাননীয় প্রধানমনত্রী, দেশ-রত্ন, জননেত্রী শেখ হাসিনার উপসিহতিতে ‘বিজয় দিবস’ উদযাপন করতে পেরে সকলেই গভীর আনন্দীত। এবং হল্যান্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমনত্রীকে জানানো হয়, স্বাগতম, প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। লিফলেটের মাধ্যমে-গভীর শ্রদ্ধা, বিনম্র ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণ করা হয়, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙ্গালী, স্বাধীনতা ও বিজয়ের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের সহপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়েছে, জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে।

শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়, ত্রিশ লক্ষ শহীদদের দু’লক্ষ সমভ্রমহারা মা-বোনদের যাদের আত্মত্যাগের ফলে, ১৬ই ডিসেমবর ১৯৭১ অর্জিত হয়েছে, বাঙ্গালী জাতির মহান বিজয়। উক্ত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে- প্রচারিত লিফলেটে-মাননীয় প্রধানমনত্রীর নিকট অবিলমেব যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জোর দাবীও জানানো হয়েছে। নেতা-কর্মীরা, মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুল্যবোধ সমুন্নত রাখার এবং বঙ্গবন্ধুর সপেনর সোনার বাংলা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করারও অঙ্গীকারবদ্ধ হন। কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত উক্ত গণসংবর্ধনা ও মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে- হল্যান্ড আওয়ামী লীগের পক্ষে- উপসিহত ছিলেন, সভাপতি জনাব মাঈদ ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মোসতফা জামান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুরাদ খান। উক্ত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে-
মাননীয় প্রধানমনত্রীর সফরসঙ্গীরা ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আগত ব্যারিষ্টার ফজলে নূর তাপস, সাবের হোসেন চৌধুরী ও জাহিদ আহসান রাসেলসহ অনেক সংসদ সদস্যগণ এবং সাংবাদিকরা উপসিহত ছিলেন। এবং যুক্তরাজ্যসহ সমগ্র ইউরোপ থেকে আগত আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাঙ্গালীরা উপসিহত হয়ে প্রানপ্রিয় নেত্রীকে অভিনন্দন জানান। উল্লেখ্য, ডেনমার্কের প্রতিবেশী দেশ সুইডেন সহ বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, সমাজ সেবক, আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল হাসান সহ ২০/২৫ জন প্রবাসী বাঙ্গালী ভাইদের নিয়েও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত
মাননীয় প্রধানমনত্রীর সফরসঙ্গীরা ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আগত ব্যারিষ্টার ফজলে নূর তাপস, সাবের হোসেন চৌধুরী ও জাহিদ আহসান রাসেলসহ অনেক সংসদ সদস্যগণ এবং সাংবাদিকরা উপসিহত ছিলেন। এবং যুক্তরাজ্যসহ সমগ্র ইউরোপ থেকে আগত আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাঙ্গালীরা উপসিহত হয়ে প্রানপ্রিয় নেত্রীকে অভিনন্দন জানান। উল্লেখ্য, ডেনমার্কের প্রতিবেশী দেশ সুইডেন সহ বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, সমাজ সেবক, আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল হাসান সহ ২০/২৫ জন প্রবাসী বাঙ্গালী ভাইদের নিয়েও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত
ছিলেন।এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ১৬ই ডিসেমবর ২০০৯, হল্যান্ডসহ বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষ্যে, এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। দূতাবাস আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জনাব জাকিরুল হক টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ও প্রচার সম্পাদক মুহিন উদ্দিন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রশীদ রানা প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।



