Thursday, November 26, 2009
HAPPY EID MUBARAAK
Tuesday, November 24, 2009
ওঁরা বহাল তবিয়তে

৭৫ থেকে ৯৬ বঙ্গবন্ধুর খুনিরা যেভাবে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য পান! বঙ্গবন্ধুর খুনিদের লিবিয়া নিয়ে যায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শমসের মবিন চৌধুরী
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
Monday, November 23, 2009
৭২ এর সংবিধান বাঙালির জাতীয় বিশ্বাসের দলিলঃ লন্ডনে সংবিধান দিবসের সেমিনারে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
Thursday, November 19, 2009
আপিল খারিজ ৭ আসামি পলাতক
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়
।। দিদারম্নল আলম ও অপূর্ব আলাউদ্দিন ।।
অপেৰার প্রহর শেষ হলো। বাঙ্গালি জাতি মুক্তি পেল ৩৪ বছরের কলঙ্ক, গস্নানি ও দায়বদ্ধতার হাত থেকে। প্রত্যাখ্যাত হলো স্বীকৃত খুনিদের আপিল। যাদের নির্মম বুলেট কেড়ে নিয়েছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, মহান স্বাধীনতার ঘোষক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রাণ তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, ১০ বছরের অবুঝ শিশু রাসেলসহ আরো অসহায় নারী-পুরম্নষের জীবন প্রদীপ।
মাতৃভূমির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতাতুল্য সেই ঘটনায় শুধু বাঙ্গালি জাতি নয়, সৱম্ভিত হয়েছিল পুরো বিশ্ব। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কলঙ্কিত ঘটনায় দায়ের করা মামলার চূড়ানৱ নিষ্পত্তি করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার জনাকীর্ণ আদালতে খারিজ করে দেয়া হলো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি ৫ আসামি লে. কর্নেল (বরখাসৱ) সৈয়দ ফারম্নক রহমান, লে.কর্নেল (অব:) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, লে. কর্নেল (অব:) মহিউদ্দিন আহম্মেদ (আর্টিলারি), মেজর (অব:) এ কে এম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার) ও মেজর (অব.) বজলুল হুদার আপিল। একইসঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের ওপর যে স্থগিতাদেশ ছিল তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ৭ আসামির (এদের কেউই আপিল করেনি) ৰেত্রেও ফাঁসির রায় বহাল থাকল। পলাতকরা হলো লে. কর্নেল (অব.) এসএইচ এমবি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ, লে. কর্নেল (অব.) এম এ রাশেদ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদ, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ও লে. কর্নেল (অব:) মোঃ আজিজ পাশা। অবশ্য সর্বশেষ আসামি পলাতক থাকা অবস্থায় ২০০২ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।
আদালতের ঘোষিত এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হলো অপরাধীরা যত শক্তিশালী হোক, তাদের কোন কালো আইনের সহায়তায় রৰা করা সম্ভব নয়। এই রায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ৰেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মত ব্যক্ত করেছেন দেশের শীর্ষ আইন কর্মকর্তারা। নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়। তবে এই রায়ের বিরম্নদ্ধে আসামিরা সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ পিটিশন) দাখিল করবে বলে তাদের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন। এদিকে রায় ঘোষণার পর নিহতদের স্মরণে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে উপস্থিত সরকার পৰের কৌঁসুলি ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।
সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকরা জড়ো হতে থাকেন। রায় ঘোষণাকালে প্রধান বিচারপতির ১ নম্বর বিচার কৰে মানুষের তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।
রায় ঘোষণার সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রতিমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম রহমতউলস্নাহসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত ছিলেন।
আসামিদের আপিল আবেদন খারিজের পরপরই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মিছিলে শেস্নাগানে মুখর হয়ে ওঠে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ। এ সময় আদালতের ভিতর থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শেস্নাগানে মিছিল নিয়ে বেরিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের আইনজীবীরা। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় সংসদ, বঙ্গবন্ধু ডিপেস্নামা প্রকৌশলী পরিষদের ব্যানারে এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল করতে দেখা গেছে।
সুপ্রিমকোর্টের রায়ে যা বলা হয়েছে
২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি পাঁচ আসামির লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে। ৫টি যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে লিভ-টু আপিল মঞ্জুর করে ছিল আদালত। গতকাল সুপ্রিমকোর্ট ওই ৫টি বিষয়ের ওপর পর্যবেৰণ দিয়ে আসামিদের আপিল খারিজ করে দেন। সুপ্রিমকোর্টের রায়ে বলা হয়, লিভ-টু-আপিল মঞ্জুরের প্রথম যুক্তি ছিলঃ হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় নিষ্পত্তিতে তৃতীয় বিচারপতি পুরো রায় বিবেচনা না করার পরিবর্তে ৬ জনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে আইনের ব্যত্যয় বা মৌলিক ভুল করেছেন কিনা? গতকাল সুপ্রিমকোর্ট তার রায়ে এ বিষয়ের ওপর পর্যবেৰণ দিয়ে বলেছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৮ ও ৪২৯ ধারায় স্পষ্টত উলেস্নখ আছে যে, হাইকোর্টের তৃতীয় বিচারপতি কোন কোন বিষয় বিবেচনায় নিতে এবং শুনতে পারবেন। এ ব্যাপারে তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন। এটা তার নিজস্ব এখতিয়ার। ফলে এই মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের দ্বিধাবিভক্ত রায়ে যে ৬ আসামির ব্যাপারে দুইজন বিচারপতির মধ্যে মতভেদ ছিল, কেবল সেই ৬ জনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্টের তৃতীয় বিচারপতি কোন ভুল করেনি। দ্বিতীয় যুক্তি ছিলঃ মামলা দায়েরে ‘বিলম্ব’ স্বাভাবিক বলে নিম্ন আদালতের পর্যবেৰণ যথার্থ কিনা? এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের মত হচ্ছেঃ রাষ্ট্রপৰ বিলম্বে মামলা দায়েরের ৰেত্রে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞ দায়রা জজ ও হাইকোর্টের বিচারপতিগণ সেটা গ্রহণ করেছেন। হত্যাকান্ড ঘটনায় মামলা দায়েরের ৰেত্রে বিলম্ব অযৌক্তিক নয়। তৃতীয় যুক্তি ছিলঃ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ‘সেনা বিদ্রোহ’ না নিছক হত্যাকান্ড এবং অভিযুক্তদের সাধারণ আদালতে বিচার করার এখতিয়ার আছে কিনা? এ প্রসঙ্গে সুপ্রিমকোর্টের পর্যবেৰণ হলোঃ সেনা আইনের ৫৯(২) ধারায় হত্যার বিষয় বলা হয়েছে, হত্যাকারী যদি ‘এ্যাকটিভ সার্ভিস-এ থাকে তাহলে সেনা আইনে বিচার করতে হবে। কিন্তু আপিলকারীরা ‘এ্যাকটিভ সার্ভিস’-এ ছিলেন না। এছাড়া সেনা আইনের ৮(২) ধারা অনুযায়ী এটি একটি বেসামরিক অপরাধ (সিভিল অফেন্স)। তাই সেনা আইনের ৯৪ ধারা মোতাবেক আপিলকারীদের প্রচলিত আইনে বিচারে কোন বাধা নেই।
চতুর্থ যুক্তি ছিল ঃ তৎকালীন সরকারকে উৎখাত বা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের আওতায় পড়ে কিনা? এতে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলেছে, আসামি পৰের কৌঁসুলিগণ এমন কোন যুক্তি দেখাতে পারেননি যে, সেনা বিদ্রোহের ফলশ্রম্নতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। তাই আদালতের মত হচ্ছে তৎকালীন সরকারকে উৎখাত করার জন্য এটা সেনা বিদ্রোহের কোন ষড়যন্ত্র ছিল না। এটা নিছক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্র ছিল।
পঞ্চম যুক্তি ছিল ঃ লিভ টু আপিল মঞ্জুরের ৰেত্রে বিচার্য বিষয় ছিল রাষ্ট্রপৰ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তা ছিল ‘সিরিয়াস মিসক্যারেজ অব জাস্টিজ’। এৰেত্রে সুপ্রিম কোর্ট মত দিয়েছে যে, সাৰ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছেন এবং রায়ে হত্যার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে রাষ্ট্রপৰ প্রমাণ করতে পেরেছে। আপিলকারীর কৌঁসুলিরা (আসামি পৰ) তাদের পৰে যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে আমরা হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের ওপর হসৱৰেপের যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ দেখি না। এছাড়া আপিলকারীর কৌঁসুলিরা আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বাতিল বা সাজা কমানোর ৰেত্রে যথাযথভাবে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত ও হাইকোর্টের বিচারকগণ আসামিদের বিরম্নদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন তাতে আমরা কোন হসৱৰেপ করব না। এসব কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিদের দায়ের করা আপিলগুলো খারিজ করা হল। একইসঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের ওপর যে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছিল তাও প্রত্যাহার করা হল।
রায় ঘোষণা করলেন যারা
বিচারপতি এম তাফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গতকাল বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে এজলাসে বসেন। বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এম তাফাজ্জল ইসলাম বেলা ১১টা ৪৬ মিনিট থেকে ১২টা পর্যনৱ সংৰিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর চার সদস্য বিচারপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, বিচারপতি বি কে দাস, বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন ও বিচারপতি এস কে সিনহা এজলাসে ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তারা এজলাস ত্যাগ করেন। এর আগে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে তাদেরকে সুপ্রিমকোর্টে নিয়ে আসা হয়। সকাল ১১টায় রায় ঘোষণার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট পর আদালত বসে। প্রধান বিচারপতির ১ নম্বর কৰে সকাল ১০টা থেকে আইনজীবীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়। কৰের প্রবেশমুখে বসানো হয় ‘আর্চওয়ে’। এ সময় সকলের দেহ তলস্নাশি করে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় প্রায় নয়শতাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট জুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় চূড়ানৱ রায় ঘোষণাকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গতকাল কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলা হয়। এ সময় কোর্ট প্রাঙ্গণ ছিল অত্যনৱ শানিৱপূর্ণ। সকালের দিকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনি উপেৰা করে সুপ্রিম কোর্টের দেয়াল টপকে প্রবেশকালে দুই যুবক পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। পুলিশ তাদের শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। পুরো এলাকাজুড়ে র্যাব, পুলিশ, মহিলা পুলিশ, আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীর সহস্রাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়। র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা সংস্থার তিনশতাধিক সদস্যও মোতায়েন ছিল। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিৰণপ্রাপ্ত পুলিশের ‘সোয়াত’ টিম সেখানে অবস্থান নেয়। এছাড়াও র্যাবের ডগ স্কোয়াড দিয়েও তলস্নাশি চালানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ এবং কোর্টের নি্নিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪টি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়। এসব ক্যামেরায় ধারণকৃত চিত্র সার্বৰণিক মনিটরিং করতে আদালতের প্রধান ফটকে একটি পুলিশ টিম কাজ করে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়কে ঘিরে গতকাল সকাল থেকেই আইনজীবী, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং উৎসুক জনতা আদালতে ভিড় করতে থাকে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও লোক সমাগম বাড়তে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি গাড়ি ও ব্যক্তিগত তলস্নাশি করে তাদের আদালতে ঢুকতে দেয়। আদালতের অভ্যনৱরে চার সৱর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রতিটি স্থানে আইডি কার্ড দেখে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে লোকজনকে আদালতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।
আদালতে প্রতিটি ফ্লোরে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও মোতায়েন করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম সংশিস্নষ্ট ৫ বিচারপতি র্যাব ও পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে আদালতে প্রবেশ করেন। রায়কে কেন্দ্র করে শুধু আদালত প্রাঙ্গণেই নয়, এই বিচার প্রক্রিয়ার সাথে সংশিষ্ট আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্য বিচারপতিদেরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের অধিকাংশ বিচারপতিকে একজন করে পুলিশ দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক নম্বর বিচার কৰে পৌনে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পরপর সাধারণ আইনজীবী ও উৎসুক জনতা এ রায় কার্যকর করার জন্য আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল শুরম্ন করে। মিছিল শুরম্নর পর বাইরের লোকজন যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য হাইকোর্টের প্রধান ফটক দুইটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
দীর্ঘ সময় বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদেছে
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ৩৪ বছর পর শেষ হলো মামলার বিচার কাজ। কিন্তু ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, বিচারপতিদের বিব্রতবোধ ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির অভাবে দীর্ঘ সময় বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদেছে। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বঙ্গবন্ধুর রিসিপশনিস্ট-কাম-রেসিডেন্ট পিএ আফম মুহিতুল ইসলাম বাদি হয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে সংঘটিত জঘন্য ও বর্বর ঘটনায় ২৩ জনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর এই মামলা দায়ের করা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় জাতীয় সংসদে। এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল ১৫ আগস্টের ঘটনা সম্পর্কে যাতে আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত না হয়। পরে দীর্ঘ তদনৱ শেষে চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদনৱকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাহহার আকন্দ। দণ্ডবিধির ১২০-বি/৩০২/১৪৯/৩২৪/৩৪/৩০৭/ ২০১/৩৮০/১০৯ ধারা মোতাবেক এই চার্জশীট দাখিল করা হয়। এরপর ঢাকার বেগম বাজার ও নাজিমউদ্দিন রোডের মাঝখানে অবস্থিত সাবেক কারারৰী ব্যারাকে শুরম্ন হয় এই নৃশংস ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার কাজ।
নিম্ন আদালতের রায়
দীর্ঘ ১৫১ কার্যদিবসে ৬১ জনের সাৰ্য গ্রহণ শেষে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ গোলাম রসুল ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ১৫ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় প্রদান করেন। ৫ জনকে খালাস দেন। রায়ে আসামিদের প্রকাশ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হত্যার কথা বলা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল (বরখাসৱ) সৈয়দ ফারম্নক রহমান, লে. কর্নেল (অব:) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, লে. কর্নেল (অব:) মহিউদ্দিন আহম্মেদ (আর্টিলারী), মেজর (অব:) একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার), মেজর (অবঃ) বজলুল হুদা, লে.কর্নেল (অব.) এসএইচ- এমবি নূর চৌধুরী, লে.কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম, লে.কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ, লে.কর্নেল (অব.) এম এ রাশেদ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদ, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, লে. কর্নেল (অব:) মো: আজিজ পাশা, মেজর (অব.) আহমেদ শরীফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব:) মো: কিসমত হাশেম ও ক্যাপ্টেন (অব:) নাজমুল হোসেন আনসার। তবে বিচারিক আদালত অনারারী ক্যাপ্টেন আব্দুল ওয়াহহাব জোয়াদ্দার, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, মিসেস জোবাইদা রশীদ, দফাদার মারফত আলী শাহ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে মোসলেমউদ্দিন খান ওরফে রফিকুল ইসলাম খানকে খালাস প্রদান করেন।
এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৬ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নিম্ন আদালতের রায়সহ নথি হাইকোর্টে প্রেরণ করা হয়। একই সঙ্গে এ রায়ের বিরম্নদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন । আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণে হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক বিচারপতি বিব্রতবোধ করেন।
হাইকোর্টের রায়
পরে বিচারপতি মোঃ রম্নহুল আমিন ও বিচারপতি এ বি এম খায়রম্নল হককে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্সের ওপর ২০০০ সালের ২৮ জুন শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানি গ্রহণ শেষে হাইকোর্ট দ্বিধাবিভক্ত রায় প্রদান করেন। দ্বিধাবিভক্ত বেঞ্চের প্রথম বিচারপতি মো: রম্নহুল আমিন ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে খালাস দেন। এছাড়া বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারপতি এবিএম খায়রম্নল হক ১৫ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। দ্বিধাবিভক্ত রায়ে দুইজন বিচারপতি ৯ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন। ৬ জনের ব্যাপারে তারা ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেননি। এরপর হাইকোর্টের তৃতীয় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ৬ জনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন। তিনি তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান এবং ৩ জনকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। তৃতীয় বিচারপতি নিম্ন আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) আহমেদ শরীফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব.) হাশেম কিসমত ও ক্যাপেন্ট (অব.) নাজমুল হোসেন আনসারের বিরম্নদ্ধে দেয়া ফাঁসির আদেশ বাতিল করেন। এরপর কারাবন্দী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি ২০০১ সালের ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের সংশিস্নষ্ট শাখায় হাইকোর্টের রায়ের বিরম্নদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির অভাবে দীর্ঘ ৬ বছর লিভ টু আপিলের শুনানি বন্ধ ছিল।
লিভ টু আপিল মঞ্জুর
এরপর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ১৮ জুন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব:) একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদকে (ল্যান্সার) দেশে ফিরিয়ে আনেন। কারাগার থেকে গত ২৪ জুন তিনি হাইকোর্টের রায়ের বিরম্নদ্ধে আপিল করেন। পরবর্তীকালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ আগস্ট আপিল বিভাগের বিশেষ বেঞ্চে আসামিদের দায়ের করা লিভ টু আপিলের শুনানি শুরম্ন হয়। ২৬ কার্যদিবসব্যাপী শুনানি শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এম তাফাজ্জল ইসলাম, বিচারপতি মোঃ জয়নুল আবেদীন ও বিচারপতি মোঃ হাসান আমীন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরম্নদ্ধে আসামিদের দায়ের করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ। পাঁচটি যুক্তি বিবেচনার জন্য মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে বিশেষ বেঞ্চ।
যুক্তিগুলো হচ্ছেঃ ১. বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ‘সেনা বিদ্রোহ’ না ‘হত্যাকাণ্ড’। ২. এই মামলায় সাৰীদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী কিনা। ৩. মামলা দায়ের বিলম্ব স্বাভাবিক বলে নিম্ন আদালতের পর্যবেৰণ যথার্থ কিনা। ৪. হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের আওতায় পড়ে কিনা । ৫. হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় নিষ্পত্তিতে তৃতীয় বিচারক পুরো রায় বিবেচনা করার পরিবর্তে ৬ জনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে ভুল করেছেন কিনা।
নিয়মিত আপিলের শুনানি
এরপর সর্বোচ্চ আদালতের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে অর্থাৎ একই বছরের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তারা সুপ্রিম কোর্টের সংশিস্নষ্ট শাখায় নিয়মিত আপিল করেন। ঐ সময় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি থাকার পরও সরকার এবং আসামিপৰ উদ্যোগ গ্রহণ না করায় আপিল শুনানি শুরম্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০০৮ সালের মে মাসে আপিল বিভাগের বিচারপতি মোঃ হাসান আমীন অবসরে যান। ফলে পুনরায় বেঞ্চ পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির অভাব দেখা দেয়। নিয়ম অনুযায়ী আপিল বিভাগের তিনজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কোন মামলার আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের প্রচলিত বিধান অনুযায়ী কোন মামলা হাইকোর্ট বিভাগে শুনানির পর সেই বিচারপতি আপিল বিভাগে নিয়োগ পেলে তিনি আপিল বিভাগে উক্ত মামলা শুনানি করতে পারবেন না। কিনৱু মহাজোট সরকার ৰমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর আপিল বিভাগে মোট ৪ জন বিচারপতি নিয়োগ দেয়ায় বিচারকের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১১তে। ফলে কেটে যায় বিচারক সংকটের জটিলতা। এরপর গত ৪ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি এমএম রম্নহুল আমিন আপিল বিভাগের বিচারপতি এম তাফাজ্জল ইসলাম, বিচারপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, বিচারপতি বি কে দাস, বিচারপতি মো: মোজাম্মেল হোসেন ও বিচারপতি এসকে সিনহার সমন্বয়ে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন আপিল শুনানির জন্য। গত ৫ অক্টোবর ওই বেঞ্চে এই হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি ৫ আসামি অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল (বরখাসৱ) সৈয়দ ফারম্নক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মহিউদ্দিন আহম্মেদ (আর্টিলারী), একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার) ও মেজর (অবঃ) বজলুল হুদার আপিল শুনানি গ্রহণ করেন। ২৯ কার্যদিবসব্যাপী শুনানি গ্রহণ করে আদালত। শুনানিতে এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম, রাষ্ট্রপৰের প্রধান কৌঁসুলি এডভোকেট আনিসুল হক, অন্যতম কৌঁসুলি ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরম্ন, এডভোকেট তৌফিক নেওয়াজ ও এডভোকেট এএফএম মেসবাহউদ্দিন বক্তব্য পেশ করেন। এছাড়া আসামি সৈয়দ ফারম্নক রহমান ও একে মহিউদ্দিন আহম্মেদের (আর্টিলারী) পৰে এডভোকেট খান সাইফুর রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানের পৰে এডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান এবং একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার) ও মেজর (অবঃ) বজলুল হুদার পৰে ব্যারিস্টার আব্দুলস্নাহ আল মামুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
রাষ্ট্রপৰের আইনজীবী প্যানেল
রাষ্ট্রপৰে মামলা পরিচালনার জন্য প্রধান কৌঁসুলি আনিসুল হকের নেতৃত্বে একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন মোশাররফ হোসেন কাজল, তৌফিকা করীম, মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, এনামুল করীম ইমন ও ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আসিফ। এছাড়া তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, নূরম্নল ইসলাম সুজন, শ ম রেজাউল করিম, শেখ ফজলে নূর তাপস, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, আবু জাফর সিদ্দিকী, রবিউল আলম বদুকে নিয়োগ দেয় সরকার। এছাড়া এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলমের নেতৃত্বে রাষ্ট্রের একাধিক আইন কর্মকর্তা মামলা পরিচালনা প্যানেলে ছিলেন।
’৯৮-এ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশের মাটিতেই হত্যার প্রসৱাব দেয় ইসরায়েলি ভাড়াটে সেনা ১১ বছর পর মুখ খুললেন রাষ্ট্রদূত ওয়ালি উর রহমান
জেলহত্যার রাতেই বিশেষ বিমানে ব্যাংককে নেয়া হয় ঘাতকদের
শাহজাহান আকন্দ শুভ ও বিপস্নব বিশ্বাস:
১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় ৪ নেতাকে নির্মমভাবে হত্যার পরই বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের পাকিসৱান থেকে আসা একটি বিশেষ বিমানে রেঙ্গুন হয়ে ব্যাংককে নেয়া হয়েছিল। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর বিদেশ পলাতক খুনিদের বিদেশের মাটিতেই হত্যা করতে ’৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকারকে ইসরায়েলি ভাড়াটে সেনা (মার্সেনারি) প্রসৱাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রসৱাবে রাজি হননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেসময় খুনিদের দেশে ফেরত আনতে একটি টাস্কফোর্স গঠিত হয়। সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত ওয়ালি উর রহমান ছিলেন ওই টাস্কফোর্সের প্রধান সমন্বয়ক। ঘটনার ১১ বছর পর গতকাল ওয়ালি উর রহমান বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফেরত আনতে ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি ইতালি যায়। ইতালির রোমে অবস্থানকালেই ইসরায়েলি ভাড়াটে সেনা (মার্সেনারি) কর্নেল জ্যাক আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পৃথিবীর যে দেশেই পালিয়ে থাকুক আমরা তাদের হত্যা করব। কিন্তু তার বিনিময়ে আমাদের মোটা অংকের ডলার দিতে হবে। আমি ঘটনাটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করার পর তিনি সরাসরি এ প্রসৱাব নাকচ করে দেন। শেখ হাসিনা তখন আমাকে বলেছিলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হত্যা নয়। আমরা চাই খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে।’ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ’৯৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডিজিএফআই, এনএসআই ও সিআইডির সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছিল। এই টাস্কফোর্সের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন ওয়ালি উর রহমান। সেসময় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে আনতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চষে বেড়ায় টাস্কফোর্সের সদস্যরা। এসময় ওয়ালি উর রহমানসহ টাস্কফোর্সের অন্য সদস্যদের অসংখ্যবার হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। ওয়ালি উর রহমান বলেন, ‘লিবিয়াতেই ছিল বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রধান ঘাঁটি। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলহত্যার রাতেই পাকিসৱান থেকে আসা একটি ফকার বিমানে খুনিরা স্বপরিবারে রেঙ্গুন হয়ে ব্যাংকক যান। খুনিদের অনেকেরই পাসপোর্ট না থাকায় বাংলাদেশ সরকারের একজন সরকারি কর্মকর্তাকে দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে ৪ দিনের মাথায় লিবিয়াতে পাঠায়। পরে সেখান থেকে খুনিরা পাকিসৱান, সৌদি আরব, বেইজিং, কেনিয়া, হংকংসহ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসে চাকরি শুরু করে।’ ১৯৯৭ সালের শুরুতে খুনিদের খোঁজে আফ্রিকার কেনিয়া ও জিম্বাবুইয়ে সফরে যান ওয়ালি উর রহমান ও এনএসআইয়ের তৎকালীন ডিজি কাজী মশিউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর খুনি শরিফুল হক ডালিম তখন কেনিয়াতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ওয়ালি উর রহমান ও মশিউর রহমান নাইরোবিতে বাংলাদেশের তৎকালীন হাইকমিশনার আফছারুল কাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সেসময় কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট ডেনিয়েল আরাপ মুইয়ের সঙ্গে দেখা করেন। ডালিমকে প্রথমে বাংলাদেশে হসৱানৱরের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা থেকে সরে আসেন মুই। ওয়ালি উর রহমান বলেন, ডালিম তখন কেনিয়ায় মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা খুলে বসেছে। ডালিম তার ব্যবসা থেকে প্রতিমাসে প্রেসিডেন্টের অফিসে অর্থ দিত।’ টাস্কফোর্সের দুই সদস্য নাইরোবি থেকে পরে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি আজিজ পাশার খোঁজে হারারেতে যান। চাকরিবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আজিজ পাশা তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকরি থেকে বরখাসৱ হন। পরে জিম্বাবুয়েতে ব্যবসা শুরু করেন। ওয়ালি উর রহমান বলেন, ‘সেখানে শুরুতেই দেখা দেয় বিপত্তি। প্রেসিডেন্ট মুগাবের সঙ্গে দেখা করতে ঘুষ দাবি করেন তার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর মেয়ে ও তার সেক্রেটারি। শেষ পর্যনৱ এক হাজার ডলার ঘুষ দিয়ে তারা দেখা করেন রবার্ট মুগাবের সঙ্গে। মুইয়ের মতোই প্রথমে মুগাবে খুনি আজিজ পাশাকে ফেরত দিতে রাজি হলেও পরে তা থেকে সরে আসেন। পরে পলাতক অবস্থায় ২০০১ সালে জিম্বাবুইয়েতেই মারা যান আজিজ পাশা। ওয়ালি উর রহমান আরো বলেন, ‘কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ে মিশন থেকে আমরা খুনি আব্দুর রশিদের খোঁজে লিবিয়া যাওয়ারও সিদ্ধানৱ নেই। বিষয়টি টের পেয়ে লিবিয়া সরকার আমাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তখন আমি লিবিয়ার পার্লামেন্টের তৎকালীন স্পিকার এবং পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুর রহমান আল শালগামের সহায়তা চাই। তিনি জনাব রহমানকে মাল্টা হয়ে স্টিমারে করে লিবিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। ইতোমধ্যেই খুনী রশিদ লিবীয় নেতা গাদ্দাফির গোয়েন্দা প্রধান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবু সালেমের সঙ্গে বেনগাজিতে একটি কনস্ট্রাকশন ফার্মের ব্যবসা শুরু করেছেন। ততদিনে লিবিয়ার প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন রশিদ। মাল্টা থেকে আমাদের লিবিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি টের পেয়ে রাতের অন্ধকারে ভাড়া করা খুনি নিয়ে রশিদ হাজির হয় মাল্টায়। খুনিরা আমাকে এবং মশিউর রহমানকে তাড়া করে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে তখন মাল্টা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার হোটেল থেকে আমাদের উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে নিয়ে যায়। পরের দিন বিকেলে বিমানে আমরা ইতালি চলে যাই।’
শেষ হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর
শেষ হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর
খোন্দকার মুহম্মদ খালেদ ।।
পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট। দু’ হাজার নয় সালের উনিশে নভেম্বর। দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর তিন মাস চার দিনের ব্যবধান। এই তিন দশকের প্রায় পুরো সময়টাই ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্য এক বিশাল প্রতীৰার প্রহর। অবসান হল তাঁর সেই দীর্ঘ প্রতীৰার। এই প্রতীৰা যে কত দুঃসহ, কত বেদনাসংকুল, তা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ছোট্ট একটি পংক্তিতেই দৃশ্যমান-‘সময় ছুটে আসি, মনে বাসি ভয়- এসে দেখি যায় নাই তোমার সময়।’
আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই কঠিন দুঃসহ সময়ের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় পার করলেন। এই সময়টা যে কি যন্ত্রণাময়, বেদনাকাতর ও সংগ্রামমুখর ছিল, তা তাঁর এই সুদীর্ঘকালের যাত্রা পরিক্রমা থেকেই দেদীপ্যমান। পঁচাত্তরের ১৪ আগস্ট রাতে শেখ হাসিনা ছিলেন ব্রাসেলসে তদানীনৱন রাষ্ট্রদূত সানাউল হকের বাস ভবনে। এর আগে তিনি মূলতঃ শিশুপুত্র জয়ের তার বাবার কাছে যাবার জেদের কাছে নতি স্বীকার করেই বোন রেহানাকে নিয়ে পশ্চিম জার্মানীর ফ্রাংকফুর্টে যান ৩০ জুলাই। ফ্রাংফুর্ট থেকে সোজা ড. ওয়াজেদ মিয়ার কার্লসরম্নয়ে শহরের বাসা। ৯ আগস্ট সে সময়কার পশ্চিম জার্মানীর রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর আমন্ত্রণে তিনি বনে যান। এরপর বেলজিয়ামের রাষ্ট্রদূত সানাউল হকের আতিথ্যে ব্রাসেলস, আমস্টারডামসহ কয়েকটি জায়গায় ঘোরাফেরা করেন। ১৪ আগস্ট রাতে তিনি বোন রেহানাসহ সপরিবারে সানাউল হকের ব্রাসেলসের বাসায়ই কাটান। ব্রাসেলসে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর সাদতের বাসায় ঐ রাতে তিনি নৈশভোজ সারেন। জাহাঙ্গীর সাদতের স্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনার সহপাঠিনী। কাজেই রাত বেশ ভালই কাটলো। তখনো কি তিনি জানতেন, পরদিন কী ভীষণ সংবাদ তাঁর জন্য অপেৰা করছে?
১৫ আগস্ট তাদের প্যারিস যাবার কথা। প্যারিস স্বপ্নের শহর। সৌন্দর্যের শহর। মোনালিসার শহর, ল্যুভর মিউজিয়ামের শহর তথা বিশ্বের কালোত্তীর্ণ শিল্প ও স্থাপত্য শিল্পের তীর্থ শহর। ওখানে গিয়ে কত মধুর সময় কাটানোর স্বপ্ন ছিল ওদের। কিন্তু ১৫ আগস্ট ভোরে খান খান হয়ে গেল সব স্বপ্ন। একটি টেলিফোনই ওলোট-পালট করে দিল সবকিছু। কূটনীতিক বন্ধুদের সূত্রে জানা যায়, বিপদের এই চরম মুহূর্তে সে সময়ে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, বন দূতাবাসের তারেক করিম, ব্রাসেলস দূতাবাসের জাহাঙ্গীর সাদত তাদের কূটনৈতিক প্রোটোকল ভুলে গিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টানৱ রেখেছিলেন। অন্যদিকে কোন কোন কূটনীতিকের আগের দিনের রূপ ভুলে গিয়ে পরের দিনেই চোখ উল্টিয়ে নেয়ার চিত্রও নাকি দৃশ্যমান ছিল। যা হোক, এরপর বন, নয়াদিলস্নী। শুরম্ন হল শেখ হাসিনার দীর্ঘ যাত্রা, প্রতীৰা আর পরবাসের পালা।
১৯৮১ সালের ১৭ মে ঢাকা ফেরার চূড়ানৱ সিদ্ধানৱ গ্রহণের আগ পর্যনৱ শেখ হাসিনা সমসৱ শোককে ধীরে ধীরে শক্তিতে পরিণত করেছেন। তিনি জানতেন, সামনে তাঁর কঠিন দিন। তিনি নিজেকে নিয়ে ভাবেননি কখনো। তাঁর আপাদমসৱক চিনৱা ছিল জাতিকে নিয়ে। কিভাবে এ দুর্ভাগা জাতিকে সেনা শাসনের জগদ্দল পাথর থেকে মুক্ত করা যায়। তিনি জানতেন, সংগঠন ছাড়া কোন স্বপ্নই বাসৱবে রূপ দেয়া সম্ভব নয়। তাই সব সংশয় ঝেড়ে ফেলে স্থিরচিত্তে দলের কাণ্ডারী হওয়ার শক্ত সিদ্ধানৱও নিলেন এক পর্যায়ে। যদিও তিনি জানতেন-‘দুর্গম গিরি কানৱার মরম্ন, দুসৱর পারাবার, লংঘিতে হবে রাত্রি নিশিথে যাত্রীরা হুঁশিয়ার।’
দেশে ফিরে নতুন করে শুরম্ন করলেন তিনি তাঁর নবঅধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন। ১৯৮১-র ৩০ মে চট্টগ্রামে বিদ্রোহী সেনা সদস্যের আক্রমণে নিহত হলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এলেন আরেক সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনি সেনা প্রধান থেকেই রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করলেন।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সংগ্রামী জীবনের আরেক অধ্যায় শুরম্ন হল। শুরম্ন হলো এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। ১৯৯০ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর এরশাদ সাহেব পদত্যাগ করেন প্রবল রাজনৈতিক গণআন্দোলনের মুখে। এরই ফলশ্রম্নতিতে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রম্নয়ারি একটি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ৰমতায় আসে। পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচনের মাধ্যমে ৰমতায় আসে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে।
বঙ্গবন্ধুকে যারা প্রত্যৰ ও পরোৰভাবে হত্যা করেছে, তারা তো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে না। তাই ৯১-৯৫ শাসনামলে কেউ এ হত্যাকাণ্ডের বিচার আশা করেনি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ২০শে আগস্ট তদানীনৱন রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক একটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কোন প্রকার বিচারের পথও রম্নদ্ধ করে যান। ইতিহাসের ঘৃণীত ও কালো এ অধ্যাদেশটির নাম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ সাল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথে এটি ছিল প্রথম বাধা।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ৰমতায় এসেই উদ্যোগ নেন ইতিহাসের জঘন্যতম কালো আইন বাতিলের। সংসদ অধিবেশনে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায় তিনি এ অধ্যাদেশটি বাতিলে সৰম হন। এটি ছিল তার স্থির লৰ্য অর্জনের পথে একটি প্রথম সাফল্য। তিনি স্বচ্ছতা ও সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার বিশেষ ট্রাইবুনালের পরিবর্তে সাধারণ আইনে করার ব্যবস্থা করেন। তিনি ভাল করেই জানতেন, এ সিদ্ধানৱ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নিজ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, দৃঢ়চিত্ততা, ধৈর্য আর প্রজ্ঞাই তাঁকে সেদিন এ সিদ্ধানৱ নিতে সাহায্য করেছিল। তবে এ পথ কুসুমাসৱীর্ণ ছিল না মোটেই।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি আবার ৰমতায় আসে। পুরো পাঁচটি বছর ফের অপেৰার প্রহর গুনতে হয় শেখ হাসিনাকে। বিএনপি শাসনামল গেল। কিন্তু অগণতান্ত্রিক শাসন আবার চেপে বসলো। দু’টো বছর আরো নষ্ট করলো সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অবশেষে দৃশ্যতঃ কৃষ্ণ পৰের অবসান হল। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে আবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার দায়িত্বে এলো।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজে এতদিনের যত বাধা আর স্থবিরতা তার সবটাই দূর হলো। বিচার তার আপন গতিতে চললো। বিচারের রায় হল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড মামলায় সুপ্রীম কোর্টের আজকের এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে শেষ হল শেখ হাসিনার দীর্ঘ প্রতীৰার প্রহর। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকদের এই রায়ের দ্বারা দেশে আইনের শাসন কায়েমের একটি আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার দেয়ালই শুধু অপসারিত হল না, অনৱতঃ একটি ৰেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, প্রশাসনিক প্রজ্ঞা, লৰ্যের প্রতি অবিচল আস্থা ও দৃঢ়তা, মানবিক সহনশীলতা ও ধৈর্যের যে পরাকাষ্ঠা দেখালেন তা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে আরো সমৃদ্ধ হয়ে দেশের সার্বিক কল্যাণে বৃহত্তর অবদান রাখুক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা এই দিনে।
শান্ত থাকুন: হাসিনা
শান্ত থাকুন: হাসিনা
ঢাকা, নভেম্বর ১৯ বঙ্গবন্ধু মামলার আপিলের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ইতালি সফর সংক্ষিপ্ত করে রায়ের আড়াই ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরেন তিনি। রায়ের সময় ছিলেন সরকারি বাসভবন যমুনায়। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতাও ছিলেন দলীয় প্রধান হাসিনার সঙ্গে। রায়ের পর প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব নকিবউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরতেও বলেছেন। উপ প্রেসসিচব বলেন, প্রত্যাশিত রায় হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শোকরানা নামাজ পড়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কারাবন্দি পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করেছে আপিল বিভাগ। আদালত ১২ আসামির সবার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। যমুনায় ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, রায়ের খবর শুনেই দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল সদস্য ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হানা দিয়ে বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স�জনসহ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশ থাকায় সেদিন বেঁচে যান। বিদেশে অবস্থানরত রেহানা রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এর মধ্য দিয়ে ন্যায় ও সত্যের জয় হয়েছে। ন্যায় ও সত্যের জয়: রেহানা
ঢাকা, নভেম্বর ১৯ ন্যায় ও সত্যের জয় হয়েছে- বঙ্গবন্ধু মামলার আপিলের রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথাই বলেছেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা। বাবা-মাসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে হারানোর ব্যাপারে অনেক বছর পর প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানালেন। বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু মামলার আপিলের রায় ঘোষণা করে আপিল বিভাগ। আদালত ১২ আসামির সবার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিদেশে অবস্থানরত শেখ রেহানা টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এই মামলার রায় উচ্চ আদালতেও যে পুনঃস্বীকৃত হয়েছে এটাই বড়কথা। দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পর হলেও যে বিচারকার্য শেষ হয়েছে,,,; সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে,,,। "অন্যায় ও অপরাধ করলে তার যে বিচার ও শাস্তি আছে এবং হতে পারে, এটাই চিরন্তন সত্য। এখানে ন্যায় ও সত্যের জয় হয়েছে।" ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল সদস্য ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হানা দিয়ে বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স�জনসহ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশ থাকায় সেদিন বেঁচে যান। রেহানা বলেন, "সেদিন শাহাদাতবরণকারী সকলের আত্মার শান্তি কামনা করি। সেই নৃশংস ঘটনাবহুল হত্যার কালিমা মোচন হোক। এমন রক্তাক্ত স্মৃতির যন্ত্রণা ও শোক কাউকে যেন আর বইতে না হয়, এই প্রত্যাশা করি। দেশে শান্তি বজায় থাকুক। আমি সবার মঙ্গল কামনা করি।" জাতি কলঙ্কমুক্ত হলো: আওয়ামী লীগ
Justice order of the day
Justice order of the day
Justice order of the day
ভোর রাতে মুহুর্মুহু গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়
ঢাকা, নভেম্বর ১৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দণ্ড কমানোর জন্য আসামি পক্ষ এমন কোনো যুক্তি আদালতে তুলে ধরতে পারেনি, তাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘাতকের নির্মম বুলেটে প্রাণ হারান তার সহধর্মিনী ও রাজনীতির নেপথ্য প্রেরণাদাতা শেখ ফজিলাতুন্ন
১৫ আগস্ট আরও নিহত হন যারা
ইতিহাসের নৃশংসতম নারী ও শিশুহত্যা কী অপরাধ ছিল তাদের!
Wednesday, November 18, 2009
'একদিন গুলি একটা আমার বুকে লাগবে আর একটা বঙ্গবন্ধুর'
বঙ্গবন্ধু মামলার হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়
সেদিন যা ঘটেছিল
Monday, November 16, 2009
’বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা’ শীর্ষক সমেমলনে শেখ হাসিনা সবার খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেন
বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা’ শীর্ষক সমেমলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
